বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। জনগণকে রক্ষা করতে বিএনপিকে শক্ত পিলার হিসেবে দাঁড়তে হবে। পতিত সরকারের আমলে এভাবে সভা সমাবেশ করা সম্ভব হয়নি। তাদের পেটয়া বাহিনী দাঁড়াতে দেয়নি। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে সে অবস্থা কেটে গেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বেরাচার খুনি হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। পতিত সরকারের আমলে নেতাকর্মীরা বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। তারা কেউ ঢাকায় যেয়ে রিক্সা চালিয়েছে। কেউ বনে জঙ্গলে গিয়ে পালিয়ে থেকেছে। আবার অনেক নেতাকর্মী বছরের পর বছল জেলে থেকেছে। তবু তারা বিএনপি , অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন ছেড়ে চলে যায়নি।
রাজশাহী জেলা বিএনপি আয়োজিত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে, পতিত ফ্যাসিবাদী ও তার দোসরদের নানা মুখি ষড়যন্ত্র রুখে দিতে এবং দ্রুত জতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষনার দাবীতে বিএনপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এডভোকেট ফজলুর রহমান এই কথা গুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি’র পঁচিশ হাজার নেতাকর্মী একসাথে জেল খেটেছে। জেল থেকে জামিনে বেড়িয়ে বাড়িতে যাওয়ার সময় মিছিল দেখে আবারও মিছিলে যোগ দিয়ে পুণরায় আটক হয়েছে। তিনি বলেন, পতিত সরকারকে দেশ বিতারিত করতে এবং তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আন্দোলন করার জন্য ইলিয়াস আলীর মত বারশত নেতাকে গুম করা হয়েছে। দুই হাজার নেতাকে হত্যা এবং পঞ্চাশ লক্ষের উপরে নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাবেশে ১০ লক্ষের অধিক জমায়েতে খুনি হাসিনার দোসরা অমাবিকভাবে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের হত্যা, জখম ও আটক করেছিলো। এরপরেও বিএনপি হাসিনা পতনের একদফা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, বিএনপি সেই কর্মী, যারা কোন কিছুতেই ভয় পায় না। বিএনপি দীর্ঘ ষোল বছর সরকার পতন এবং তত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছে। বিএনপি এই আন্দোলনের ধানের বীজ বপন করেছে, বড় করেছে, ধান পাকিয়েছে। আর সেই ধান কেটে নিয়েছে ছাত্র-জনতা ৫আগস্টের হাসিনা পতনের মধ্যে দিয়ে। আর এতেই তারা মনে করছে সব কিছু তারাই করে নিয়েছে। এটা কোন দিনও হতে পারেনা। তিনি বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারে থেকে দল গঠন করাই য্য়া। তৃনমুলে এসে তৃনমুলের মানুষের সাথে থেকে কাজ করে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। দেখেন কেমন লাগে। রাজ প্রাসাদে বসে থেকে দল গঠন মেনে নেয়া হবেনা বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, একটি দল এখন স্লোগান দিচ্ছে দুই সাপের একই বিষ নৌকা আর ধানের শীষ। সেই দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যে দলের সারা দেশে ১০ভাগ ভোট নেই। যে দল অন্যের উপরে নির্ভরতা ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারেনা, সেই দলের কথায় এদেশ চলতে পারেনা। পতিত সরকার ছিলো জাতীয় সরকার। সেজন্য সবার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে । এছাড়া এ দেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবেনা বলে হুঁশিয়ারী দেন তিনি। কারন তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীর একটাই লক্ষ ছিলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন, কোন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, তত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করতে যেয়ে বিএনপি ২০১৪ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেনি। ২০১৮ সালে হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে ঠকেছেন। এরপর ২০২৪ সালে আমি-ডামি নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসেছিলেন খুনি হাসিনা। কিন্তু তার ক্ষমতা আর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দেশ ছেড়ে তাকে পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে পালাতে হয়েছে। আগামীতে আর কোনদিন আর ক্ষমতায় আসতে পারবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। হাসিনা না থাকলেও বিএনপিকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সবাইকে মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি। সেইসাথে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল বাধা উপেক্ষা করে বিএনপিকে সংসদে নিতে এবং সরকার গঠনের সহায়তা করতে নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান প্রধান অতিথি।
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত। বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন বিএনপি রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা ও সদস্য সচিব মামুন-অর-রশিদ মামুন।
রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ^নাথ সরকারের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অবঃ) শরীফ উদ্দীন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পুঠিয়া বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, জেলা বিএনপি’র সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, রায়হানুল আলম রায়হান, তাজমুল তান টুটুল, গোলাম মোস্তফা মামুন, রুকুনুজ্জামান আলম, তোফায়েল হোসেন রাজু, মাহমুদা হাবিবা, জাকিরুল ইসলাম বিকুল, মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক শাফিকুল ইসলাম শাফিক ও গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপি’র সদস্য এডভোকেট সুনতানুল আলম তারেক।
এছাড়াও যুবদল রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান সজন, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার ডিকো, সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরফিন কনক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরফিন কনক ও সদস্য সচিব শাহরিয়ার আমিন বিপুল উপস্থিত ছিলেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক আল আমিন সরকার টিটু, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীম, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত, সদস্য সচিব আকুল হোসেন মিঠু, জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বাদশা, মহানগর তাঁতী দলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফুল শেখ বনি, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রোমেনা হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম আহম্মেদ ও সদস্য সচিব আলামিনসহ মহানগর ও জেলা থেকে আগত বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।
৭ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
১৪ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
১৮ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে