মিরসরাইয়ে লায়ন্স ক্লাবের দিনব্যাপী সার্ভিস প্রোগ্রাম নিয়োগপত্র পাচ্ছেন প্রাথমিকের চাকরিবঞ্চিতরা দিনাজপুরে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত নাঙ্গলকোট উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার দিনাজপুরে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ‘শাহীন স্টোরের’ বিরুদ্ধে মামলা শ্যামনগরে গাছ থেকে পড়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু নাগেশ্বরীতে ৬৩ পূজামণ্ডপের জন্য তৈরি হচ্ছে প্রতিমা: নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নজর ও পরিদর্শন নাগেশ্বরীতে ৬৩ পূজামণ্ডপের জন্য তৈরি হচ্ছে প্রতিমা: নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নজর ও পরিদর্শন শিল্পবর্জ্য ও দূষণের কারণে সুপেয় পানি কমছে : পানি সম্পদ মন্ত্রী জয়পুরহাটে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও শপথ কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি লাখাইয়ে উর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম,অস্তিরতায় নিম্ন আয়ের মানুষ। জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী আশাশুনি হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করনে নতুন ভবনের সয়েল টেস্ট উদ্বোধন তা’মীরুল মিল্লাতে আলিমে ভর্তি নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ, নির্বাচিত হয়েও ভর্তি হতে পারেননি অনেকে! দিনাজপুরে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের পীরগাছায় ছেলের হাতে বাবা খুন, ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ১৬ বছরে পদার্পণ লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব পীরগাছায় আল হাজরা ইয়াতিমখানার হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ী প্রদান উপলক্ষে তাফসির মাহফিলের প্রস্তুতি ও সুধী সমাবেশ কবিরহাটে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পৃথিবীর যে চার নদীর 'উৎস' জান্নাতে

সম্পাদকীয় ডেস্ক - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 22-08-2025 08:38:18 am

এ নদীগুলো ইসলামের ঐতিহ্যকে সমুন্নত করেছে। © ছবি : সংগৃহীত।


সহিহ মুসলিমের হাদিসে চারটি নদী জান্নাতের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, পৃথিবীতে এমন ৪টি নদী প্রবাহিত হয়েছে, যেগুলো জান্নাতের নদীগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এ নদীগুলো শুধু ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং তাদের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ইসলামের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।


সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, ফোরাত, নীল, সাইহান ও জয়হান- এই চারটি নদী জান্নাতের নদী হিসেবে চিহ্নিত। এই নদীগুলো কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, জান্নাতের আশীর্বাদস্বরূপ এক মহা নিদর্শন।


⏩ নীল নদ (মিশর): নীল নদটি সহিহ মুসলিমে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নীল ও ফোরাত জান্নাতের নদীগুলির মধ্যে রয়েছে।’ (মুসলিম ১৬৪)


নীল নদীর ইসলামের ঐতিহ্যের সাথে সবচেয়ে বিখ্যাত সংযোগ হল নবী মুসা (আ.) এর গল্প। তার মা ফেরাউনের আদেশ থেকে তাকে রক্ষা করার আশায় একটি ঝুড়িতে রেখে নীল নদীতে ভাসিয়ে দেন, যা অবশেষে ফেরাউনের পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়। মুসার নবী হওয়ার যাত্রা শুরু হয় সেখান থেকেই। মহানবী (সা.) মিরাজে গিয়ে জান্নাতের চারটি নদী দেখেছেন। দুটি বাহ্যিক ও দুটি আভ্যন্তরিক। বাহ্যিক নদী দুটি দুনিয়ায় প্রবহমান, নীল ও ফুরাত। (মুসলিম ১৬৪)


⏩ জয়হান নদী (তুরস্ক): সহিহ মুসলিমে জয়হান নদীকে জান্নাতের নদীগুলির মধ্যে একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবীতে আমরা যে সব উপহার উপভোগ করি তা জান্নাতের অফুরন্ত দানের একটি ক্ষুদ্র ঝলক।


এ নদী পূর্ব তারাস পর্বতমালার নুরহাক পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মিশেছে। এটি প্রাচীনকাল থেকে একটি প্রাকৃতিক সীমানা ও বিভিন্ন সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে পরিচিত ছিল। জয়হান নদীর ডেল্টা এর সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত, যা বিভিন্ন পাখির প্রজাতির আবাসস্থল ও সামুদ্রিক কচ্ছপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাসস্থান সরবরাহ করে।

 

অন্য এক বর্ণনায় আছে, রসুলল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(শামের) সাইহান ও জাইহান, (ইরাকের) ফুরাত এবং (মিশরের) নীল প্রত্যেক নদীই জান্নাতের নদ-নদীসমূহের অন্যতম। (মুসলিম ২৮৩৯)



⏩ সিহান নদী (তুরস্ক): সিহান নদী, যা সেরাস নামেও পরিচিত, সিলিসিয়া অঞ্চলের দীর্ঘতম নদী। এটি প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে মিশেছে।


প্রাচীন লেখকরা সিহান নদী সম্পর্কে বিশদভাবে লিখেছেন, এটি ঐ অঞ্চলের সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ নদীটি কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে গম, ভুট্টা, বার্লি, তুলা, ফল এবং সবজি চাষ করা হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ।


⏩ ফোরাত নদী (ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক): রসুলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এক সময় আসবে যখন ফোরাত নদী সোনার একটি পাহাড় উন্মোচন করবে, এ নিয়ে মানুষ সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। তিনি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বলেছেন, ‘ফোরাত নদী সোনার একটি পাহাড় উন্মোচন না করা পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না। এ নিয়ে লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হবে, এবং একশ জনের মধ্যে নিরানব্বই জন নিহত হবে।’


৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে হুসাইন (রা.) এবং তার সঙ্গীদেরকে ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়ার বাহিনী ফোরাত নদীর পানি থেকে বিরত রাখে। 

আরও খবর