সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় জমি বিক্রির নামে অর্থ গ্রহণ করে জমি হস্তান্তর না করা, টাকা ফেরত না দেওয়া এবং চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারী কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে খাসজমিতে বসবাসরত একটি পরিবারের বসতঘর সংস্কার ও নতুন ঘর নির্মাণের আবেদনকে ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষ্ণনগর মৌজার ২৩৩ নম্বর খাস জমিতে প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে আছাদুজ্জামান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ বসতঘরটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় বসবাসের কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ কারণে পরিবারটি কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে ঘর সংস্কার ও নতুন ঘর নির্মাণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যে কোনো সময় ঘরের দেয়াল ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। পরিবারটির দাবি, তারা সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে ডিসিআর গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে বসবাস করছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
অন্যদিকে, একই জমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে উপজেলার বেনাদনা গ্রামের শাহানারা পারভীন কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর আগে মৃত আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে মো. তৌফিক রহমান জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে অগ্রিম ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। টাকা গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে একটি ব্যাংক চেকও প্রদান করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
শাহানারা পারভীনের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় পার হলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি এবং তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। একাধিকবার টাকা ফেরতের জন্য তাগাদা দিলেও বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। সম্প্রতি পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে হুমকি ও অশোভন আচরণের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত তৌফিক রহমানের ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিচিত শংকরপুর গ্রামের দাউদ তরফদারের ছেলে আলমগীর তরফদার বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করে জমি দখলের হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে, ফলে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শহিদুল ইসলাম, আছাদুজ্জামান, শাহানারা পারভীন, আশারাফ গাইন এবং তৌফিক রহমানের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আর্থিক লেনদেন ও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রপাত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মো. তৌফিক রহমান সাংবাদিকদের জানান, এটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তারা তা মেনে নেবেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ জমি বিরোধ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
৮ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে