গাজীপুরের গ্রামাঞ্চলে এখন ধান কাটার মৌসুমে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। মাঠজুড়ে সোনালি ধান কেটে গুছিয়ে রাখা হচ্ছে সারি সারি করে। বৈশাখের দাবদাহ শুরু হলেও নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে ক্লান্তি ভুলে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। কৃষকদের আশা, নতুন ধান ঘরে তুলে শিগগিরই নবান্ন উৎসব পালন করবেন পরিবার-পরিজন নিয়ে।
তবে এই আনন্দের মাঝেই বাড়ছে দুশ্চিন্তা। কৃষকদের অভিযোগ, ধান কাটতে প্রতি পাহিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। অথচ বাজারে ধানের দাম মিলছে মাত্র প্রায় ১ হাজার টাকা মণ। উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের এই বড় ব্যবধান কৃষকদের হতাশ করে তুলেছে। অনেকেই বলছেন, এত বেশি খরচ করে ধান উৎপাদন করে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে ধান কাটার খরচ বেড়েছে। এতে ছোট ও মাঝারি কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করছেন, আবার কেউ ধান ঘরে তুলে দাম বাড়ার আশায় অপেক্ষা করছেন।
এর মধ্যে নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। গত বুধবার রাতে গাজীপুর-এর বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। অনেক ক্ষেতেই কাটা ধান ভিজে গেছে, কিছু জায়গায় জমিতে পড়ে থাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ফসল ঘরে তোলার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খরচের চাপ, কম দাম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন গ্রামবাংলার কৃষকেরা। তাদের দাবি, সরকারিভাবে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষি সহায়তা বৃদ্ধি না হলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ কমে যেতে পারে।