রাতের অন্ধকার আর নিভিয়ে দেওয়া ফ্লাডলাইটের সুযোগ নিয়ে শতাধিক মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) একটি বড়সড় চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এই আকস্মিক তৎপরতার পর যশোর-বেনাপোল সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কড়া নজরদারি জারি করা হয়েছে।
বিজিবি সীমান্ত সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গভীর রাতে বেনাপোলের সাদিপুর গ্রামের বোম্বে তলা এলাকার শূন্যরেখায় আকস্মিকভাবে জড়ো করা হয় ১০০ থেকে ১১০ জন কথিত বাংলাদেশিকে।
স্থানটি বেনাপোলের ১৯/৬-এস সীমান্ত পিলারের ঠিক বিপরীতে ভারতের ৬৭-বিএসএফ ব্যাটালিয়নের জয়ন্তীপুর ক্যাম্পের আওতাধীন।অনুপ্রবেশের মোক্ষম সুযোগ তৈরি করতে বিএসএফ সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে দেয়। তবে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পরিস্থিতি টের পায় এবং তাৎক্ষণিক কঠোর ও জোরালো অবস্থান নেয়। বিজিবির এই অতন্দ্র প্রহরা ও অনড় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের পুশইন মিশন বাতিল করতে বাধ্য হয়।
সোমবার (১ জুন) সীমান্ত থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, পুশইনের বড় চেষ্টাটি ব্যর্থ হলেও সীমান্ত এলাকার শঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বর্তমানে সাদিপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ওপাশে আরও ১০ থেকে ১২ জন মানুষকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। যেকোনো মুহূর্তে তাদেরকেও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সার্বক্ষণিক সোচ্চার ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, "বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।"বর্তমানে পুরো সাদিপুর ও বেনাপোল সীমান্ত জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনুপ্রবেশের যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত চেষ্টা রুখে দিতে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনসহ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
২ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
২১ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১ দিন ৮ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১ দিন ৯ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে