পলাশে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল পানি বন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগ
মিনার হোসেন খান, পলাশ প্রতিনিধি
নরসিংদীর পলাশে সামান্য বৃষ্টি হলেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হচ্ছে চরম জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পুরো হাসপাতাল চত্বরে জমে থাকছে হাঁটু সমান পানি। ফলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবা নিতে আসা উপজেলার হাজারো সাধারণ খামারি ও সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী জনভোগান্তি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটু মেঘের গর্জন বা মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হলেই পুরো হাসপাতাল এলাকা যেন এক ভাসমান দ্বীপে পরিণত হয়। চারপাশের পানি এসে হাসপাতালের ভেতরের প্রধান প্রবেশদ্বারসহ পুরো চত্বর তলিয়ে দেয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নামার কোনো পথ না থাকায় এই পানি সহজে নামতে পারে না। নোংরা ও পচা পানির ওপর দিয়েই প্রতিদিন বাধ্য হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের, যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা গবাদি পশুর মালিক ও প্রান্তিক খামারিরা। অসুস্থ পশু নিয়ে এই হাঁটু পানি মাড়িয়ে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক খামারি জরুরি সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা উপজেলার প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জুয়েল রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এরিয়া হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই অচলাবস্থা চলছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসিয়াল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ খামারিদের সেবা প্রদান করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। তিনি এই সমস্যা স্থায়ীভাবে দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভুক্তভোগী খামারি ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বহুদিনের পুরোনো এই মানবিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটি সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন যেন আর কালক্ষেপণ না করে। অনতিবিলম্বে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে হাসপাতাল চত্বরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে এবং সেবার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর আকুতি জানিয়েছেন পলাশবাসী।
৭ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে