তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ টেস্ট জয় বাংলাদেশের উলিপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের বড় দর পতন মৌলভীবাজার ইসলামিক স্কুলে ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন জাতি গঠনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর ট্রেজারার কানন সম্পত্তির জন্য সন্তানের হাতে বাবা ও ভাই খুন শার্শায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: পরোয়ানাভুক্ত ৭ জন গ্রেফতার শিবচরে জুয়া-মাদকের অন্ধকার সাম্রাজ্য: রাতভর মোটরসাইকেলের বহর, আতঙ্কে স্থানীয়রা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : পীরগাছায় আখতার হোসেন পীরগাছায় তানজিমুল হিকমাহ রেসিডেন্সিয়াল মডেল একাডেমি পরিদর্শনে এমপি আখতার হোসেন পীরগাছায় আল ফোরকান ক্যাডেট মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ দিনাজপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসা ও তার সহযোগী কথিত স্ত্রী গ্রেফতার আলোচিত টিকটকার শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র প্রত্যাহার লাখাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ওসির মতবিনিময়। পিস্তল ও গুলিসহ বিরামপুরের ‘মাদক সম্রাট’ রবিউল আটক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা নান্দাইলে আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ শার্শা সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৩০ বোতল মাদকসহ যুবক আটক

জাতি গঠনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

বাসস ডেস্ক - রিপোর্টার

প্রকাশের সময়: 12-05-2026 08:41:39 pm


আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিআইডি

ঢাকা, ১২ মে, ২০২৬ (বাসস): জাতি গঠন এবং দেশকে এগিয়ে নিতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে এই সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখারও আহ্বান জানান, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।


অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রী কাবেরী আজাদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আর্টিস্টদের শিল্প বাজার প্রসারে সরকারের কোনো পদক্ষেপ বা কোনো ধরনের পরিকল্পনা আছে কি না?


উত্তরে কাবেরী আজাদকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তরটা আমি একটু ভিন্নভাবে দেব। এই যে আপনারা অনেক কিছু চাইছেন, মনে করছেন হওয়া উচিত কিন্তু সব কিছুই ধীরে ধীরে তৈরি করতে হয়। এজন্য দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ লাগবে। আমরা যদি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না রাখতে পারি, তাহলে আমরা কোনো কিছুই তৈরি করতে পারবো না। তৈরি হবে, ভেঙে যাবে। সেজন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার।


তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আপনাদের প্রত্যেক স্টুডেন্টের একটি বড় ভূমিকা আছে। সেটা সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা অন্য যেকোনো মাধ্যম। কিন্তু ওপিনিয়ন আপনাদেরই তৈরি করতে হবে। আমরা রাজনীতি করব এবং করেছি। রাজপথে অনেক কিছু এখন স্থিতিশীলতা আসতে হবে। রাজনীতিকে সংসদে নিয়ে যেতে হবে। শুধু রাজপথে এসে হইচই করলেই কোনো কিছু গড়ে তোলা যায় না।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কিছু গড়ে তোলার জন্য কিন্তু স্থিতিশীলতা লাগে, বসে আলোচনা করতে হয়, চিন্তা করে কাজে হাত দিতে হয়। কাজেই আপনাদের কাছ থেকেই এই সহযোগিতা আসতে হবে। কারণ, আপনারাই আগামির ভবিষৎ। আপনাদের শক্ত হতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। কাবেরী আপনার প্রশ্নের উত্তরটা আমি ডাইরেক্টলি দিলাম না। বাট, আমি যেভাবে চিন্তা করি- সেভাবে বললাম।’


সরকারের একটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলের বাচ্চাদেরকে আমরা সংসদে নিয়ে যাচ্ছি। তারা দেখবে। আমার একটি অভিজ্ঞতা ছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দেখার। ওখানে গাইডেড টুল সিস্টেম আছে। টিকিট কেটে গেলে পুরো পার্লামেন্ট দেখা যায়। যেখানে ইতিহাস, ঐতিহ্য বলবে- সবকিছু একসঙ্গে দেখার সুযোগ মিলবে।


ব্যাপারটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল এবং যেদিন আমি দেখেছিলাম, সেদিনই চিন্তা করেছিলাম যে, আমার যদি ইনশাআল্লাহ কোনোদিন সুযোগ হয়, তাহলে আমি এই ব্যবস্থাটা আমার দেশের বাচ্চাদের জন্য করার চেষ্টা করব।’


তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আই কুড স্টার্ট ইট, আই কুড ডু ইট। এখন শুধু ঢাকার স্কুলের বাচ্চারা আসছে। ইনশাআল্লাহ আস্তে আস্তে অন্যান্য জেলার বাচ্চাদেরকে আমরা ধীরে ধীরে আনবো। তারা পার্লামেন্ট দেখবে, সেশন দেখবে, পার্লামেন্ট বিল্ডিংয়ের একটা হিস্ট্রি আছে, এটার লিগ্যাসি আছে, কীভাবে কী হলো- এই সবগুলো তারা জানবে।’


বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ৩৫ বছর পর নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘স্টুডেন্টস, আপনারা কেমন আছেন? ভালো আছেন সবাই? আপনাদেরকে দেখে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে যে, আজকে থেকে কত বছর হলো? প্রায় ৩৫ বছর আগে ফিরে গিয়েছি। আমি আসার সময় আমাকে এই যে ইউজিসির প্রোগ্রামটা শেষ করার পরে- আমাকে ওখানে জিজ্ঞেস করলেন যে, আমি গাড়িতে যাবো নাকি হেঁটে যাবো। এত বছর পরে সেই ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এসে আমার খুব ইচ্ছা ছিল হেঁটে একটু দেখতে দেখতে আসবো। বাট সেই সৌভাগ্য হয়নি আমার। ইনশাআল্লাহ আরেকবার আসতে হবে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের (শিক্ষার্থী) সাথে আমার বয়স বলেন সবকিছু মিলে অনেক গ্যাপ। আমি জানতে চাই, আপনারা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান। বাংলাদেশের জন্য কী কী আমরা করতে পারি? আমি জানতে চাই বাংলাদেশের জন্য আপনারা কী কী করতে পারেন? আমরা এগুলো নিয়ে আলাপ করব আজকে। চলেন আলাপ শুরু করি।’


প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম প্রশ্ন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবাশেরুজ্জামান হাসান। তার প্রশ্ন ছিল- বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং প্রত্যেকটি হলে আমাদের একটি সিট নেওয়ার জন্য প্রায় প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হয়। কিন্তু শত পরিশ্রম এবং যুদ্ধের পরেও আমরা আমাদের যে স্বপ্নগুলো আছে, সে স্বপ্নগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারছি না। আমাদের পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং আমাদের প্রশ্নফাঁস, ডিভাইস পার্টি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি- এই বিষয়গুলোর কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমরা জানতে ইচ্ছুক, আমাদের পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং আমাদের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে যে অনিয়মগুলো আছে, সেগুলো নিরসনে আপনার সরকার এবং আপনার পরিকল্পনা কী?


মোবাশেরুজ্জামান হাসানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাশেরুজ্জামানকে ধন্যবাদ। পরবর্তী যারা বলবেন, দয়া করে মাননীয় বলার দরকার নেই। শুধু প্রাইম মিনিস্টার বললেই হবে। আপনি বেশ অনেকগুলো প্রশ্ন করেছেন। প্রথমেই আপনি হলে থাকার বিষয়টা বলেছেন, এটা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, কমবেশি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমস্যাগুলো আছে। আমি গতকাল পুলিশের এসপি-ডিআইজিদের তাদের এক মতবিনিময় সভায় বলেছিলাম যে, অতীতে দেশের মানুষের সম্পদ নিয়ে কীভাবে তছরুপ করা হয়েছে? পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় আমরা জেনেছি আমি ঘটনাগুলো বলেছি গত এক যুগ, বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর থেকে অনেক বড় বড় প্রজেক্ট হয়েছে। ভালো প্রজেক্ট হতেই পারে, একটি দেশের জন্য প্রয়োজন আছে। কিন্তু সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যেটা ঘটেছে, তা হলো- রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের নজিরবিহীন দুর্নীতি।’


এরপর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্নীতি, বালিশ কাণ্ড, বিভিন্নভাবে অর্থ পাচার প্রভৃতি ঘটনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা আপনার এই সিটের সমস্যার সমাধান করতে পারতাম, সেটা লাইব্রেরিতে হোক, বা যেকোনো সমস্যা। আপনাদের হলে যারা থাকেন, তাদের খাবারের সমস্যা অনেকাংশেই আমরা সমাধান করতে পারতাম। কিন্তু প্রতিবছর যদি ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়, তাহলে ১০ বছরে কত বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে হিসাব করলেই বুঝতে পারবেন। ফলে ইচ্ছে থাকলেও সব সমস্যা সমাধান করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হয় না।’


তিনি বলেন, ‘অনেকে দুর্নীতির জিরো টলারেন্সের কথা বলেন। আমার কাছে কথাটা অবাস্তব মনে হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট আমরা যতই বলি জিরো টলারেন্স, এটা একটা অবাস্তব ব্যাপার। ডু ইউ বিলিভ দিস? আপনারা কেউ বিশ্বাস করেন যে জিরো টলারেন্স সম্ভব?’


এই সময়ে শিক্ষার্থীরাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি বিশ্বাস না করেন। আমি কেন বিশ্বাস করব এটা? কিন্তু আমরা যেটা চেষ্টা করছি এই বিষয়টাকে যতটুকু লাগাম টেনে ধরা যায়। এত বছরের বিষয়টা আমরা দুই মাস, ছয় মাস, এক বছর, দুই বছরে পারব না। এটা একটা অভ্যাসের ব্যাপার।’


প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে আসার সময়ের একটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘আজকে সকাল বেলায় আসার সময় আমি ওই যে মহাখালীতে এসে লেফটে একটা ফ্লাইওভারে উঠতে হয়, যেটা হলো- মহাখালী এক্সপ্রেসওয়ে। আমি যখন টোল দিয়ে সামনে যাচ্ছি, তখন হাতের বাম পাশে যে অ্যাপার্টমেন্টগুলো আছে, সেখানে দেখলাম একটা অ্যাপার্টমেন্টের ট্যাংকি থেকে পানি পড়ছে। মানে পানির মেশিনটা বন্ধ করেনি, কারো খেয়ালও নেই। চারতলা না পাঁচতলা বিল্ডিং থেকে পানি পড়ছে। অ্যাকচুয়ালি আমার দৃষ্টিতে এটা এক ধরনের ইগনোরেন্স অথবা এক ধরনের দুর্নীতি বলা যায়।’


তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা দেখছি যে, ট্রাফিক আইনের যে বিষয়টি এখন এআই দিয়ে শনাক্ত করা হচ্ছে। এটাতে অনেক মানুষ কিন্তু রিঅ্যাক্ট করছে। হ্যাঁ আমি সামান্য ভুল করেছি, তাতেই ফাইন চলে আসলো। এতে মানুষ পরিস্থিতি চিন্তা না করেই বিরক্ত হচ্ছে।’


‘অন্যদিকে কক্সবাজারে বনাঞ্চল গাছ কাটা নিষেধ। ওখানকার যারা স্থানীয় বাসিন্দা, তারা আপত্তি জানায়। কারণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই কাজটি (গাছ কাটার কাজ) করে আসছে। ফলে এটি যে অনৈতিক কাজ তা তাদের ধারণায় নেই। তাই মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।’


অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সকালে আমি বলেছিলাম- আমার বক্তব্যে দুঃখজনক হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলতে আমরা যা বুঝি, ইন্টারন্যাশনালি র‌্যাংকিংয়ের মধ্যে পড়ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে যে, এখানে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ হওয়া উচিত ছিল, অতীতে সেভাবে হয়নি। দূর থেকে এটা আমরা শুনেছি, পত্র-পত্রিকায় পড়েছি যে, এখানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পলিটিক্যাল বায়াসনেসটা বেশি প্রায়োরেটি পেয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘আমরা যদি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রেজাল্ট দেখে, মেরিট দেখে নিয়োগ দেই তাহলে এই অবস্থাটার পরিবর্তন করা সম্ভব। এর বাইরেও শিক্ষকদের বেলায় ডিন বা উচ্চ পদের জন্য পাবলিকেশন দরকার হয় সেগুলোর অনুপস্থিতি দেখছি। আমরা যদি এই বিষয়গুলো অনুসরণ করি, তবে মেধার বিকাশ ঘটবে। আমি ভিসি সাহেবকে অনুরোধ করব যে, আগামীতে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে।’


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষার্থী আল আমিনের প্রশ্ন ছিল, বাংলাকে অনেকে গুরুত্ব দিতে চায় না। যেকোনো দেশের মাতৃভাষা এবং রাষ্ট্রভাষা যেটা ফাস্ট ল্যাংগুয়েজ বা প্রধান ভাষা। এটা বাদ দিয়ে সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ বা অন্য কোনো ভাষাতে পড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা নিজের ভাষা যেটা মাতৃভাষা এটাও ঠিকমতো বলতে বা পড়তে পারে না। এক্ষেত্রে ইংরেজিতে একটা প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যাদের নিজের ভাষার প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই। এক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী স্যারের কাছে আমার প্রশ্ন ইংলিশ মিডিয়ামের যে কারিকুলাম এখানে, বাংলা আরেকটু কার্যকরী বা বাধ্যতামূলক করা হবে কি না?


জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলআমিন মানে বিশ্বাসী। প্রশ্নের উত্তরটা আমি দিচ্ছি। আমার ব্যক্তিজীবনের বিষয়টা আছে। আমি, আমার পরিবার যখন এই দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হই, তখন আমার সন্তানের বয়স ছিল ১২ বছর। তার মানে এমন একটা সময় ওকে চলে যেতে হয়েছে যখন মানুষ বেড়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবে ওর পড়া-লেখা, মন-মানসিকতা ওই সময় মানুষের চেঞ্জ হয়, গড়ে উঠে।’


তিনি আরো বলেন, আপনি যদি ওকে (জাইমা রহমান) আজকে জিজ্ঞেস করেন, দেশের ৬৪টা জেলার নামসহ অধিকাংশ থানার নাম বা উপজেলার নাম আমার মেয়ে বলে দিতে পারবে। আমার মেয়ের সাথে যদি কথা বলেন, আপনার কখনোই মনে হবে না যে, ও ১৭ বছর ইংল্যান্ডে ছিল। ওর পড়ালেখা, বন্ধু-বান্ধব সবকিছু বিদেশি মনে হবে না। কেন জানেন? এটা হচ্ছে মানসিকতার ব্যাপার, এটা হচ্ছে পরিবারের বিষয়। আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই না।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে একটা মানসিকতা আছে- যেই বাচ্চারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে তাদের পরিবার বা আশপাশে সবাই তার সাথে সারাক্ষণ ইংরেজিতে কথা বলতে চায়। ফলে তার মধ্যে মাতৃভাষার ব্যবহার কমে যায়। তাই এই অভ্যাসগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে।’


তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনার উত্তর পেয়েছেন আলআমিন? বিশ্বাসীকে এই বিষয়টা বিশ্বাস করতে হবে।’


এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন।


কর্মশালা শেষে বেলা পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন থেকে তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এসে পৌঁছান। মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।


অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপবিষ্ট ছিলেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং ঢাবি সিন্ডিকেট অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

আরও খবর