যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ নারিকেলবাড়ীয়া থেকে বাঘারপাড়া ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সড়কজুড়ে ছোট-বড় শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাস্তাটি এখন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের জন্য এক মূর্তিমান 'মরণফাঁদে' পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কের নারিকেলবাড়ীয়া এলাকা থেকে বাঘারপাড়া ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত পুরো অংশটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের তৈরি হয়েছে। রাস্তাটি যেন এখন আর রাস্তা নেই, বরং পুকুর বা ডোবায় রূপ নিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে কাদা-পানি জমে একাকার হয়ে যায়, ফলে গর্তের গভীরতা বোঝার উপায় থাকে না। এতে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও সাইকেল আরোহীরা গর্তে পড়ে গিয়ে প্রায়ই আহত হচ্ছেন।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ উপজেলা সদর, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির বেহাল দশার কারণে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলতে গিয়ে মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ছে। জরুরি রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এখন চরম ঝঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বেশি ভাড়ার লোভ দেখিয়েও চালকরা এ পথে গাড়ি আনতে চাচ্ছেন না, ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও সময়—দুটোই বেড়েছে কয়েক গুণ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, "দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের কোনো নামগন্ধ নেই। বর্ষাকালে এই রাস্তার দুর্ভোগ বর্ণনাতীত। আমরা জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার আকুতি জানালেও কার্যত কোনো সুফল মিলছে না। এখন রাস্তাটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচলের সব পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। আমরা এখন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় পাই, কখন জানি কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়!"
সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী যশোর-৪ আসনের (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল, বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভূপালী সরকার এবং যশোর জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (RHD) অথবা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)—যার আওতাধীনই সড়কটি থাকুক না কেন, দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এটি মেরামত বা নতুন করে নির্মাণ করে এলাকাবাসীকে এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীদের আশা, সড়ক সংস্কারের মাধ্যমে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। জনগণের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।
৫ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে