কালো সোনা খ্যাত পেঁয়াজের বীজ চাষে সফল কৃষক হুমায়ন, ৪৪ শতাংশ জমিতে আয় হতে পারে ১৬ লাখ টাকা
কালো সোনা খ্যাত পেঁয়াজের বীজ চাষে সফল কৃষক হুমায়ন, ৪৪ শতাংশ জমিতে আয় হতে পারে ১৬ লাখ টাকা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ‘কালো সোনা’খ্যাত পেঁয়াজের বীজ চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়ন আহমেদ। মাত্র ৪৪ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকারও বেশি আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। তার সফলতা দেখে উপজেলায় অনেক কৃষকই এখন পেঁয়াজ বীজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তোরাপ শেখের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে কৃষি নিয়ে কাজ করছেন। কৃষিতে উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য তিনি একাধিকবার পুরস্কৃতও হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে চলতি মৌসুমে তিনি বাইরে থেকে ৬০০ গ্রাম পেঁয়াজের দানা আমদানি করে ৪৪ শতাংশ জমিতে প্রায় ৪০০ কেজি বুশরা জাতের গুটি পেঁয়াজ রোপণ করেন।
হুমায়ন আহমেদ জানান, তার ক্ষেত থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২১০ কেজি পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের আশা করছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে। আর যদি তিনি এই বীজ সংরক্ষণ করে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করেন, তবে প্রতি কেজি ৮ হাজার টাকা দরে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করা সম্ভব হবে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
সরেজমিনে তোরাপ শেখের পাড়া গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত। বাতাসে দুলছে সাদা পেঁয়াজ ফুল। এই ফুলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে কৃষকের ‘কালো সোনা’খ্যাত বীজ। ক্ষেতের ফুল যাতে বাতাসে ভেঙে না যায়, সে জন্য হুমায়ন আধুনিক পদ্ধতিতে মাঝ বরাবর জাল বেঁধে দিয়েছেন। তার এই পদ্ধতি স্থানীয় অনেক কৃষকের নজর কেড়েছে।
পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত ঘিরে তৈরি হয়েছে স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগও। স্থানীয় বেকার যুবকেরা প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরিতে এসব ক্ষেতে কাজ করছেন। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউ পোকামাকড় দমনে স্প্রে করছেন, আবার কেউ ফুলে হাতে স্পর্শ করে কৃত্রিমভাবে পরাগায়নের কাজ করছেন।
সাধারণত নভেম্বর মাসে পেঁয়াজ বীজ বপন করা হয় এবং বীজ পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ দিন। পেঁয়াজ ফুলে পরাগায়নের জন্য মৌমাছি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উপকারী পোকামাকড় ও মৌমাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকেরা হাতে স্পর্শ করে কৃত্রিমভাবে পরাগায়নের কাজ করছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল ইসলাম জানান, সারা দেশে পেঁয়াজের বীজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গোয়ালন্দ উপজেলায় প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের বীজের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর মানসম্মত বীজ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব বীজ দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্মকালীন সময়ে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে কৃষকদের এখন থেকেই বীজ উৎপাদনে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।