রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জয়পুরহাটের সোহেল; ছেলেকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিবেদক
‘হামার কোনো ট্যাকা-পয়সার দরকার নাই বাবা, হামার কোল খালি করে যে এজেন্সির লোকেরা হামার ছলক মরণের মুখে ঠেলে দিছে, হামি তাগে বিচার চাই। সরকার যেন হামার ছোলেক হামার কোলত ফিরত দেয়!’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের আঞ্চলিক ভাষায় এভাবেই নিজের বুকফাটা আকুতির কথা বলছিলেন মুর্শিদা বেগম। তার ছেলে সোহেল রানা বর্তমানে দূর রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দুবাই যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রাইগ্রামের এই যুবকের জীবন এখন কামানের গোলার সামনে বিপন্ন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭ মাস আগে ‘হক এজেন্সি’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে দুবাই যাওয়ার চুক্তি করেন হাফিজার রহমানের ছেলে সোহেল রানা। এজন্য বিভিন্ন এনজিও এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা ঋণ নেয় তার পরিবার। কিন্তু দুবাই নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রতারক এজেন্সি কর্তৃপক্ষ তাকে কৌশলে পাঠিয়ে দেয় রাশিয়ায়।
সেখানে পৌঁছানোর পর এজেন্সির স্থানীয় চক্রের যোগসাজশে সোহেলকে বাধ্য করা হয় রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় স্বয়ং সোহেল রানা তার এই দুরবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। ভিডিওতে অত্যন্ত আতঙ্কিত কণ্ঠে সোহেল জানান, ইতোমধ্যে তাদের টিমের ৩ জন সদস্য যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে তারও নিজের জীবন প্রদীপ নিভে যেতে পারে।
এদিকে ছেলের এই ভিডিও বার্তা দেখার পর থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তার মা মুর্শিদা বেগম। পুরো পরিবারে এখন চলছে আহাজারি। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় বাবা-মা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, যে প্রতারক চক্র টাকার লোভে পড়ে সোহেলকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, অবিলম্বে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। একই সাথে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সোহেলকে সুস্থ শরীরে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে, সেই দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও তার স্বজনেরা।