◾ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান পাঁচ বছর নির্বাচন করতে পারবেন না। বাতিল করা হয়েছে তার জাতীয় পরিষদের সদস্যপদ। অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্রহণ ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) শুক্রবার (২১ অক্টোবর) এ রায় দিয়েছে। রায়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পিটিআই।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, রায়ে বলা হয়েছে—ইমরান খান নির্বাচন কমিশনের কাছে যে হলফনামা দিয়েছেন, তাতে রাষ্ট্রীয় উপহার আমানত বিভাগ বা তোষাখানা থেকে বিভিন্ন জিনিস নেওয়া নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। পেনাল কোডের আর্টিকেল ৬৩-এর ১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এটা অপরাধ। এটা দুর্নীতি। এসব অসৎ আচরণের জন্য তার বিরুদ্ধে এখন ফৌজদারি মামলার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রায়ের পর পিটিআইয়ের নেতা ফাওয়াদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের রায় অত্যন্ত বিব্রতকর। এটা পাকিস্তানের জনগণের মুখে একটা চপেটাঘাত। এটা সংবিধানের ওপর ন্যক্কারজনক আক্রমণ। আমরা এ রায়কে চ্যালেঞ্জ জানাই। ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’
ইমরান খানের আইনজীবী গওহর খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ইসিপি ইমরান খানকে দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে রায় দিয়েছেন। ফলে তিনি পাঁচ বছর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’
ইসিপির পাঁচ সদস্যের একটি বেঞ্চ এ রায় দেন। কিন্তু পাঁচ সদস্যের মধ্যে পাঞ্জাবের সদস্য বাবর হাসান ভারওয়ানা শারীরিক অসুস্থতার কারণে গতকাল ইসিপি কার্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
রায় ঘোষণার আগে ইসলামাবাদের ইসিপির প্রধান কার্যালয় এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সেখানে অন্তত ১ হাজার ১০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পাঁচজন সুপারিনটেনডেন্ট ও ছয়জন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট এসব পুলিশের নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন।
তোষাখানা কেলেঙ্কারি : কোনো দেশ বা দেশের কর্মকর্তারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যকে কোনো উপহার দিলে বা পাকিস্তান রাষ্ট্রকে কোনো কিছু উপহার দিলে তা তোষাখানা বা রাষ্ট্রীয় উপহার আমানত বিভাগে জমা হয়। এখান থেকে তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়।
গত আগস্টে পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজের (পিএমএল-এন) সদস্য আলি গওহর খানসহ মোট সাত ব্যক্তি ইসিপির কাছে অভিযোগ করেন, বিদেশি উপহার থেকে অন্যায়ভাবে অন্তত ৫২টি আইটেম গ্রহণ করেছেন ইমরান খান। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি যে হলফনামা দিয়েছেন, তাতে তিনি তা উল্লেখ করেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি যেসব সরকারি উপহার গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ১৪ কোটি পাকিস্তানি রুপির বেশি। ৫৮টি বাক্সে করে নেওয়া ৫২টি পদের মধ্যে মূল্যবান কিছু হাতঘড়িও রয়েছে। এগুলোর কয়েকটি দিয়েছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ বিন সালমান। ইমরান খান এসব উপহারের কিছু পদ বাজারে সস্তায় বিক্রি করে দিয়েছেন।
কয়েক দফা শুনানির পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষ হয়। এরপর চূড়ান্ত রায় ঘোষণার জন্য সময় নেন ইসিপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজার নেতৃত্বে ইসিপির পাঁচ সদস্য স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে এ গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন।
ইমরান খানের এক আইনজীবী পাঁচ বছরের নিষিদ্ধের কথা বললেও রায়ে সরাসরি তেমন কিছু উল্লেখ নেই। শুনানিকালে বাদীপক্ষের দাবি ছিল, ইমরান খানকে রাজনীতি থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হোক।
১ দিন ৪ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
১ দিন ২২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
২ দিন ১৬ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৬ দিন ৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৭ দিন ১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৭ দিন ১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৭ দিন ১ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে