জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের টাকা বিতরণে সুবিধাভোগীর তালিকায় বিএনপি নেতা, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গরীব-দুস্থদের নামের তালিকায় ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো এলাকায় এখনো টাকা বিতরণ না করার অভিযোগ রয়েছে। সব এলাকার সুবিধাভোগীদের তালিকাও প্রকাশ করা হচ্ছে না। এনিয়ে খোদ বিএনপি নেতারাই ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা করছেন।
তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, যথাযথ নিয়মেই টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের অনুকূলে তাঁর
নির্বাচনী এলাকা জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। এরমধ্যে বকশীগঞ্জে সাড়ে চার লাখ টাকা বিতরণের জন্য রাখা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের ওই টাকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, দরিদ্র পরিবার এবং অর্থকষ্টে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মাঝে ওই টাকা বিতরণের কথা।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলে আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম তাঁর ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, 'আহ্! ফেসবুক না থাকলে জানতামই না যে, ত্রাণের টাকা আছে।'
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ফেসবুকে লিখেছেন, 'ফেসবুকের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের খবর জানলাম। তবে প্রকৃত হকদারের কাছে ত্রাণের টাকা পৌঁছলে; সেটা সাধুবাদ জানাই।'
বাট্টাজোড় ইউনিয়ন যুবদল নেতা হাবিবুল্লাহ হাবিব ফেসবুকে লিখেছেন, 'দুঃখের বিষয় বাট্টাজোড় ইউনিয়ন বিএনপি সকল অঙ্গ-সংগঠনকে বাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা প্রতিটি ওয়ার্ড বিএনপর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে চার হাজার টাকা হারে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ হাজার টাকা কার পকেটে চলে গেল? এই রাজনীতি চলবে না।'
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউএনওর কার্যালয় থেকে উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা ওই টাকা উত্তোলন করেন। পরে অনেক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকেরা বিতরণের নামে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। এ ছাড়া গত ২৬ মে উপজেলার নীলাখিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মমতাজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজির যৌথ স্বাক্ষরিত ইউনিয়নের ১০ জন সুবিধাভোগীর নামের তালিকা তৈরি করে মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা হারে বিতরণ করা হয়। তালিকার ৩ নম্বর ক্রমিকে রয়েছেন মানিক চৌধুরী। তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল। শেখ হাসিনা পতনের আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তালিকার ৭ নম্বর ক্রমিকে রয়েছেন ইউনিয়নের বিনোদেরচর গ্রামের মৃত শুক্কর মিয়ার ছেলে মো. মামুন। তালিকায় তাঁর মোবাইল নম্বরের স্থলে লেখা হয়েছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্সের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর।
নীলাখিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মমতাজুর রহমান মমতাজ বলেন, 'সুবিধাভোগীর তালিকায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর লেখার বিষয়টি মুদ্রণজনিত ভুল।
আমরা এঘটনার দুঃখিত। সঠিকভাবে টাকা বিতরণ করা হয়েছে।'
বাট্টাজোড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকতার হোসেন মাষ্টার বলেন, 'আমাদের ইউনিয়নে টাকা এখনো বিতরণ করা হয়নি। আশা রাখি, শিগগিরই টাকা বিতরণ করা হবে।'
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। এটা দলের জন্য ক্ষতি। আমরা গরীবের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার রাজনীতির অবসান চাই।'
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, 'সুবিধাভোগীর তালিকায় আমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ভুল বসতভাবে লেখা হয়েছে। সঠিকভাবে টাকা বিতরণ করেছি।'
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। টাকা বিতরণে কেউ অনিয়মের অভিযোগ দেয়নি।'
১ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে