দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের খড়গ নেমে এলো যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের দীর্ঘদিনের কান্ডারি ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেনের ওপর। বুধবার রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে বহিষ্কারের আদেশ জানানো হয়।বহিষ্কারের খবর যখন মণিরামপুরে পৌঁছায়, শহীদ ইকবাল তখন দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের নিয়ে বসে নির্বাচনী ছক কষছিলেন। চিঠির খবর পেয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সামনেই অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, "দল আমাকে বের করে দিলেও আমি বিএনপি ছাড়ব না। ধানের শীষের প্রতীকটা যখন টেবিল থেকে সরিয়ে রাখছিলাম, মনে হচ্ছিল বুকটা ফেটে যাচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, জেল-জুলুম সহ্য করে বছরের পর বছর রক্ত পানি করা পরিশ্রমের পরেও দল তাকে মূল্যায়ন করেনি। তবে তার লক্ষ্য, এই আসনটি জয়ী হয়ে পুনরায় খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেওয়া।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৪ ডিসেম্বর। বিএনপি প্রথমে শহীদ ইকবালকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রশীদ আহমদকে ছেড়ে দেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির বিশাল একটি অংশ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। বুধবার শহীদ ইকবালকে 'কলস' প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।মণিরামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই স্পষ্ট জানান, তারা আর জোটের প্রার্থীর জন্য কাজ করতে রাজি নন। তার দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাদের ১২ জন কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে, শহীদ ইকবালের বাড়িতে হামলা হয়েছে ১০ বার। বারবার জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবার তারা আসনটি "উদ্ধার" করতে বদ্ধপরিকর।শহীদ ইকবাল ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে ধানের শীষ নিয়ে লড়েছিলেন। ২০১৮ সালেও একইভাবে তার মনোনয়ন কেড়ে নিয়ে জমিয়তের তৎকালীন নেতা মুফতি ওয়াক্কাসকে দেওয়া হয়েছিল। এবারও মুফতি ওয়াক্কাসের ছেলের জন্য তাকে ত্যাগ করতে বলা হলে তিনি আর মেনে নিতে পারেননি।
১ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
১৫ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে