জামালপুরের ইসলামপুরে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুর রহিম খন্দকারকে নিজ বসতবাড়িতে খুন করার ঘটনায় খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে হত্যাকাণ্ডে শিকার আব্দুর রহিম খন্দকারের নিজ গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলন করেন এলাকাবাসী।
দুপুর ১টার দিকে নিহত আব্দুর রহিম খন্দকারের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে স্থানীয় জিগাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে আব্দুর রহিম খন্দকারের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন হত্যাকাণ্ডের শিকার আব্দুর রহিম খন্দকারের স্ত্রী স্ত্রী রেহেনা খন্দকার। তিনি বলেন, নিহত আব্দুর রহিম খন্দকারের স্ত্রী রেহেনা বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বাড়ির পাশে একটি দোকান থেকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমার স্বামী ঘরে ঢুকে। আমি ঘরের দরজা বন্ধ করি। কিছুক্ষণ পর বাহির থেকে কয়েকজন লোক নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয়ে আমাদের ঘরের দরজা খুলার জন্য চেচামেচি করে। আমাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহের সৃষ্টি হওয়ায় আমরা পরিচিত লোকজনকে ফোন দিই। কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় কারোর সঙ্গে কথা হয়নি। এক পর্যায়ে আমি ঘরের জানালা দিয়ে পাশের ঘরে থাকা ভাতিজা সুমন খন্দকারকে ডেকে তুলি। সুমন এবং তার বড়ভাই সোহেল খন্দকার ঘর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্বৃত্তরা তাদের আক্রমণ করে। এসময় আমার ঘরের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্বৃত্তরা আমার স্বামীকে এলোপাতাড়িভাবে কুপাতে থাকে। এতে আমার স্বামী মারা যায়।'
আব্দুর রহিম খন্দকারের ভাতিজা সুমন খন্দকার বলেন, 'বাড়িতে প্রশাসনের লোক আসার বিষয়টি ঘরের জানালা দিয়ে আমার চাচি রেহেনা বেগম আমাদের জানান। আমি এবং আমার বড়ভাই সোহেল খন্দকার বাইরে বের হই। দেখা মাত্রই দুর্বৃত্তরা আমাদের মারধর শুরু করে। পরে তারা আমাদের বেঁধে ফেলে। পুলিশ এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।'
নিহত আব্দুর রহিম খন্দকারের বড়ভাই সোলাইমান খন্দকার বলেন, 'রাতে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আমার ছোটভাই আব্দুর রহিম মেম্বারকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটা নিশ্চয় পূর্বপরিকল্লপিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু মামলা করার পর রহস্যজনক কারণে পুলিশ এলাকায় আসেনি।'
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে নিজবসত ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আব্দুর রহিম খন্দকারকে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় গত ১ জুলাই আব্দুর রহিম খন্দকারের স্ত্রী রেহেনা খন্দকার বাদী হয়ে ২১ জনের নামোল্লেখে ইসলামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডে শিকার আব্দুর রহিম খন্দকার উপজেলার কুলকান্দী ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে টানা দুইবার মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ ছাড়া তিনি কুলকান্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর বাড়ি যমুনার দুর্গম অঞ্চল ইউনিয়নের জিগাতলা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের তয়বুর খন্দকারের ছেলে। তিন মেয়ে এবং এক ছেলের জনক আব্দুর রহিম খন্দকার।'
ইসলামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার ও উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'ওসি স্যার মামলার সাক্ষী দিতে আদালতে গেছেন। আমি দায়িত্বে আছি। পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ঠিক নয়। ভুলবোঝাবুঝি হচ্ছে। আমরা ইউপি সদস্যকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। আশা রাখি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।'
১ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে