মৌলভীবাজারে অতিবৃষ্টি ও ঢলে তলিয়ে গেছে ধান, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ আশ্রয়কেন্দ্র, জিআর চালসহ নগদ টাকা বরাদ্দ ময়মনসিংহের আসামী সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার অপরিপক্ব আমে কার্বাইড ব্যবহারের অভিযোগ, ধ্বংস ৯ হাজার কেজি আম দেবহাটায় ১৫৬৬ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক ২ দিনাজপুরে র‌্যাব-১৩ এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যার রায় গৃহশিক্ষকের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড লালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সাময়িক বরখাস্ত আক্কেলপুরে দাখিল পরীক্ষায় নকল করায় মাদ্রাসা ছাত্রী বহিষ্কার দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত ধান কাটা ও শুকানো—দুই ক্ষেত্রেই বিপাকে কৃষক, বাড়ছে লোকসানের আশঙ্কা। বাজেট সংকটে থমকে আছে বুটেক্সের স্টেশনারি সম্প্রসারণ প্রকল্প চৌদ্দগ্রামে মাদক নিয়ে সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু পারিবারিক কলহে যশোরে গৃহবধূর প্রাণহানি: বকচর হুশতলায় শোকের ছায়া শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের শাস্তির দাবিতে কচুয়ায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন রায়পুরে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাছির বেপারী অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ইউএনওর অফিস কক্ষে সাংবাদিকের উপর হামলা ও মারপিট মৌলভীবাজারে পাহাড়ি ঢলে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দী ৫ শতাধিক পরিবার জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ইউএনও'র অফিস কক্ষে সাংবাদিকের উপর হামলা

মৌলভীবাজারে অতিবৃষ্টি ও ঢলে তলিয়ে গেছে ধান, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ আশ্রয়কেন্দ্র, জিআর চালসহ নগদ টাকা বরাদ্দ

বিপৎসীমার ২৩৬ সেন্টিমিটার ওপরে জুড়ি নদীর পানি, তিন দিনে ২৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড


মৌলভীবাজারে গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার রাজনগর, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাওরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে মানুষের ঘর-বাড়ি, প্রতিষ্ঠান, সড়ক, বোরো ফসল ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। এছাড়া জেলার বৃহত্তম হাওর হাকাকালুকি এবং কাওয়াদিঘী হাওরসহ জেলার নিম্নঞ্চলের বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পাকা ধান কাটতে না পেরে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

একই সঙ্গে জেলার চারটি নদীতে বেড়েছে পানি। বিশেষ করে জেলার জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩৬ সেন্টিমিটার ও কমলগঞ্জের ধলই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এদিকে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র, ১০০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ও আখাইকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের শতাধিক হেক্টর জমির কাঁচাপাকা বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। 

হাওরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, কাওয়াদিঘি ও হাকালুকি হাওরের শত শত হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটার আগ মুহূর্তে চোখের সামনে সোনালি ফসল তলিয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এলাকার শত শত কৃষক। বন্যার এ পরিস্থিতিতে আধাপাকা বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। 

শ্রমিক সংকট, অস্বাভাবিক মজুরি বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

কাউয়াদীঘি হাওরের বেতাগুঞ্জা গ্রামের কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে যারা কাজ করছেন, তাদের অর্ধেক সময় কাজ করলেও পূর্ণ দিনের মজুরি দিতে হচ্ছে। তিনি জানান, একজন শ্রমিকের জন্য প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা ব্যয় হলেও বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকায়। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

কৃষক সাইফুল মিয়া বলেন, কষ্ট করে ধান কেটে আনার পরও রোদের অভাবে তা শুকানো যাচ্ছে না। ভেজা ধান স্তুপ করে রাখায় তাতে চারা গজিয়ে যাচ্ছে, ফলে তা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। 

কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের পানিবন্দী কাওছার আহমেদ বলেন, দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বাড়িতে পানি উঠেছে এবং আমাদের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া আমাদের বোরো ধান সব তলিয়ে গেছে। টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। সব মিলিয়ে মহাকষ্টের মধ্যে আছি। 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রাম চন্দ্র পাল, জমির মিয়া, রবি দত্ত জানান, হাড়ভাঙা খাটুনি আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা এবার চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা নিঃস্ব। অনেক কৃষককে বুক সমান পানিতে নেমে আধা-পাকা ধান কাটার নিরর্থক চেষ্টা করতে দেখা গেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার গোগালি ছড়া বাঁধ ভাঙনে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর,গাজিপুর, পুরন্দপুর,হরিপুর, বড়কাপন এবং জয়চন্ডী ইউনিয়নের দানাপুর, কামারকান্দি লামাগাঁও গ্রামে ১শ  হেক্টর আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজ তলা, শতাধিক পুকুর তলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। 

এ ব্যাপারে কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু জানান, বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের গাজিপুর গ্রামে ২০ বিঘা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুশ শহীদ জানান, গোগালি ছড়া ভাঙনে এ ইউনিয়ন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা অশ্বিনী কুমার সিংহ বলেন, পাহাড়ি ঢলে বালিয়াছড়ার পানি উপচে ও বাঁধ ভেঙে প্রায় ১ হাজার  হেক্টর বোরো ধান বর্তমানে প্লাবিত হয়েছে। ফসলের এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। 

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন জানান, সদর ও জয়চন্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। পাহাড়ি ঢলে এ উপজেলার ১০-১৫টি গ্রামে পানি প্রবেশ করে। কয়েক জায়গায় রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 

কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বেশ কিছু এলাকা তলিয়ে গেছে। উত্তর বালিগাঁও গ্রামে বালিয়াছড়ার পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫শ  হেক্টর বোরো ফসলের মাঠ। ছড়ার একটি স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং আরও তিনটি পয়েন্ট দিয়ে পানি উপচে পড়ার ফলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।  সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। 

একইভাবে কুলাউড়, বড়লেখা এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বলে খার পাওয়া গেছে। 

স্থানীয়রা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বালিয়াছড়ার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তীব্র চাপে ছড়ার একটি অংশ ভেঙে পানি ঢুকছে ফসলি জমিতে। এছাড়া পাড় নিচু হওয়ায় ৩টি স্থান দিয়ে পানি উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। বর্তমানে উত্তর বালিগাঁও গ্রামের অধিকাংশ জমি পানির নিচে রয়েছে। 

কমলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোছা. আমিনা বেগম জানান, ছড়াটি দীর্ঘদিন খনন না করায় তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে, যা এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। আমরা বাঁধটি বারবার মেরামত করলেও ছড়া খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, ফলে প্রতি বছরই এটি ভেঙে যায়। এই বছর আমরা কমলগঞ্জ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বালিয়াছড়া খননের একটি প্রকল্প উপজেলা পরিষদে পাঠিয়েছি। এটি বাস্তায়ন হলে কৃষকরা স্থায়ী মুক্তি পাবে।  

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, গত সোমবার সকাল ৬টা  থেকে আজ বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত জেলায় ২৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।  

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের আওতাধীন মাজডিহী চা বাগান এলাকায় ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে কয়েকটি পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চা বাগানস্থ হাসপাতালে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ভুক্তভোগী ২০টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলে সরজমিন গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং সহযোগিতা করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন জানান, কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাকাকালুকি এবং কাওয়াদিঘী হাওরসহ জেলার নিম্নাঞ্চলের মোট ৮৯৭ হেক্টর বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪৭ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে এবং ৩৫০ হেক্টর শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। তবে বৃষ্টির আগেই জেলার নিম্নাঞ্চলের ৮২ শতাংশ পাকা ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানান

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোডের্র (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ জানান, জেলার প্রধান চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বিপৎসীমার ২৩৬ সেন্টিমিটার ওপরে জুড়ি নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মনু নদী মনু রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিপদসীমার ২৯০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা শহরের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ধলাই ও কুশিয়ারা নদীও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মনু ও ধলাই নদের ছয়টি প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি সব সময়খেয়াল রাখছি। তবে উজানে অতিবৃষ্টি হলে বন্যা হতে পারে। 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, আমরা সব উপজেলায় বলে দিয়েছি ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী মানুষের তালিকা করার জন্য। তবে জেলার বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আমরা চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত করছি। 

জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের মিরপুর নামক স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। উক্ত ভাঙন এলাকা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মৌলভীবাজার সদর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ কর্তৃক গতকাল রাত ১১টায় পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়।

পাশাপাশি জেলার সকল উপজেলার নির্বাহী অফিসারগণকে বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, জরুরি সহায়তা প্রদান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তদনুযায়ী সকলে প্রস্তুত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা গ্রহণ করা হবে।

বোরো মৌসুমে জেলায় হাওড় ও নন-হাওড় উভয় এলাকায় ধান কর্তন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হাওড় এলাকায় মোট ২৭,৩৫০ হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২২,৪০৯ হেক্টর জমির বোরো ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট আবাদকৃত জমির ৮২%। অপরদিকে নন-হাওড় এলাকায় মোট ৩৫,০৪৫ হেক্টর আবাদকৃত জমির মধ্যে ৭,৬৪৯ হেক্টর জমির ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট আবাদকৃত জমির ২২%। জেলায় সর্বমোট ৬২,৪০০ হেক্টর আবাদকৃত জমির মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০,০৫৮ হেক্টর জমির ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট আবাদকৃত জমির ৪৮%। হাওড় অঞ্চলে ধান কর্তনের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে এবং অবশিষ্ট জমির ধান দ্রুত কর্তনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

মৌলভীবাজার জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বর্তমানে ৩২১.৩২০ মে.টন জিআর (চাল), ৬,৪৫,০০০/- টাকা জিআর (ক্যাশ), ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরী বাবদ ১৬৩ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৪,৮৭,০০০/- টাকা মজুদ রয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আরও ৫০০.০০ মে.টন জিআর (চাল), ২০,০০,০০০/- (বিশ লক্ষ) টাকা, ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরী বাবদ ১,০০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও ৩০,০০,০০০/- (ত্রিশ লক্ষ) টাকা এবং ১০,০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ প্রদানের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৮২০৫টি জিও ব্যাগ মজুদ রয়েছে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০০ মেট্রিক টন জিআর (চাল) এবং ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জিআর (ক্যাশ) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যা দুর্গতদের জন্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা তৎপরত রয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ও এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং জনগণের জানমাল রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।


Tag
আরও খবর




69f08a31e77e3-280426042137.webp
সিলেটের ৩ জেলায় বন্যার শঙ্কা

১ দিন ৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে