◾এস.এম মুকুল || সমস্যা মানুষের জীবনেরই অংশ। মানব জীবন সমস্যা-সঙ্কটের বাইরে নয়। জীবন যখন আছে সমস্যা তখন থাকাটাই স্বাভাবিক। তাইবলে সমস্যা এড়িয়ে বা পাশকাটিয়ে যাওয়া সমাধান নয়। সমস্যা মোকাবিলা করা উত্তম উপায়। তবে জীবনে এমন কিছু সমস্যা থাকে যাকে এড়িয়ে যাওয়া যায়। আবার কিছু সমস্যা থাকে যার সমাধানে কিছু করার চেয়ে নীরব থাকা ভালো।
আমরা যদি সৃষ্টির দিকে তাকাই- তাহলে বিষয়টি পরিস্কার হয়। আদম-হাওয়া-কে পৃথিবীতে পাঠানো হলে এই অচিনপুরে তাদের টিকে থাকায় সমস্যার অন্ত ছিলোনা। আমাদের প্রিয় নবীজি (সাঃ) জীবনে যারপরনাই সমস্যা মোকাবিলা করেছেন।
ব্যাপার হলো সমস্যা নিয়েও কিছু সমস্যা আছে। আমাদের জীবনে কিছু সমস্যা আসে জটিল। কিছু সমস্যা মানুষের জীবনীশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। কিছু সমস্যা মানুষকে নতুন করে বাঁচার পথ দেখায়। কিছু সমস্যা জীবন ও সম্পর্কের গণিতবিদ্যা বিষয়ে অনেক কিছু শেখায়। আবার অপরের আরোপিত কিছু সমস্যা জীবনকে অতিষ্ট করে দেয়। কিছু মানুষ অপরের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে।
কিন্তু আমরা মানুষ। আমাদের জানতে হয়। মাথায় চুল বিলিকেটে উঁকুন খোঁজার মতো করে সমস্যা মোকাবিলায় আমরা সমাধানের নতুন পথ খুঁজে পাই।
সমস্যা বিকট-প্রকট হলে- প্রথমে শান্ত হতে হয়। সমস্যাটিকে ধারণ করতে হয়। মেনে নিতে হয়। মানিয়ে নিতে হয়। অপেক্ষা করতে হয়। ভাবতে হয়। অতপর সমাধানের উপযোগি সমাধানের পথে হাঁটতে হয়। নতুবা একে এড়িয়ে চলার জন্য মনোবলকে শক্ত করতে হয়। ক্ষয়-ক্ষতি, হারানো, দুঃখ-বেদনা আর সম্পর্কের মায়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। একটি নতুন পরিকল্পনা সাজাতে হয়। নতুন পথ রচনা করতে হয়। এখানে নতুন নতুন মানুষদের সাথে নতুনভাবে সম্পর্কের মেলবব্ধন ঘটে। জীবনে সূচিত হয় নতুন মাত্রায় নবযাত্রা।
এই নবযাত্রায় যে সমস্যা আসবে না, থাকবে না- তা কিন্তু নয়। জীবন যেখানে আছে, সমস্যা সেখানে থাকবেই। তাহলে নতুন পথ রচনার পার্থক্য কি? পার্থক্য হলো- অতীতের জঞ্জালকে ব্ল্যাকবোর্ডের ডাস্টার দিয়ে ক্ষণকালের জন্য মূছে দিতে পারলেন। তাহলে আবার নতুন সমস্যা যদি আসে কী করা? আবারো পূর্বের সার্কেল মেনে নেয়াম সনিয়ে নেয়া...নতুন পথ রচনা করা।
আমি যখন রান্না শিখি- সেটা মেস জীবনের গল্প। সংসার জীবনে রান্না করাটা ছিলো অভিলাষ। অবসরের আনন্দ। সঙ্গীর প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন। কিন্তু যখন একা হয়ে গেলাম- তখন এই রান্না করাটা আমার নিত্যসঙ্গী হয়ে গেল! নিয়ম করে একজন মায়ের কাজ করতে শিখেছি! একজন বুয়ার কাজ শিখেছি! সন্তানের যত্ন নিতে শিখেছি! একজন পুরুষ থেকে, এজন স্বামী থেকে, একজন বাবা থেকে- একজন নারী, একজন স্ত্রী, একজন মা হওয়ার মনস্তাত্বিক এই রূপান্তর বা একের ভেতর বহুমাত্রিকতা ধারণ করতে শিখেছি!! পরিপূরক হতে পারিনি, নিপূণভাবে সব করতে না পারলেও এই যে পেরে উঠার জন্য নিজেকে ভেঙ্গেচুড়ে নাড়াচাড়া দিয়ে উঠা সেও কম কীসে? এই যে জার্নিটা- এতে কষ্ট আছে, আনন্দও আছে! তুষ্টিও আছে! এই জার্নিকে যদি সমস্যা হিসেবে দেখি তাহলে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো! মেনে নিয়ে, মানিয়ে নিয়ে- নতুন পথে হাঁটার আকাঙ্খা কতদূর নিবে তা কে জানে?
তবে এই জীবনের পথচলায় এ এক দারুণ অভিজ্ঞতা। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। এই জীবনে না আসলে এত বিচিত্র মুখ-মুখোশ, মায়াজাল আর সমস্যা মেনে বা মোকাবিলা করে অথবা নতুন পথ রচনার স্বাদ, অভিজ্ঞতা কি পওয়া যেত! প্রশান্তিময় অনন্ত জীবনের পথে এগিয়ে চলার নামই জীবন। চলুন এগিয়ে যাই- সত্যে, সুন্দরে, অবিচল আস্থায়.....
১৩ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
১ দিন ১৪ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
৪ দিন ২০ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৫ দিন ১০ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৬ দিন ১ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৯ দিন ১৮ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৯ দিন ১৮ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৯ দিন ১৯ ঘন্টা ২ মিনিট আগে