সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতার অভিযোগ 'শত্রুতার জেরে ছেলে-মেয়েকে স্বর্ণ চুরির মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে' মিরসরাইয়ে পাহাড়ধসে সন্তানহারা পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা ফজলুল মুরাদ, স্থাপন করলেন নলকূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর-নুরুল আমিন এমপি রাজনৈতিক পরিচয়ে লুটপাট, সম্পদ দখল করতেই রতনকে হত্যা: কর্নেল বাতেন আদমদীঘিতে মাদক বেচা-কেনার অভিযোগ: হিজরাপট্টিতে এলাকাবাসীর অগ্নিসংযোগ আদমদীঘিতে বিএনপি নেতা মেম্বার প্রার্থীর পূজামন্ডপে আর্থিক সহায়তা ও গেঞ্জি বিতরণ আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘিরে কৃষ্ণনগরে জি এম রবিউল্যাহ বাহারের কর্মী সমাবেশ, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যু শেরপুরের শ্রীবরদীতে খাল থেকে ড্রামে নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্ত শ্যামনগরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে মিশলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কচুয়ায় সাচারে শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গা পূজার মন্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি রাজশাহী কাটাখালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৭০০ ট্যাপেন্টাডল ও ১.৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ নগদ ১১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭০ টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ শ্যামনগরের দ্বীপ ইউপি গাবুরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ মানবিক উদ্যোগে শেরপুরবাসীর আস্থা অর্জনে এগিয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন লালপুরে মাজার ও মসজিদে চুরি মোংলা বন্দরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সফর, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রত্যাশা ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৪ উদ্যোগ সরকারের সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা

বর্তমান প্রজন্ম বড় সংকট ব্রেইন রট; প্রতিকার কী?

সম্পাদকীয় ডেস্ক - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 18-03-2026 07:07:20 am

◾মু. ইমন হোসেন :   বর্তমান প্রজন্ম একযোগে দুটি জগতে বাস করছে, তাহলো বাস্তব এবং ভার্চুয়াল। গবেষণায় দেখা গেছে, তারা ক্রমেই ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। দুই দশক আগেও টেলিভিশনকে বলা হতো 'ব্রেইন রট' বা 'মস্তিষ্ক পচন'র প্রধান আধেয়। যার জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি সহজলভ্য স্মার্টফোন। যা ক্রমাগত পচিয়ে দিচ্ছে নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও উদ্যমকে। ধ্বংস করে দিচ্ছে উদ্ভাবনী শক্তি। চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্রেন রট বা মস্তিষ্কের পচন বিষয়টা আসলে কি? ব্রেইন রটস কোনো চিকিৎসা-পরিভাষার শব্দ নয বরং এক সামাজিক বাস্তবতা, যার মুখোমুখি হচ্ছে আজকের প্রজন্ম। এই শব্দটি দ্বারা মানুষের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিস্থিতির অবনতি বোঝায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অকারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়ে থাকে এবং তাদের মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় শর্টস, রিলস দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। একে বলা হয় ডুমসক্রোলিং। আর এই ডুমসক্রোলিং এর ফলাফলই হলো 'ব্রেন রট' বা 'মস্তিষ্কের পচন'।  


এই ব্রেইন রটের ফলাফল যে কত ভয়ংকর আর তা থেকে মুক্তির উপায়ই বা কি? ব্রেইন রটসের প্রভাব সরাসরি পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। মনোযোগের সময়কাল কমে যাচ্ছে, স্মরণশক্তি দুর্বল হচ্ছে, সৃজনশীল চিন্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। বাস্তব জীবনের কাজগুলো কষ্টকর মনে হচ্ছে, কারণ ভার্চুয়াল জগত আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে, সবকিছু হোক “তাৎক্ষণিক”। এতে করে কর্মজীবনে দক্ষতা কমছে, পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা এবং সার্বিকভাবে সমাজে তৈরি হচ্ছে মানসিক অবসন্নতার এক ধোঁয়াটে আবহ। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের চিন্তাশক্তির উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছি। তবে সমাধান আছে, তা শুরু করতে হবে নিজ থেকেই। প্রথমত, দরকার সচেতনতা, নিজেকে জিজ্ঞেস করা, ‘আমি কতটুকু সময় স্ক্রিনে কাটাচ্ছি, আর তা থেকে আমি কী পাচ্ছি?’ প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা, নির্দিষ্ট সময়ে ফোন বন্ধ রাখা; এসব ছোট ছোট পদক্ষেপেই পরিবর্তন সম্ভব। দ্বিতীয়ত, মননশীল বই পড়া, ডকুমেন্টারি দেখা বা শিক্ষামূলক ভিডিও দেখার মাধ্যমে মানসম্পন্ন কনটেন্ট গ্রহণ করা। তৃতীয়ত, নির্দিষ্ট সময় ধরে একাগ্রচিত্তে কাজ করা ও মাঝেমধ্যে গভীর চিন্তা বা লেখালেখির চর্চা করা অর্থাৎ ডিপ ওয়ার্ক এর অভ্যাস গড়ে তোলা।


চর্তুথত, প্রতিদিন অন্তত একজন কাছের মানুষের সঙ্গে “ডিজিটাল ছাড়া” কিছু সময় কাটান, চোখে চোখ রেখে কথা বলুন, হাঁটুন, গল্প করুন, চুপচাপ বসেও থাকুন। এই নির্ভেজাল সংযোগ মস্তিষ্ককে প্রশান্ত করে, বিষণ্ণতা দূর করে অর্থাৎ পরিবার - প্রতিবেশীদের সাথে সময় কাটানো যেতে পারে। পঞ্চমত, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো, শরীরচর্চা, মেডিটেশন ইত্যাদি স্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। সবশেষে এক কথায়, মানসিক বিপ্লব বা সবকিছুর মূলে আছে আত্ম-শৃঙ্খলা। 


স্মরণ রাখা দরকার, মস্তিষ্ক একটি বাগানের মতো, যদি সেখানে প্রতিনিয়ত আগাছা ঢোকানো হয়, একদিন সব ফলপ্রসূ গাছই মরে যাবে। আমাদের উচিত সেই বাগানে যত্নের জল ঢালা, গঠনমূলক চিন্তা রোপণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় কনটেন্টের আগ্রাসন থেকে দূরে থাকা। প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অংশ, তবে সেটি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়। আমাদের উচিত প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা নিজের মস্তিষ্ককে জাগ্রত করতে, নিঃশেষ করতে নয়।


বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জেন-জি ও জেন-আলফা প্রজন্মের। তরুণ, সতেজ, সক্রিয় ও সংবেদনশীল এই শক্তিকে 'মস্তিষ্ক পচন' থেকে রক্ষা করতে হবে। এ দায়িত্ব একজন অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, আমলা, উপদেষ্টা সবার। এই দায়িত্ব পালনে সবাই ব্যর্থ হলে সমাজে অবধারিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। যার কিছু আলামত এখনই দৃশ্যমান, যেমন কিশোর অপরাধ ইত্যাদি প্রকট হওয়া।


মু. ইমন হোসেন

লেখক ও সংগঠক 


আরও খবর


6ad3adc1cb7fd-171026111753.webp
দুর্গোৎসব: পূজার আড়ালে যে মানবতার পাঠ

৫ দিন ১৯ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে


6ac3b9837d6ba-051026085147.webp
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তবুও অবহেলিত

১৭ দিন ১৩ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে