বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ঝিনাইগাতীর গজনী পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন আক্কেলপুরে ধান কাটার কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে নিহত -১ ভূরুঙ্গামারী টু রংপুর রুটে বন্ধ হওয়া মেইল বাস চালুর দাবিতে নাগেশ্বরীতে মানববন্ধন চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদারে বিট পুলিশিং সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত আদমদীঘিতে গলায় দুধ আটকে ও পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু বগুড়ার আদমদীঘিতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ বাস যাত্রী গ্রেপ্তার আক্কেলপুরে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা! আটক ১ ক্ষেতলালে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড লাখাইয়ের পরিদর্শিকা সুচিত্রার রমরমা বানিজ্য,সেবা নিতে আসা রোগীদের নানা ভোগান্তি। আশাশুনির বাওচাষে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা, স্কুলের অফিস সহকারী বিকাশকে সাসপেন্ড সোনাগাজীর হাবিবুর রহমান যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত নিজস্ব প্রতিবেদক: লালপুরে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের, আহত ৩ ডেঙ্গু মুক্ত মধুপুর গড়তে সচেতনতা র‍্যালি গোয়ালন্দে পৌরসভার গাড়ী ব্যবহার করে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি সরবরাহের অভিযোগ গোয়ালন্দে যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় বিচার দাবি, মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় চালক সুপারভাইজার ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা ডেঙ্গুমুক্ত অভয়নগর গড়তে এককাট্টা প্রশাসন ও রাজনৈতিক দল: হাসপাতাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি ‎মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরা সুন্দরবনের সেই বাঘিনী: জুন মাসের শেষেই ফিরছে আপন আবাসে

গোয়ালন্দে প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গনহত্যা দিবস পালিত, অর্থাভাবে থেমে আছে ভাস্কর্য নির্মান কাজ

গোয়ালন্দে প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গনহত্যা দিবস পালিত, অর্থাভাবে থেমে আছে ভাস্কর্য নির্মান কাজ আজ ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার গোয়ালন্দ প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গণহত্যা দিবস। মুক্তিকামী জনতা এই দিন প্রিয় গোয়ালন্দকে রক্ষা করতে যার যা ছিল তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করেছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল ভোরে মানিকগঞ্জের আরিচাঘাট থেকে একটি গানবোট ও একটি কে-টাইপ ফেরি বোঝাই করে পাকবাহিনী প্রথম এসে নামে পদ্মাপারের গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর কামারডাঙ্গি এলাকায়। সেখান থেকে পাক বাহিনী বাহাদুরপুর এলাকায় এগিয়ে এলে স্থানীয় জনতার সহায়তায় ইপিআর, আনসার ও মুক্তিবাহিনী হালকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় হানাদারদের বুলেটে প্রথম শহিদ হন আনসার কমান্ডার ফকির মহিউদ্দিন। এছাড়া শহিদ হন হাবিল শেখ ও ছবেদ আলী মণ্ডল নামে আরও দুই ব্যক্তি এবং গুলিবিদ্ধ হন অনেকে। তবে পাক বাহিনীর ভারি অস্ত্র-সস্ত্রের সামনে প্রতিরোধ যুদ্ধ দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়নি। এরপর পাকবাহিনী ঘাটে নেমে পার্শ্ববর্তী বালিয়াডাঙা গ্রামে ঢুকে নিরীহ গ্রামবাসীর ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেখানে হানাদারদের বুলেটে শহিদ হন ওই গ্রামের স্বাধীনতাকামী অনেক নিরীহ নারী-পুরুষ। গনহত্যার শিকার নারী-পুরুষরা হলেন ছবেদ আলী, হাবিল মন্ডল, কবি তোফাজ্জল হোসেন, জিন্দার আলী মৃধা, নায়েব আলী বেপারী, মতিয়ার রহমান, জয়নদ্দিন ফকির, কাদের মোল্লা, হামেদ শেখ, কানাই শেখ, ফুলবরু বেগম, মোলায়েম সরদার, বরুজান বিবি, আমজাদ হোসেন, মাধব বৈরাগী, আহাম্মদ আলী মন্ডল, খোদেজা বেগম, করিম মোল্যা, আমোদ শেখ, কুরবান শেখ, মোকসেদ শেখ, নিশিকান্ত রায়, মাছেম শেখ, ধলাবরু বেগম, আলেয়া খাতুন, বাহেজ পাগলাসহ নাম না জানা আরো অনেকে। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে গনহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো শেষে পাক বাহিনী গোয়ালন্দ বাজারে প্রবেশ করে আগুন দিয়ে বাজারের দোকানপাট পুড়িয়ে দেয়। পুড়িয়ে দেয় আনছারদের ক্লাব ঘরটিও। এভাবে আনছার ক্লাবটি পুড়িয়ে দেয়ায় আনছারদের সমস্ত ডকুমেন্টস ধ্বংস হয়ে যায়। পাশাপাশি তাদের কমান্ডার ফকির মহিউদ্দিন শহীদ হয়ে যাওয়ায় পরবর্তীতে আনছার বাহিনীর অনেক প্রতিরোধ যোদ্ধা পরবর্তীতে তথ্য প্রমানের অভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। এদিকে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ২১ এপ্রিল প্রতিরোধ যুদ্ধ ও গনহত্যা দিবসটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া ও আলোচনা সভার মাধ্যমে পালন করেছেন এলাকাবাসী। বাহাদুরপুর গ্রামে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৭ অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল বাহাদুর। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন প্রতিরোধ যুদ্ধের যোদ্ধা, সরকারী গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক  অধ্যক্ষ খোন্দকার আব্দুল মুহিত, গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম মন্ডল, অবসরপ্রাপ্ত পিটিআই ইন্সট্রাক্টর মফিজুল ইসলাম তানসেন, উজানচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও  গোয়ালন্দ মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য পরিষদের সদস্য সেলিম খান সলিম, সদস্য জিয়াউল হক বাবলু,  অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা বাবলু বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, গনহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও এলাকাবাসী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনটি করেন শেখ নাজিম উদ্দিন রাসেল। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল বাহাদুর বলেন, ২১ এপ্রিলের ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে তারা পারিবারিকভাবে প্রতিরোধযুদ্ধ এলাকায় জমি দান করেছেন। কয়েক বছর আগে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের অর্থায়নে এখানে একটি ভাস্কর্য নির্মানের কিছুটা কাজ করা হয়। কিন্তু নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ভাস্কর্যটির অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি এ বিষয়ে স্হানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
আরও খবর