পূর্বপুরুষের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা শতবর্ষী কবরস্থান রক্ষায় লোহাগাড়ায় মানববন্ধন, খামারকান্দিতে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ, ফলজ গাছের চারা বিতরণ ও ঝাঝর খালে মাছের পোনা অবমুক্ত ‎সুন্দরবন রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর ‎ জাবিপ্রবিতে ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি: সভাপতি মামুনুর রশীদ, সেক্রেটারি ফাহাদ স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর লোহাগাড়ায় ২ হাজার ইয়াবাসহ দুই পাচারকারী আটক লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন পথচারী বকশীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ : ওসির দাবি, 'ওটা তদন্ত কর্মকর্তার বিষয়' মিরসরাইয়ে ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’র নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও দায়িত্ব হস্তান্তর হতদরিদ্র পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই সংস্কারে সহায়তার হাত বাড়ালেন বিএনপি নেতা ফজলুল মুরাদ সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী বাচ্চুর ওপর হাতুড়িপেটা,আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি পাকা রাস্তা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে বদলা পাড়াবাসী পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কী আছে আইনে দেশে সব ধর্মাবলম্বী সমান অধিকার ভোগ করেন : তথ্যমন্ত্রী চৌদ্দগ্রামের সুফিয়ান রায়হান এনসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাণীশিমুল ইউপি নির্বাচনে জনসংযোগে ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থী রুকুনুজ্জামান লাখো ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে ভোট, দ্রুতই তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি ইসির পলাশে কবরস্থানের উপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ 'বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আজীবন বহিষ্কার'—পীরগাছায় এমপি রেজেকা সুলতানা ফেন্সির কঠোর হুঁশিয়ারি

শ্রীমঙ্গলে বন্যপ্রাণীর অকৃত্রিম বন্ধু সিতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যু, এমপি মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বন্যপ্রাণীদের অকৃত্রিম বন্ধু সীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সীতেশ রঞ্জন দেবের নাতি রাজদ্বীপ দেব জানান, সকালে হঠাৎ করে সীতেশ রঞ্জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওয়ানা দেন। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।

মারা যাবার পর মরদেহ তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে নিয়ে রাখা হয়। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ রামকৃষ্ণ মিশন সড়কের বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। পরে বেলা ২টার দিকে তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শ্রীমঙ্গলের নোয়াগাঁও গ্রামে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে বন্যপ্রাণীদের সুদীর্ঘকালের অকৃত্রিম বন্ধু সীতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশন (ভূমি) মুহিবউল্লাহ আকন, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব, বীর মুক্তিযুদ্ধা আবু শহীদ আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সীতেশ রঞ্জন দেব দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি প্রায় অর্ধ শতাব্দির বেশি সময় ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বন ছেড়ে নানা কারনে লোকালয়ে আসা বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সেবা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। এছাড়া তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীদের লোকালয় থেকে উদ্ধারের পর পুনরায় বনাঞ্চলে ফিরিয়ে দেবার পাশাপাশি প্রাণী হত্যা রোধ, পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণসহ পরিবশের নানা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের পরিচিত মুখ সীতেশ রঞ্জন দেব ‘সীতেশ বাবু’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি কয়েক দশক ধরে আহত, অসুস্থ ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা, পুনর্বাসনের কাজ করে আসছিলেন।

সীতেশ রঞ্জন দেব শুধু একটি নাম নন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের এক অনন্য প্রতীক। শ্রীমঙ্গলসহ দেশের সর্বত্র তিনি পরিচিত ছিলেন ‘সিতেশ বাবু’ নামে। আহত, অসুস্থ কিংবা বিপন্ন বন্য প্রাণীদের আশ্রয়, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লোকালয়ে ঢুকে মানুষের হাতে নির্যাতিত, বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে আহত, অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম কিংবা পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া অসংখ্য বন্য প্রাণীর শেষ ভরসার জায়গা ছিল শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সিতেশ বাবুর দীর্ঘ কয়েক দশকের শ্রম, ত্যাগ ও ভালোবাসা।

শুধু চিকিৎসাই নয়, সুস্থ হয়ে ওঠা প্রাণীগুলোকে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি বন্য প্রাণী হত্যা ও পাচার রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাঁর উদ্যোগে হাজারো মানুষ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

সিতেশ রঞ্জন দেবের বন্য প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার শুরু কৈশোরে। তাঁর বাবা শিরীষ রঞ্জন দেবের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই পশুপাখি পালন ও শিকারে যেতেন। সে সময় দেশে বন্য প্রাণী শিকারে তেমন কঠোর বিধিনিষেধ ছিল না। ১৯৮৬ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনিও কিছুদিন শিকার করেছেন। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উপলব্ধি করেন, প্রাণ হত্যা নয়—প্রাণ রক্ষাই হওয়া উচিত মানুষের দায়িত্ব। সেই উপলব্ধিই বদলে দেয় তাঁর জীবন।

এক সময়ের শিকারি সিতেশ রঞ্জন দেব হয়ে ওঠেন বন্য প্রাণীর অভিভাবক। উদ্ধার করা আহত প্রাণীদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য শ্রীমঙ্গল শহরের মিশন রোডে নিজ বাড়ির আঙিনায় গড়ে তোলেন একটি ছোট্ট প্রাণী সেবাকেন্দ্র। পরে পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার বাগানবাড়িতে সেটি স্থানান্তর করেন। সময়ের পরিক্রমায় সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সেটিই প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন হিসেবে।

গত কয়েক দশকে তাঁর হাতে চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে প্রকৃতিতে ফিরে গেছে হাজার হাজার বন্য প্রাণী। দেশের বন বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ লোকালয়ে বণ্যপ্রাণী দেখলেই  ভরসা করতেন সিতেশ বাবুর ওপর। মৃত্যুর আগে তাঁর দুই ছেলেকে তৈরী করে গেছেন বন্যপ্রাণীর সেবায় নিয়জিত থাকতে। সীতেশ রঞ্জন দেব অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলে সজল দেব ও সঞ্জিত দেব বাবার অনুপ্রেরণায় বন্যপ্রাণী উদ্বারে কাজ করে যাচ্ছেন।

সিতেশ বাবুর জীবন ছিল প্রকৃতি, বন ও বন্য প্রাণীর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর চলে যাওয়া বাংলাদেশের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর হাতে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান এবং তাঁর আদর্শই ভবিষ্যতে এই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন তাঁর সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য প্রকৃতিপ্রেমী।

সিতেশ রঞ্জন দেবের শেষ বিদায়ের সংবাদে গোটা শ্রীমঙ্গলসহ চারদিকে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে এসে অনেকেই অশ্রুসজল চোখে স্মরণ করেন তাঁর মানবিকতা, এবং নিরলস কর্মযজ্ঞকে। উপস্থিত সকলে গভীর শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন যে, বন্যপ্রাণী রক্ষা ও প্রকৃতি সংরক্ষণে তাঁর অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

Tag
আরও খবর