প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি ‎মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরা সুন্দরবনের সেই বাঘিনী: জুন মাসের শেষেই ফিরছে আপন আবাসে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ, দিনাজপুর জেলা শাখার বার্ষিক সাধারণ সভা- ২০২৬ অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে দুই পা হারালেন এক যুবক। হাউজবোটের ইঞ্জিনে পরে প্রাণ গেল আট বছরের নিঝুমের লোহাগড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালী ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জামায়াতের এমপিদের দিয়ে চৌদ্দগ্রাম উন্নয়ন হবে না সাতক্ষীরার তালায় ভারতীয় সীমান্ত পিলারসহ ৪ জন আটক পীরগাছা সদর ইউনিয়ন এনসিপির মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সড়কের দোষ খুঁজি, কিন্তু চালকের অপরাধ এড়াই কেন? আটকের ৬ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে সাবেক ইউপি মেম্বারকে ছেড়ে দিল এসআই পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষ রোপণ ও চারা বিতরণ ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ৮ পীরগাছায় জমি মাপজোকের পর খুঁটি উপড়ে ফেলার অভিযোগ, সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরের ধোবারচর জাগরণী কিশোরী সংলাপ কেন্দ্রের র‍্যালি, আলোচনা সভা ও বৃক্ষচারা বিতরণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শেরপুরের ডোবারচর জুঁই মহিলা সমবায় সমিতির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ গলাচিপায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী-শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

সড়কের দোষ খুঁজি, কিন্তু চালকের অপরাধ এড়াই কেন?

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম 

সড়ক দুর্ঘটনায় দায় কার? সড়কের, নাকি বেপরোয়া চালকের? প্রশ্নটা এখন আর তর্কের বিষয় নয়, বরং বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে এক নির্মম উত্তর খোঁজার বিষয় হয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি বহুদিনের। জনসাধারণ বারবার রাস্তায় নেমে সেই দাবি জানালেও প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের চৌকাঠ পেরিয়ে বাস্তবতায় পৌঁছায়নি তা আজও। অবকাঠামোর এই দুর্বলতা যেমন একটি বড় সমস্যা, তেমনি তার চেয়েও ভয়ংকর বাস্তবতা হলো রাস্তা থাকলেও যদি চালকের হাতে নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে সেই রাস্তা আসলে মৃত্যু-ফাঁদ ছাড়া আর কিছু নয়।

আজকাল সড়কে গাড়ি মানেই যেন প্রতিযোগিতা। কে কত দ্রুত মৃত্যু পৌঁছে দিতে পারে তার এক নীরব প্রতিযোগিতা। অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, আর বেপরোয়া চালনার ফলে প্রতিদিন ঝরছে প্রাণ। কখনো পথচারী চাপা পড়ছে, কখনো ছোট যানবাহনকে পিষে দিচ্ছে ভারী বাস-ট্রাক। যাত্রীরা উঠছে গন্তব্যে পৌঁছানোর আশায়, আর নেমে যাচ্ছে নিথর দেহ হয়ে, কিংবা অনেকেই আর নামতেই পারছে না।

কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া লোহাগাড়ার চুনতিতে দুই মারশা পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনা যেন এই অব্যবস্থারই ভয়াবহ ফল। কত পরিবার এক নিমিষে নিঃস্ব হয়ে গেল, কত স্বপ্ন থেমে গেল মাঝপথে তার হিসাব কে দেবে? ক্ষতিপূরণ কি সেই হারানো প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে?

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সময় শোনা যায় চালকদের একাংশ নাকি মাদকাসক্ত অবস্থাতেও স্টিয়ারিং হাতে বসে যান। যদি এই অভিযোগের সামান্য সত্যতাও থেকে থাকে, তবে সেটি শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, সরাসরি হত্যার লাইসেন্স নিয়ে রাস্তায় নামার নামান্তর।

তাই প্রশ্নটা আজ স্পষ্ট, দোষ কি শুধুই সড়কের? নাকি সেই হাতগুলোর, যারা স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে নিয়ন্ত্রণের বদলে মৃত্যুকে ডেকে আনে? অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি, কিন্তু তার চেয়েও জরুরি চালকের শৃঙ্খলা, কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

কারণ রাস্তা যতই উন্নত হোক, যদি চালকের মনোভাব বেপরোয়া থাকে, তাহলে সে রাস্তা উন্নয়নের নয়, বরং শোকের মিছিলের নাম হয়ে উঠবে।


Tag
আরও খবর