খুলনার কয়রায় জমি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় নিহত ১ টাঙ্গাইলে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ নিহত ১ অনুপ্রবেশ আশঙ্কায় সতর্ক সীমান্তরক্ষী বাহিনী ঈশ্বরগঞ্জের আনোয়ারুল হক জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত লাখাইয়ে মন্দিরে অপবিত্র মল ও শশ্মানে ভাংচুর, আতংকিত হিন্দু সমাজ । কলারোয়ায় বাল্যবিবাহ, মাদকদ্রব্য, ইভটিজিং ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা সাতক্ষীরায় র‍্যাবের অভিযানে এনজিওর ৮ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎকারী গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে জাম্বুরাছড়ার বেহাল সড়ক সংস্কার ও পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধন লাখাইয়ের বাজারে কলমিশাক নিয়ে বিরুধের জেরে সংঘর্ষে আহত_৩। বাঘায় পৌর প্রকৌশলী বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ শান্তিগঞ্জে পিএফজি-ওয়াইপিজি'র ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত ‎হোসেনপুরে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরগঞ্জে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সীলগালা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক হলেন নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ ঝিনাইগাতীতে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড, অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা ইউএনওর ঝিনাইগাতীতে অবৈধ বালু পাচার ঠেকাতে গিয়ে হামলার শিকার দুই বনকর্মী ঘাটাইলে নিখোঁজের চারদিন খাল থেকে বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার ‎সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সফল অভিযান: অস্ত্র ও গুলিসহ আটক কুখ্যাত বনদস্যু বাহিনীর সদস্য জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে পিকনিকের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু দেশে ফিরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

বেতনার স্রোতে ভাঙছে বুধহাটা: অপরিকল্পিত খননে বাজার এখন ঝুঁকির মুখে



সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র বুধহাটা বাজার আবারও বেতনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর খরস্রোতা প্রবাহে প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ ক্ষয়ে যাচ্ছে, আর তাতে করে বাজারসহ আশপাশের জনবসতি এলাকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক নদী খনন কার্যক্রমে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবই এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

বুধহাটা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণাংশ, পূর্ব দিক এবং উত্তর-পশ্চিম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের ইতিহাস রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০ থেকে ৪০ বছর আগেও এসব এলাকায় ভাঙন ছিল। একই সময়ে নদীর অপর পাড়ে বাহাদুরপুর এলাকায় পলি জমে জমে নদীর বিশাল অংশ ভরাট হয়ে যায়। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং স্রোতের চাপ গিয়ে পড়ে বাজারসংলগ্ন তীরে। এতে ধীরে ধীরে ভেঙে সংকুচিত হতে থাকে বাজারের পরিধি।

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন, নদী খননের সময় ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন (ডাইভারশন) করা হোক। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং ভাঙনকবলিত তীর রক্ষা পাবে। পাশাপাশি সিএস ও ডিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদীর প্রকৃত সীমানাও পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে মনে করেন তাঁরা।

কিন্তু বাস্তবে খননকাজে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, ভরাট হওয়া অংশ অক্ষত রেখে ভাঙনপ্রবণ এলাকাতেই খনন করা হয়েছে। এতে নদীর স্রোত আরও তীব্রভাবে বাজারমুখী হয়ে ওঠে। ফলাফল হিসেবে নদী চালুর পর থেকেই পুনরায় শুরু হয়েছে ভাঙন। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ হাত এলাকা নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রতিদিনই ২ থেকে ৩ হাত করে বাঁধের মাটি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

এদিকে ভাঙনের প্রভাব শুধু স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ নয়, নদী পারাপারেও তৈরি হয়েছে চরম ঝুঁকি। স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি এক ঘটনায়, নৌকা তীরে ভিড়তে গেলে হঠাৎ করেই পাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। বিশেষ করে এক শিশুযাত্রীর প্রাণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সবাই প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ পরিস্থিতি কেবল প্রাকৃতিক নয়; বরং পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফল। তাঁরা বলছেন, নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় না নেওয়ার কারণে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে।

এ বিষয়ে জজ কোর্টের এপিপি ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম বলেন, “নদীর ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে স্রোতকে সঠিক পথে প্রবাহিত করতে হবে। তা না হলে বুধহাটা বাজার ও আশপাশের এলাকা রক্ষা করা সম্ভব হবে না।” তিনি দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদী খনন শুধু পলি অপসারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে স্রোতের গতি, তীররক্ষা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় ভূপ্রকৃতির সমন্বিত বিশ্লেষণ। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পই হয়ে উঠতে পারে নতুন বিপদের কারণ।

বুধহাটা বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, একসময় হয়তো এই ঐতিহ্যবাহী বাজার মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন স্থানীয়দের মনে ঘুরপাক 

Tag
আরও খবর