প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে রোববার শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচদিনের পূজা শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। সেই সঙ্গে আগামী বছর ‘মা’ আবারও এই মর্ত্যলোকে ফিরে আসবেন- এই আকুল প্রার্থনাও জানিয়েছেন তারা। বিজয়া দশমী দিনে প্রতিমা বিসর্জনের আগে সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় পূজা-অর্চনা। পূজা সমাপনান্তে বিসর্জন প্রশস্তা ও শান্তির জল প্রদান করা হয়। পূজা শেষে দেওয়া হয় দর্পণ বিসর্জন। পরে বিকেলে দেবী দুর্গা ও অন্যান্য দেব-দেবীর বিসর্জন দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দেবী মর্ত্য ছেড়ে কৈলাশ ফিরে যান।
একই সঙ্গে চলে ভক্তদের পূজা অর্চনা। পরম ভক্তি নিয়ে নিজ নিজ মনের বাসনা জানিয়ে দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ান নারীরা। লাল রঙকে শক্তির প্রতীক হিসেবে মনে করে নারীরা একে অপরের মাথায় সিঁদুর ছোঁয়ান। দীর্ঘায়ু কামনা করেন পরিবারের সদস্যদের। সধবা নারীরা বিসর্জনের জন্য দেবীকে সাজান ফুল, সিঁদুর ও নানা অলঙ্কার দিয়ে। পুরোহিতরা দেবীর জন্য সাজান সেদ্ধ চালের নৈবেদ্য, কচু-ঘেচু আর শাপলা দিয়ে। এরপর শেষ মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যদিয়ে বিদায় জানানো হয় দেবীকে।
অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ-কল্যাণ ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরন্তর শান্তি-সম্প্রীতির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গত শনিবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজা শুরু হয়েছিল।
বিজয়া দশমীর পূজার পরপরই দুপুরের পর থেকে নগরীর প্রতিটি মণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমাগুলো বিসর্জনের জন্য নেয়া হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। এরপর সুশৃঙ্খলভাবে একে একে প্রতিমা নিরঞ্জন দেয়া হয়। পতেঙ্গা সৈকতে দেবীকে শেষবারের মতো দর্শনে লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয়। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী শরতে পৃথিবীতে আসেন তার পিত্রালয়ে। আর বিসর্জনের মাধ্যমে তিনি ফিরে যান কৈলাসে তার স্বামীর ঘরে।
বিসর্জন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য পতেঙ্গা সৈকতে কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এর পরও প্রতিমাবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে। র্যাব, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
চট্টগ্রাম পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায় এবার চট্টগ্রামে ২ হাজার ৪৫৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ২৯৩টি ও জেলার ১৫টি উপজেলায় পূজামণ্ডপ রয়েছে ২ হাজার ১৬৫টি।
৭ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে