জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুর কন্যা নাসিদা শাফিজ বিনতীর নাম ভাঙিয়ে একটি কুচক্রীমহল স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানোসহ অপপ্রচার করে যাচ্ছে। এনিয়ে তিনি জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ফেসবুকে খোলা চিঠি লিখেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ওই খোলা চিঠিটি পোষ্ট করেন তিনি।
নাসিদা শাফিজ বিনতী উপজেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
খোলা চিঠিটি ফেসবুকে পোষ্ট করায় কমেন্টে নানাজনে নানা কথা লিখেছেন। কেউ লিখেছেন 'যাঁরা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপি সাজছে, তাঁরাই ওই ধরনের ঘৃণ্য কাজে জড়িত। কেউ লিখেছেন, প্রকৃত কর্মীদের মূল্যায়ন না করায় এমনটি হচ্ছে। আবার কেউ কেউ লিখেছেন, প্রকৃত কর্মীদের মূল্যায়ন করা হলেই কুচক্রকরীরা চুপসে যাবে।
এক পর্যায়ে কমেন্ট অপশন বন্ধ দেখা যায়।
নাসিদা শাফিজ বিনতীর পোষ্ট করা ওই চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হল-
প্রিয় ইসলামপুরবাসী,
আসসালামু আলাইকুম।
গত দেড় বছরে আপনাদের যে অকৃত্রিম ভালোবাসা, আস্থা ও দোয়া আমি পেয়েছি। তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণা। আমি শুধু সুলতান মাহমুদ বাবুর মেয়ে নই; আমি আপনাদের মেয়ে, ইসলামপুরের মেয়ে। ইসলামপুর আমার পরিবার। আর এই পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে আপনাদের সম্মান, ভালোবাসা ও বিশ্বাস রক্ষা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও কষ্টের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কিছু অসাধু ব্যক্তি আমার নাম ব্যবহার করে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং আমার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, এটি আমার পরিবার, আমার বাবা এবং সর্বোপরি ইসলামপুরের সম্মানের প্রশ্ন।
আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই- আমার নামে কেউ কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করলে তার দায়ভার আমি গ্রহণ করবো না। আমি কখনো কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করিনি এবং ভবিষ্যতেও করবো না।
আমি আরও স্পষ্ট করে বলতে চাই- আমি বিনতী, সুলতান মাহমুদ বাবুর বড় সন্তান। তার রক্ত আমার গায়ে। সততা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সম্মান রক্ষার শিক্ষা আমি আমার পরিবার থেকেই পেয়েছি। তাই আমার নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রতারণা বা কু-ব্যবহার আমি কখনোই মেনে নিব না।
আমি শুধু আপনাদের সঙ্গে আছি, ইসলামপুরকে এগিয়ে নিতে, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সাথে। আমি শুধুই ইসলামপুরের উন্নয়ন চাই, অন্য কিছুই না। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনাদের কাছে কেউ যদি আমার নাম নিয়ে অর্থ চায়, দয়া করে আমাদের জিজ্ঞাসা করবেন।
বিনতী চিঠির শেষাংশে লিখেছেন, 'আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থনই আমার শক্তি এবং আপনাদের প্রতি আমার বিশ্বাস অটুট। মেয়েকে আর অপমান করবেন না। সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।'
ওই চিঠিটি ফেসবুকে পোষ্ট করায় মির্জা শাকিল নামে একজন কমেন্টে লিখেছেন, 'প্রকৃত কর্মীদের মূল্যায়ন করেন এগুলা ঝড়ে উড়ে যাবে আপু। যাঁরা খন্ডকালীনের জন্য স্বার্থ হাসিল করতে এসেছে, তাঁরাই এগুলো করছে। আর এই ত্যাগী ও বিশ্বস্ত কর্মীদের মূল্যায়ন করা আপনার সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলেই ইসলামপুর উপজেলা বিএনপি তথা সুলতান মাহমুদ বাবু মহোদয় সফল।'
উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব ফারুক হোসেন লিখেছেন, 'প্রিয় আপা, সঠিক সময়ে আপনি সজাগ হয়েছেন। যাঁরা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে, তাঁরা আপনার ক্ষতি করতে বসেছে।'
উল্লেখ্য, আগে কখনো রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে দেখা না গেলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বারের মতো বাবা সুলতান মাহমুদ বাবুকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ের লক্ষ্যে দিনরাত মাঠ চষে বেড়াতে দেখা গেছে এমপি কন্যা বিনতীকে। উদ্দেশ্য সফল করতে তিনি করেছেন গণসংযোগ। দিয়েছেন প্রতিশ্রুতি, চেয়েছেন ভোট। করেছেন কঠোর থেকে কঠোর পরিশ্রম।
নির্বাচনে বাবা সুলতান মাহমুদ বাবু বিজয় হবার পর আইনশৃঙ্খলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হিসেবে বিনতীর সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দ বাস্তবায়নেও তাঁর মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে দেখা যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। বিনতীর আশেপাশে দলের পোড়খাওয়া ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের তেমন দেখা না গেলেও বয়োকনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের রয়েছে প্রচণ্ড ভিড়। এনিয়ে দলে এবং দলের বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার যথেষ্ট গুঞ্জন চাউর হলেও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায় বিনতীকে।
১ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে