বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা উপজেলার খটখটিয়া কৃষ্ণপুর এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তরুণ সংগঠক ও উচ্চশিক্ষিত যুবক ফিলিমন হেমব্রম (২৭)-এর ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফিলিমন হেমব্রম নবাবগঞ্জ থানায় ১০ জনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, একটি হাঁস মারা নিয়ে মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত ভাবে ফিলিমন হেমব্রমকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। তারা এ ঘটনাকে শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং আদিবাসী সম্প্রদায়ের একজন সচেতন ও সংগঠিত তরুণের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যমূলক হামলা হিসেবে দেখছেন। ঘটনার সূত্রপাত
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০:৩০টায় ফিলিমন হেমব্রম মোটরসাইকেলে নিজ এলাকায় ফেরার পথে বুল্লির মোড় এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম (৪২) তার পথরোধ করেন। এসময় মোটরসাইকেলের চাকায় একটি হাঁস মারা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। ফিলিমন অভিযোগ করেন, তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাননি বলে জানালে সাইদুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বলেন, “একটা সাঁওতালকে মেরে ফেললে কী হবে?”—যা স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
পরে ফিলিমনের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল ও চাবি ফেরত চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কয়েক জনের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপাতত মীমাংসা করে মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সালিশ বৈঠকের নামে হামলার অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই দিন রাতে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর ও মধ্যস্থতাকারী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার জন্য বুল্লির মোড় বাজারে ডেকে নেন। রাত আনুমানিক ৮:৩০টার দিকে সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে ফিলিমন হেমব্রমের ওপর হামলা চালান। বাঁশের লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। ফিলিমনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার স্বজনদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসময় তার মা, বোন, ফুপু ও পরিবারের নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ফিলিমন হেমব্রমকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি ২৯ মে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৩০ মে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পান।
চিকিৎসা গ্রহণের পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এজাহারে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, হত্যাচেষ্টা,শ্লীলতাহানি ও অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছে—১। মো. সাইদুল ইসলাম (৪২) ২। মো. রাশেদুল ইসলাম (১৯) ৩। মো. রাকিবুল ইসলাম (২১) ৪।মো. আজাদুল ইসলাম (৪২)
৫। মো. রেজোয়ান ইসলাম (৩৮) ৬। মো. রাকিবুল ইসলাম (১৮) ৭। মো. মনিরুল ইসলাম (৩৮) ৮। মো. কামাল ইসলাম (১৮) ৯। মো. দিলদার হোসেন (৩৩)
১০। মোছা. রাবেয়া খাতুন (৩৮)
তবে অভিযোগগুলো বর্তমানে অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আদিবাসী নেতাদের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। কোনো নাগরিককে তার জাতিগত পরিচয়ের কারণে হেয়, অপমান বা নির্যাতনের শিকার হতে হবে এমন পরিস্থিতি স্বাধীন দেশে কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।” তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। প্রশাসনের প্রতি দাবি এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান এবং আইনের শাসনের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১ দিন ৯ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
১ দিন ১০ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে