দেশে ফিরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন ইত্যাদি এবার প্রকৃতি ও প্রত্নতত্ত্বের জেলা নরসিংদীতে- প্রচার ৫ জুন শুক্রবার শান্তিগঞ্জে শোকের ছায়া, কুরিয়ার ভ্যান কেড়ে নিল শিশুর জীবন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডে প্রথম হলেন পবিপ্রবির রত্না রানি শ্যামনগরের স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবককে স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকরণ বিতরণ ‎মায়ের লাশে অবহেলা: মোংলা পোর্টের পদ হারালেন বিতর্কিত যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান বেনাপোলে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি বহরে হামলা, আহত ৪ টিকিট কেটেও দেশে ফেরা হলো না প্রবাসী ফরহাদের ​নিউইয়র্কে ক্যান্সারের সঙ্গে এক বছর লড়ে নোয়াখালীর প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসায় ব্যয় ৩০ কোটি টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্তৃক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ও মুরগির বাচ্চা বিতরণ যশোর প্রেসক্লাবে সদস্যপদ নিয়ে চরম ক্ষোভ: ৭ দিনের আল্টিমেটাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ ঈদে গজনী ও মধুটিলায় পর্যটকদের ঢল, প্রকৃতির টানে মুখর গারো পাহাড়, জমজমাট দুই পর্যটন কেন্দ্র কয়রায় চলাচলের পথকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা অসহ্য গরম থেকে বাঁচতে যা করবেন রায়পুরে ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা শামীম গ্রেপ্তার কালিন্দী নদী পেরোতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুইজন সাতকানিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু জননেতা আসহাব উদ্দীন চৌধুরীর মমতাময়ী মায়ের মৃত্যুতে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর গভীর শোক প্রকাশ সাতক্ষীরার সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী আহত

মাদকের ভয়াল নেশায় আমাদের যুব সমাজ

সম্পাদকীয় ডেস্ক - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 17-12-2024 12:47:46 am


◾মো. রবিন ইসলাম : 'মাদকাসক্তি 'নামক এই ছোট অথচ ভয়ংকর শব্দটি বর্তমান বিশ্বে বিশেষ করে যুবসমাজের জন্য আরো ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।আদিকাল থেকেই মানুষ এই নেশার জালে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।মাদকদ্রব্য এমন একটি দ্রব্য,যা সেবন করলে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষে পরিণত হয়ে যেতে পারেন এবং তার স্থায়িত্ব যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ দ্রব্যের নেশা দেহের মধ্যে থাকে,ততক্ষণ পর্যন্ত থাকে।বিষ সেবন আর মাদক সেবন একই কথা।এ ধরনের দ্রব্য ব্যবহারের ফলে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রভাব ফেলে।তার জীবনে নেমে আসে দুর্দিন এবং নেমে আসে অন্ধকার। 


মাদকাসক্তি হচ্ছে মূলত বিভিন্ন নেশার দ্রব্যের প্রতি আসক্তি। নেশা ক্ষনিকের জন্য মনের যন্ত্রণা লাঘব করে,সকল বেদনা থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করে।এক বিশেষ আনন্দলোকে মনকে আবদ্ধ রাখে-মানুষের বাস্তব চেতনাকে অবলুপ্ত করে তাকে নিয়ে যায় স্বতন্ত্র জগতে এসব বিশ্বাস থেকেই মাদকাসক্তির বিকাশ।


মাদকাসক্তির ক্ষতিকর অনেক দিক রয়েছে।সাম্প্রতিক কালে মাদকাসক্তির প্রভাবে বহুলোকের বিশেষত যুবসমাজের ধ্বংস নেমে এসেছে,শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ অবক্ষয়ের। মাদকাসক্তি দেহের নানারকম ক্ষতি সাধন করে।ক্ষতির কাজটি সুক্ষভাবে চলে বলে এর প্রতিরোধ গড়ে তোলা মাদকাসক্ত ব্যক্তির পক্ষে কঠিন। মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে সারা দেহে অক্ষমতা বৃদ্ধি করে।মানসিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।বিভিন্ন চেতনা বিনষ্ট হয়,দেহের মাংসপেশির কম্পন ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।মাদকাসক্তির ফলে মেধা বিনষ্ট হয়,নেশায় রোগাক্রান্তহয়,নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের অবলুপ্তি ঘটে এবং স্বাভাবিক বেঁচে থাকার সামার্থ্য হারিয়ে যায়।কোন কাজ বা দায়িত্ব পালন মাদকাসক্তের পক্ষে সম্ভব নয়।ফলে মাদকাসক্তির পরিণাম হিসাবে ব্যক্তি জীবনে আসে ব্যর্থতা এবং জাতীয় জীবনে আসে সর্বনাশ। 


মাদকাসক্তির প্রভাব ব্যাপকভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।যা জাতির জন্য আতংকের কারণ হয়ে উঠেছে।যা জাতিকে সীমাহীন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।বিশেষ করে যুবসমাজ ক্রমেই নেশার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তার মুল কারন শিক্ষা জীবনের অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব, দরিদ্রতা।এসব কারণে তারা নেশায় অভস্ত্যত হয়ে শুধু নিজেরই ক্ষতি করছেনা জাতীয় জীবনে ভয়াবহ সর্বনাশ ডেকে আনছে।বিভিন্ন অন্যায় ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদক দ্রব্যের দাম বেশি হওয়ায় অবৈধ উপার্জনে তৎপর হচ্ছে। এতে করে সমাজ জীবনে সবসময় অঘটন ঘটেই চলছে।বাংলাদেশেও আশঙ্কাজনক হারে মাদক দ্রব্য ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের যুবসমাজ ব্যাপক ভাবে মাদকাসক্তির শিকার।বাংলাদেশে কি পরিমাণ মাদক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় এবং কত লোক মাদকাসক্ত তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান এখনও নেই।তবে ২০২১ সালের এক রিপোর্টে দেখা যায় ১৬-৪০ বছর বয়সীদের প্রায় ৮৪.২৭ শতাংশ মানুষ মাদকাসক্ত। 


বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য চালু রয়েছে। মদ,গাঁজা, ভাং,আফিম ইত্যাদি অনেক প্রাচীনকালের।বর্তমানে হোরোইন,মারিজুয়ানা,এলএসডি,হাসিস,কোকেন,প্যাথিড্রিন,ফেনসিডিল ইত্যাদি। এসব মাদক দ্রব্য বিভিন্ন ভাবে গ্রহন করা হয়।মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণাম থেকে বর্তমান সময়ে মানুষকে বাঁচাতে হলে এই ভয়াল ব্যাধির বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।যেহেতু তরুণরাই এ পথে সহজে পা বাড়ায়, সেজন্য তরুণ্যের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে তার সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে।বেকারত্বের অভিশাপ মানুষকে মাদকাসক্ত করে,তরুনদের কর্মসংস্থান করলে তারা কর্মময় জীবনযাপন করবে।শিক্ষার যথার্থ প্রসার ঘটাতে হবে যাতে নৈতিক ঙ্গান অর্জিত হবে।বাংলাদেশের ক্ষেতে সমস্যাটি গুরুতর।কারন দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থাকলে ও জনগন তার অস্তিত্ব টের পায়না।সবচেয়ে বড় কথা, মাদকাসক্তদের যেমন নিরাময়ে চিকিৎসা জরুরি, তার থেকে বেশি জরুরি হওয়া উচিত মাদক ব্যবসায়ীদের আইনানুগভাবে শাস্তি দেওয়া।যুবসমাজ কে ভয়ংকর মাদকাসক্তি থেকে ফিরাতে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ জুরুরি। 


লেখক : মো.রবিন ইসলাম

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ

ঢাকা কলেজ


আরও খবর