কয়েকজন তরুণের হাত ধরে বদলে গেলো রোস্তম পাগলা
কয়েকজন তরুণের বদৌলতে বদলে গেলো রোস্তম পাগলা
আসলাম উদ্দিন আহম্মেদঃ
কয়েকজন তরুণের বদৌলতে বদলে গেলো রোস্তম পাগলা। ২৮ মার্চ শুক্রবার কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর পৌরসভার গুনাইগাছ মোড়ে এসে খুঁজতে থাকে এখানে কি কোন পাগল আছে ? এলাকার উৎসুক জনতা জানতে চাইলো হ্যাঁ আছে, কেন ? দেখেননা কি করি আমরা ? এর মধ্যে রোস্তম পাগলার দেখা মিলে। আমাদের একটু সাহায্য করতে পারবেন, আমরা রোস্তম পাগলাকে পরিবর্তন করে দেব। এলাকার পল্লী চিকিৎসক মকবুল হোসেন, জালাল উদ্দীনসহ আরো কয়েকজন রোস্তম পাগলাকে বোঝাতে লাগলো। ওদের কথা শোনেন, ওরা চা খাওয়াবে, চুল দাঁড়ি পরিস্কার করে দিবে। কিন্তু কোন কিছুতেই রোস্তম পাগলাকে বাগে আনা যাচ্ছিল না। কিন্তু তরুণরা নাছোরবান্দা। শেষ মেষ এলাকার জনগনের সহযোগিতায় তাঁকে ধরে চা খাওয়ানো হলো। এতে রোস্তম আলী কিছুটা বিশ্বাস ফিরে পেলেন তরুণদের কথায়। এর মধ্যে কয়েকজন হাত ধরে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসিয়ে দিলেন। এর মধ্যে এক তরুণ ট্রিমার বের করে চুল দাঁড়ি পরিস্কার করে তার শারীরিক অবয়ব পরিবর্তন করে দিলেন। আর এক তরুণ গায়ে পানি দিলেন। আর এক তরুণ মাথায় শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করে দিলেন। তার ময়লা লুঙ্গি ও শার্ট পরিবর্তন করে ট্রাউজার ও টি শার্ট পরিয়ে দিয়ে পাশের হোটেলে খাওয়াতে নিয়ে গেলেন। রোস্তম আলীকে এখন আর পাগলা মনে হয় না। আর এ কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের কাজলডাঙ্গা গ্রামের আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন সদস্য হাসানুজ্জামান রাসেল, রাকিবুল হাসান সোহাগ, আসাদুজ্জামান আশিক, রায়হান কবির, আল ইমরান, মোঃ রাজ ও মোঃ দুলাল মিয়া । তারা জানান, তাদের এ কাজে তারা গর্বিত। তারা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। তাদের এ কাজের প্রশংসা করেছেন এলাকার লোকজন। তারা আরো জানান, ২০১৮ সালের ১জানুয়ারী থেকে আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন জন কল্যাণমূখী বিভিন্ন ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এ কাজে সকলকে সহযোগিতার আহবান জানান।
আমরাও তাদের জনহিতকর কাজের সাফল্য কামনা করছি। সবাই এভাবে অসহায়দের পাশে দাঁড়ালে সমাজ পরিবর্তন হবে।#