নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে : শিক্ষামন্ত্রী অনলাইন জুয়া এখন ফৌজদারি অপরাধ: অর্থমন্ত্রী সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের ‘বিকৃত করে প্রচার করার অভিযোগ। শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বর্জ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পদযাত্রা শ্যামনগরের দ্বীপ ইউপি গাবুরায় উন্মুক্ত বাজেট সভা নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের ফল উৎসব টিকটকে ছড়াল স্কুলছাত্রকে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল ‎মোংলায় উপকূলীয় মানুষের দোরগোড়ায় কোস্ট গার্ডের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ লালপুরে পাটের আবাদ বেড়েছে, ভালো ফলনের আশা লালপুরে দশহারা গঙ্গা স্নান অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে মাথা ন্যাড়া করে প্রশাসনে হস্তক্ষেপ। নরসিংদীতে ওয়ালটন প্লাজার উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে বন বিভাগের অভিযানে অবৈধ বালুবাহী ছয় মহেন্দ্র ট্রাক জব্দ সানন্দবাড়ীতে ওয়ালটন প্লাজার উদ্যোগে গ্রাহক সুরক্ষা ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা ঝিনাইগাতীতে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ দিনাজপুরে বিএসএফ কর্তৃক পুশব্যাক: ৪ বাংলাদেশী আটক যৌতুকের জন্য স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ: ৪বছরের সন্তানসহ ঘর ছাড়া স্ত্রী গোয়ালন্দে ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ নাগেশ্বরীতে মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে মূল্যায়ন ও সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত

যখন জাকাত প্রদান করলে দিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়!

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 25-03-2024 03:46:11 am

পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন মানুষকে দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা ও মহত্তে¡র শিক্ষা দেয়। কোনো প্রকার অপচয় না করে রোজার মাসে মানুষের সেবায় দান-সদকা করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয় এবং মানবতা উপকৃত হয়।


আর এ মাসে দান করলে অধিক সওয়াব পাওয়া যায় তাই রমজানে জাকাত ও দানের ওপর মানুষ বেশি গুরুত্ব দেয়। রমজানে বাড়তি দানের ফজিলত ও তাৎপর্য-রমজান মাসে দান করলে ৭০ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।


প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবকুলের মধ্যে সর্বাধিক উদার ও দানশীল ছিলেন। রমজান মাসে যখন হজরত জিবরাইল (আ.) নিয়মিত আসতে শুরু করতেন, তখন তাঁর দানশীলতা বহুগুণ বেড়ে যেত। (বুখারি)


হজরত আনাস (রা.) বলেছেন, ‘আমি নবি করিম (সা.)-এর চেয়ে কাউকে অধিকতর দয়ালু দেখিনি।’ (মুসলিম) হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে, ‘আল­াহ পাক বলেছেন, হে আদম সন্তান! তুমি দান করতে থাক, আমিও তোমাকে দান করব।’ (বুখারি ও মুসলিম) মাহে রমজানে দানের ফজিলত অনেক বেশি। অন্য ১১ মাসের তুলনায় এ মাসে অধিক দান-সদকা করা উচিত।


রাসূলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতদের বাস্তব শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে রমজান মাসে দান-দক্ষিণা ও বদান্যতার হাত বেশি করে প্রসারিত করতেন। 

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন কৃপণ আবেদের চেয়ে একজন মূর্খ দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।’ আর যে ব্যক্তি রমজান মাসে দান-সদকা করে সে সাধারণ সময়ের দানের চেয়ে বহুগুণ বেশি সওয়াব পাবে।


হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রমজান মাসে এক দিরহাম দান-খয়রাতের বিনিময়ে সহস্র দিরহামের পুণ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।’ মাহে রমজানকে সহানুভ‚তির মাস বলা হয়েছে। এ মাস সমাজের গরিব-দুস্থদের প্রতি অর্থ দ্বারা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। প্রতিটি রোজাদার রোজা রাখার মাধ্যমে খাদ্য-পানীয়র অভাবে গরিব-দুঃখী ও দরিদ্র-অসহায় লোকদের কষ্ট অনুভব করে থাকেন। এজন্য তাদের মধ্যে দানের প্রবণতা সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি রোজা পালনের সঙ্গে সঙ্গে সম্পদ গঠনে গরিব-দুঃখী, দুস্থ, অভাবী, এতিম, মিসকিন ও কপর্দকহীন পথচারীকে প্রয়োজনে অর্থ বণ্টন করে দেবেন। তারা ক্ষুধার্ত হলে প্রয়োজনে তাদের সেহরি-ইফতারের বন্দোবস্ত করবেন, এটা মাহে রমজানে দানশীলতা ও বদান্যতা প্রদর্শনের সুবর্ণ সুযোগ।


তাছাড়া সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জাকাত এমনিতেই ফরজ হয়। বছরের যে কোনো সময় নেসাব পূরণ সাপেক্ষে তা আদায় করা যায়। তবে রমজানের দিগুণ সওয়াব পেতে অনেকে রমজানেই তা আদায় করে থাকেন। এতে জাকাতও আদায় হয়, সওয়াবও বেশি হয়। তাই যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে, রমজানেই আমরা তা আদায়ে সচেষ্ট হব।


জাকাতের নিসাব হলো, সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা ৮৭ দশমিক ৪৫ গ্রাম বা সাড়ে ৫২ ভরি রৌপ্য বা ৬১২ দশমিক ১৫ গ্রাম (আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১ ভরি ১১ দশমিক ৬৬ গ্রাম বা ১ তোলা) বা সমমূল্যের নগদ টাকা, যে কোনো সময় ভাঙানো যায়, এমন বন্ড বা সঞ্চয়পত্র অথবা সমমূল্যের ব্যবসার পণ্য থাকলে জাকাত আদায় করতে হবে। অবশ্য এ পরিমাণ সম্পদ এক বছর স্থায়ী হতে হবে।

নেসাবের অধিকারী সবাই জাকাত আদায় করলে দেশের অর্থনীতি অন্যরকম হতে পারত; ধনী ও গরিবের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি হতো না।


পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় ধনী ও গরিব আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। তার অর্থ এই নয় যে, একজন সম্পদের পাহাড় গড়বে, আর অন্যজন খাবারের জন্য কুকুরের সঙ্গে লড়াই করবে। একজন গ্রামে ও শহরে প্রাসাদ নির্মাণ করার পর বিদেশের মাটিতে সেকেন্ড হোমের হিসাব মেলাবে, আর অন্যজন রাস্তার পাশে ঝুপড়িতে রাত কাটাবে। বরং পৃথিবীর সব মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য যা দরকার, আল্লাহ তা সৃষ্টি করেছেন।

সুষম বণ্টনের অভাবে ধনী ও গরিবের মধ্যে এমন বৈষম্য সৃষ্টি হয়। জাকাত এ বৈষম্য দূর করে সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।


লেখক : নিউইয়র্কের আস-সাফা ইসলামিক সেন্টারের সেক্রেটারি জেনারেল- খতিব ও ইউনাইটেড উলামা কাউন্সিল অব ইউএসএ ইনকের প্রেসিডেন্ট

আরও খবর