চশমা নিয়ে চিলমারীতে জামান বিজয়ী ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’-ডকুমেন্টারি নির্মাণে ভোলা জেলায় ১ম হয়েছে লালমোহন হা-মীম স্কুল ৩ দিন ধরে পানি নেই বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, চরম দুর্ভোগে রোগীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নার্সের অবহেলায় হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ দক্ষিনী সিনেমার সেরা অভিনেতা 'মহেশ বাবু' বরিশাল রেঞ্জ'র শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসন বরিশাল জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উদ্যোগে দুস্থ অসহায় মানুষকে আর্থিক সহায়তা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুট ওভারব্রিজ প্রয়োজন সড়ক দূর্ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়র নিহত করোনাভাইরাস : সবচেয়ে কম শনাক্তের দিনে মৃত্যুশূন্য বরিশাল পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণে যেমনি পাশে আছি, তেমনি তাদের শৃংখলা রক্ষার্থে কঠোর থেকে কঠোরতম অবস্থানে রয়েছি-বিএমপি কমিশনার লক্ষ্মীপুরের মির্জাপুর এলাকার মাওঃনজীর আহমদ আর নেই লক্ষ্মীপুরের মির্জাপুর এলাকার মাওঃনজীর আহমদ আর নেই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী দূর্গা সাগর দিঘি ও কালেক্টরেট পুকুরে পাছের পোনা অবমুক্ত বরিশালে বোনের জমি-ফ্লাট দখলে নিতে মাকে বাসা থেকে বের করে দিলো দুই ছেলে ফরিদপুরে কাশফুলের রাজ্য শেরপুরে মুজিব শতবর্ষ জেলা দাবা লীগ শুরু আজ ॥ শ্রীবরদীতে পুলিশের অভিযানে হেরোইনসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরিশালে ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

আত্মহত্যা নয় : বেঁচে থাকাই জীবনের সার্থকতা

মোহাম্মদ রায়হান - ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 14-07-2021 09:02:29

Photo caption :

আত্মহত্যা, যার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সকল অস্বাভাবিক মৃত্যুর লাশ। আত্মহত্যা, যার কথা মনে হলে মনের মধ্যে ভেসে ওঠে এক বিভীষিকাময় যন্ত্রণায় কাতরানো মুখ। আত্মহত্যা, যার কথা মনে হলেই কানে বাজে হাজারো আত্মীয়-স্বজনের বুকফাটা আর্তনাদ। আত্মহত্যার কথা মনে হলেই মনের মধ্যে ভেসে ওঠে এক অসহ্য যন্ত্রণায় নিষ্পেষিত  জীবনের কথা। তবে কি এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্যই মানুষ বেছে নেই আত্মহত্যা? 


সবুজ, শ্যামল, রঙিন এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। মানুষ কেন বেছে নেয় আত্মহত্যা? তাকে কি আর রঙিন স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারেনা? মায়ার বন্ধন কি আর দাবিয়ে রাখতে পারেনা আত্মহননের মতো কাজটি করার ইচ্ছাকে? মানুষের জীবন সহজ নয়। Life is not a bed of rose. পৃথিবীতে চলতে হলে হাজারো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তবে কি এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেব?


কখনোই না। আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না বরং আরো হাজারো সমস্যার জন্ম দেয়। আজকাল পত্রিকার পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে আত্মহত্যার ঘটনা। আর এসব আত্মহননকারী দের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায় যে, করোনাকালীন সারাদেশে ১৪ হাজার ৪৩৬ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। তার মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছে তরুণ। কেন এত আত্মহত্যা?এতো আত্মহত্যার কারণ কি শুধু অর্থনৈতিক দুরবস্থা? না আরো অনেক কারণ আছে আত্মহত্যা করার। 


আত্মহত্যার কারণ হিসেবে মনোবিজ্ঞানীগণ মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। দেহ এবং মন একে অপরের পরিপূরক। মন যদি ভালো না থাকে তবে দেহ একসময় অসুস্থ হয়ে যায়, আর চারদিকে নেমে বিষন্নতার কালো মেঘের ছায়া। বিষন্নতার ফলেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেই অনেকে। হ্যালিওসিনেশন, বিভিন্ন ‍ধরণের ডিলিওশন এবং নেশার ঘোরে অনেকে আত্মহত্যা করে। মনোরোগ ছাড়াও মান-অভিমান, বিরহ-বেদনা, দারিদ্র ও অপমান এসব কারণেও অনেকে বেছে নেই আত্মহত্যার পথ। বাবা-মার অপশাসনের ফলেও অনেক সময় সন্তানরা আত্মহত্যা করে। পরীক্ষায় খারাপ ফল করা, শিক্ষকদের কড়া শাসনের কারণেও অনেকেই এ পথ বেছে নেই। 


বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয় আত্মহত্যার ফলে কোন ব্যক্তি সমস্যা থেকে রেহাই পেলো অথবা তার পরিবারকে কোন সমস্যা থেকে মুক্তি দিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে তার পরিবারকে আরও হাজারো সমস্যার মধ্যে ফেলে দেয় আত্মহত্যা করার মাধ্যমে। কারণ একজন মানুষের প্রতি পরিবারের অনেক আশা থাকে যে, ছেলে বা মেয়ে বড় হয়ে সংসারের হাল ধরবে, বাবা মা'র স্বপ্ন পূরণ করবে। কিন্তু, আত্মহত্যা ফলে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে, পড়ে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হই পরিবারটি। অপমৃত্যু হয় একটি স্বপ্নের। সমাজ হারায় একজন ভবিষ্যৎ নেতাকে। হারায় একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কর্ণধারকে।


কোন ধর্মে আত্মহত্যার সমর্থন করে না। ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যা মহাপাপ। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে পরকালে তার জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ শাস্তি। দুনিয়াতে এমন কোন সমস্যা নেই যে তার সমাধান নেই। কোনটার সমাধান হয়তো'বা দুইদিন আগে পাওয়া যায় আবার কোনোটার সমাধান দুইদিন পরে। কিন্তু সমাধান তো পাওয়া যায়। তাই কোন কঠিন সমস্যায় পড়লে আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় না এনে সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। মনে রাখতে হবে আত্মহত্যা কোন সমস্যার সমাধান না। সমস্যা নিজের মধ্যে বা পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সমাধানের জন্য সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পরিবারের বদনাম হবে, মান-সম্মান চলে যাবে কিংবা যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না এ ধরনের মানসিকতা ত্যাগ করে সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে একটি আত্মহত্যা আরো বহু সমস্যার জন্ম দেয়। পরিবারের ভরসা কে মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে যায়। পরিবার ও নিজের স্বপ্নকে খুন করা হয়। কারো ভেতর যখন আত্মহত্যার চিন্তা আসবে তখন খুঁজে বের করতে হবে কোন সমস্যার জন্য এই চিন্তা আসলো। আর তার সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলে যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তবে আইনের আশ্রয় নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। 


একজন আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তিকে পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে, কখনো তাকে হীনমন্যতায় ভোগতে দেওয়া যাবে না। এমন কোন কথা বলা যাবে না যাতে সে একা অনুভব করে। বাঁকা কথা, নেতিবাচক মন্তব্য পরিহার করতে হবে। সব সময় পাশে থাকার আশ্বাস দিতে হবে এবং সমাজের সকল নেতিবাচক মন্তব্য থেকে রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের পথ দেখিয়ে দিলে কোন ব্যক্তির আত্মহত্যা করতে চাইবেনা। সর্বোপরি আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের দিকে আমাদের পরিবার তাকিয়ে আছে। আমাদের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে, আমাদের রঙিন স্বপ্নগুলো পূরণ করতে হবে। আর এজন্য আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। এভাবেই আমরা আত্মহত্যা থেকে দূরে সরে থাকবো এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে এই সুন্দর পৃথিবীতে জীবন যাপন করব।


ওবায়দুর রহমান

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ 

ঢাকা কলেজ

আরও খবর

আগামীর দিন শুধুই সম্ভাবনার

১০ দিন ২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে



পরিবেশ দূষণ মানব ধ্বংসের প্রধান কারণ

১৯ দিন ১৪ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে