দীর্ঘ ১৯বছর পর ১৯ ফেব্রুয়ারিতে হতে যাচ্ছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা বিএনপির নেতা নির্বাচন উপলক্ষ্যে এক মহাসম্মেলন। বুধবার বিকেল ৩টা থেকে ৪.৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে এ ভোটগ্রহণ। উপজেলার ৯ইউনিয়নের ৬৩৯জন ভোটার ব্যালট পেপারের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পাঁচ পদে ২১জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনলেও শেষ পর্যন্ত ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
নির্বাচনে সভাপতি পদে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আফছার আলী ও বর্তমান আহবায়ক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা। সিনিয়র সহসভাপতি পদে দুইজন। তারা হলেন ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন ও মোবাইদুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন। তারা হলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শরিফুল ইসলাম ডালেজ ও জাকির আহমেদ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে পাঁচজন। তারা হলেন আহম্মদ হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, আবু সায়েম রাসেল, আব্দুর রশিদ সরকার ও আবু সালেহ আহমেদ বাবলু। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছয়জন। তারা হলেন জিয়াউর রহমান, আব্দুল মান্নান সরদার, আজাদ হোসেন সরকার, জুয়েল হোসেন মন্ডল, রবীন্দ্রনাথ লাহিড়ী ও আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবেন জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তারা হলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক লিটন পারভেজ, সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, মইন উদ্দিন ও রাজিব চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ১৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও দুই পদ নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। কে হচ্ছেন পীরগাছা উপজেলা বিএনপির আগামির সভাপতি-সম্পাদক?
সভাপতি প্রার্থী আফছার আলী ১৯৭৯ সালে পীরগাছা উপজেলা ‘জাগো যুবদলের’ প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ কাউন্সিলেও সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত ছিলেন। রংপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক থাকায় বর্তমান পীরগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক হতে পারেননি তবে ১নং সদস্য ছিলেন।
এছাড়াও তিনি ১৯৮৩ সালে পরপর দুইবারের ইউপি সদস্য, এরপর তিনবারের পীরগাছা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও পীরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এভাবে তিনি দীর্ঘ ৩২ বছর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতির সন্তান হওয়ার কারণে তার সেজো ছেলে পরপর তিনবার বিসিএসে পাশ করার পরেও শুধুমাত্র পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে নিয়োগ আটকে দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকার। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর ১৪ আগস্ট তার ছেলে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে গেজেটপ্রাপ্ত হয়ে চাকরিতে যোগদান করেন।
বর্ণাঢ্য রাজনীতির এই জীবনে বিএনপির তৃণমূল থেকে সব শ্রেণির মানুষের সাথে তার মেলামেশা। সামাজিক কাজে ডাক পড়লেই তিনি দৈত্যের মতো হাজির। সেটা হোক বিয়েসাদির আয়োজন, মসজিদ উদ্বোধন, সমাজের বিচার-সালিশ এমনকি জানাযার নামাযে সরব উপস্থিতি তার। শেষ বয়সে এসে তার লক্ষ্য পীরগাছা উপজেলাকে একটি আদর্শ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসমুক্ত ও সমাজে শান্তিপ্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যে ব্রত হয়ে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী হয়ে তিনি ‘চেয়ার প্রতীক’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন।
আরেক সভাপতি প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা। যিনি কারমাইকেল কলেজ থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন। তিনি কারমাইকেল কলেজের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি পীরগাছা বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির দীর্ঘদিন সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে নির্বাচিত হলে কর্মিদের এতোদিনের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন এবং পীরগাছাবাসির যে সমস্ত অবহেলিত কাজ আছে আর বিএনপি সরকার যদি প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে কর্মিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আফছার আলীর বিপক্ষে ‘ছাতা প্রতীক’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
তবে ভোটার ও সাধারণ মানুষ সভাপতি পদে কাউকে হারাতে চান না। কারণ তারা মনে করেন বিএনপির ক্রান্তিকালে আফছার আলী ও আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা দুজনেই পাশে ছিলেন। তারা দুজনেই বিএনপির যোগ্য মানুষ। তাদের দুজনকেই বিএনপির প্রয়োজন আছে। তাদের ছাড়া বিএনপি সুসংগঠিত হবে না। এদিকে ভোটাররা পড়ে গেছে দোটানায়! দুজন প্রার্থীই তাদের পছন্দের। কাকে ছেড়ে কাকে ভোট দেবেন! তবে ভোট দিতে হবে একজনকে। দেখা যাক, এরই মধ্যে সভাপতি পদে কাকে বেচে নেন ৬৩৯জন ভোটার।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শরিফুল ইসলাম ডালেজ। যিনি দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা বিএনপির সাইনিং পাওয়ার পদে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তবে তিনি সফলতার পথে অনেকেই মনে করছেন। তিনি পীরগাছা সরকারি কলেজের সভাপতি, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, উপজেলা যুবদলের সভাপতি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদি দল সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে, ভোটের পক্ষে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে পীরগাছায় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলে পীরগাছায় কোন ভেদাভেদ থাকবে না। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল পরিচালনা করব। তিনি ‘ফুটবল প্রতীক’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
আরেক প্রবীণ রাজনীতিবিদ জাকির আহমেদ। তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে শরিফুল ইসলাম ডালেজের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তিনি ৯০’র গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্নি মশাল। পীরগাছা সরকারি কলেজের ভিপি ছিলেন। ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি রাজনীতি জীবন শুরু করেন। উপজেলা যুবদলের সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পীরগাছা বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে চশমা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তিনি নির্বাচিত হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সমস্ত নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দলের পীরগাছা উপজেলাকে একটি মডেল তৈরি করেত চান। পাশাপাশি তিনি বিএনপির একটি দূর্গ তৈরি করতে চান।
৭ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে