আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসা এই দিনটি একেকজনের কাছে ধরা দেয় একেক রঙে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ প্রজন্মের কাছে ঈদ মানে কেবল উৎসব নয়, বরং শিকড়ে ফেরা, নস্টালজিয়া আর আত্মোপলব্ধির এক সন্ধিক্ষণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একঝাঁক শিক্ষার্থীর ঈদ-ভাবনা দৈনিক দেশচিত্রের পাতায় তুলে ধরা হলো।
'ঈদ: দূরত্ব পেরিয়ে ভালোবাসার কাছে ফেরা'
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে ঈদ আমার কাছে এক অনন্য অনুভূতির নাম যেখানে আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে নস্টালজিয়া, স্বাধীনতা, দায়িত্ববোধ এবং প্রিয়জনের জন্য অদম্য টান। শৈশবের নির্ভেজাল উচ্ছ্বাস পেরিয়ে এখন ঈদকে আমি দেখি এক গভীর আবেগের আলোকে।
ঈদ আসার আগেই মন উড়ে যায় বাড়ির পথে। ক্লাস, প্রেজেন্টেশন, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার চাপের ভিড়ে জমে থাকা ক্লান্তি যেন এক নিমিষেই মিলিয়ে যায় 'বাড়ি ফিরব' এই ভাবনায়। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি তখন আর কষ্ট মনে হয় না কারণ জানি, দরজার ওপাশে অপেক্ষা করছে মায়ের স্নেহভরা মুখ, বাবার মমতা আর পরিবারের অকৃত্রিম ভালোবাসা। ঈদের সকাল, নতুন কাপড়ের গন্ধ, সেমাইয়ের মিষ্টি স্বাদ সবকিছু মিলিয়ে মনে হয়, জীবন আসলে কত সহজ আর সুন্দর হতে পারে।
আজকের দিনে ঈদ আর শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি হয়ে উঠেছে সম্পর্কের পুনর্মিলন, স্মৃতি তৈরির এক উপলক্ষ। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলা, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো, দূরের মানুষদের কাছে অনুভূতি পৌঁছে দেওয়া এসবই ঈদের আনন্দকে আরও গভীর করে তোলে।
সবশেষে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে ঈদ আমাকে শেখায় সুখ বড় কিছুর মধ্যে নয়, বরং ছোট ছোট মুহূর্তের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, পরিবার আর আত্মিক প্রশান্তির যে মেলবন্ধন ঈদ এনে দেয়, তা-ই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তিগুলোর একটি।
মোঃ শাফায়াত হোসেন (সিয়াম)
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
'ছোটবেলার ঈদ আর নেই'
ঈদ এখনো আসে, কিন্তু আগের মতো আর মন ভরে না। ছোটবেলায় ঈদের আগের রাত মানেই ছিল অদ্ভুত এক উত্তেজনা। নতুন জামা বালিশের পাশে রেখে ঘুমানো, ভোরে উঠে সবার আগে প্রস্তুত হওয়ার চেষ্টা, আর সারাদিন শুধু আনন্দের হিসাব। এখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী, সময় আর বাস্তবতার ভিড়ে সেই সরল আনন্দগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। ঈদের ছুটিতেও ব্যস্ততা পিছু ছাড়ে না, অ্যাসাইনমেন্ট, ভবিষ্যতের চিন্তা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, সবকিছু মিলে উৎসবটাকে কেমন যেন নিঃশব্দ করে দেয়। চারপাশে মানুষ থাকে, পরিবার থাকে, তবুও ভেতরে এক ধরনের একাকিত্ব গুমরে ওঠে, যেন কিছু একটা নেই, যেটা আগে খুব সহজেই ছিল। হয়তো বড় হওয়াটাই এমন, যেখানে আনন্দের রঙ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়, আর ঈদ শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ হয়ে দাঁড়ায়, অনুভূতির নয়।
তাসফিয়া মাহমুদ মৌনি
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
'দূরত্ব ছাপিয়ে যে ঈদ'
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে ঈদ আমার জীবনে এক গভীর আবেগের নাম। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং ফিরে পাওয়ার, ভালোবাসা অনুভব করার এবং নিজেকে নতুন করে খুঁজে নেওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ। শৈশবের সেই নির্ভার ঈদ আজ রূপ নিয়েছে অনুভূতির এক পরিণত জগতে।
ঈদের আগমনী বার্তা পেলেই মন ছুটে যায় বাড়ির পথে। ব্যস্ত ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার চাপের ভিড়ে জমে থাকা ক্লান্তি মুহূর্তেই মিলিয়ে যায় “বাড়ি ফিরব” এই আশায়। দীর্ঘ যাত্রা, ক্লান্ত শরীর—সবকিছু তখন তুচ্ছ হয়ে পড়ে, কারণ সামনে অপেক্ষা করে প্রিয় মানুষগুলোর সান্নিধ্য। মায়ের রান্না, বাবার স্নেহমাখা কথা, পরিবারের সবার সঙ্গে একসাথে সময় কাটানো এসবই ঈদকে করে তোলে পূর্ণতা পাওয়া এক অনুভূতি।
জাকিয়া ইসলাম
এগ্রিকালচারাল সায়েন্স বিভাগ।
'ঈদ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি একটি অনুভূতি, একটি উপলব্ধি'
ঈদ কেবল একটি উৎসব নয়—এটি একটি অনুভূতি, একটি উপলব্ধি। এই উপলব্ধি তখনই পরিপূর্ণতা পায়, যখন আমরা আনন্দকে ভাগাভাগি করি এবং অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।
আমি একজন শিক্ষার্থী, পাশাপাশি একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এই ঈদে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণের সময় একটি বিষয় গভীরভাবে অনুভব করেছি। তাদের মুখের হাসি এবং আন্তরিক দোয়া এমন এক তৃপ্তি এনে দেয়, যা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও অর্জন করা সম্ভব নয়। এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, প্রকৃত আনন্দ ভোগে নয়—বরং ত্যাগে, সহমর্মিতায় এবং অন্যকে খুশি করার মধ্যেই নিহিত। সহমর্মিতার মাধ্যমে ঈদের পূর্ণতা
ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু নিজের আনন্দে সীমাবদ্ধ না থেকে, সমাজের অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে প্রকৃত ঈদের চেতনা। তরুণ সমাজ এই পরিবর্তনের অগ্রদূত হতে পারে। তাদের চিন্তা ও উদ্যোগের মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে একটি সহমর্মিতাপূর্ণ ও মানবিক সমাজ।
মোঃ হানিফ বিন রফিক
শিক্ষার্থী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
২ দিন ৩ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
২ দিন ৩ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
২ দিন ১৬ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
২ দিন ১৭ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৩ দিন ৮ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৩ দিন ৮ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৩ দিন ৮ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে