জামালপুরের ইসলামপুরে চোর সন্দেহে যমুনা নদীতে নুর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। মামলার রুজুকারী কর্মকর্তা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার নুর মোহাম্মদের স্বজনদের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে ভিন্নতা। তাঁরা একেকজন বলছেন; এককেক কথা। যার ফলে ওই হত্যাকাণ্ডের তিন পরও এবিষয়ে আদৌও কোনো মামলা হয়েছে কি না; সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
নিহত নুর মোহাম্মদ পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দিয়ারপাড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহীমের ছেলে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১৫ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে দূর সম্পের্কের আত্মীয় জাহাঙ্গীর আলম এবং
পার্শ্ববর্তী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বড়খাল গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলামকে
নিয়ে ইসলামপুরের বেলগাছা ইউনিয়নের বরুল এলাকায় যমুনা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি ছোট নৌকায় ঘুরাঘুরি করছিলেন নুর মোহাম্মদ।
এসময় স্থানীয় জেলেরা তাদেরকে মাছ ধরার জাল চোর সন্দেহ করে। একপর্যায়ে তাদেরকে নৌকাটি পাড়ে ভিড়াতে বলে জেলেরা। কিন্তু এতে সাড়া না দিলে জেলেরা তাদের ধাওয়া করেন। পরে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের টাকীমারী নামক যমুনা নদীর মধ্যবর্তী চরে ওই তিনজনকে ধরে ফেলেন ধাওয়াকারী জেলেরা। সেখানে তাদের মারধর করা হলে ঘটনাস্থলেই নুর মোহাম্মদ মারা যান। আহত হন জাহাঙ্গীর ও রফিকুল। পরে সেখান থেকে নুর মোহাম্মদের মরদেহসহ আহতদের ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে বরুল এলাকায় নিয়ে যান মারধরকারীরা। খবর পেয়ে ইসলামপুর থানা-পুলিশ নুর মোহাম্মদের মরদেহ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে মারধরে আহত রফিকুল এবং জাহাঙ্গীরকে জামালপুর জেনারেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে রোববার (১৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের কাছে নুর মোহাম্মদের মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নুর মোহাম্মদের স্ত্রী মোছা. মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে নয়জনের নামোল্লেখসহ ১২-১৫ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি দিয়ে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
পরে গভীর রাতে গাইবান্ধার বালাসীর ঘাট মদনেরপাড়া এলাকায় দূর সম্পর্কে এক আত্মীয়র বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে নুর মোহাম্মদের মরদেহ দাফন করা হয়।
আজ সোববার (১৭ আগষ্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মামলা রুজুকারী কর্মকর্তা ও ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এখনো মামলা রুজু করা হয়নি। তবে মামলা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।'
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোতাহার হোসেন বলেন, 'নিহত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।'
মামলা কখন রুজু করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'মামলাটি আজ দুপুরে করা হয়েছে।'
মামলার আসামির সংখ্যা জানতে চাইলে এসআই মো. মোতাহার হোসেন বলেন, 'বিষয়টি গোপন থাক।'
রাত ৮টার দিকে মোবাইল ফোনে নুর মোহাম্মদের স্ত্রী মোছা. মর্জিনা এবং তাঁর বড় ভাই সুরুজ্জামাল এবং মেয়ের জামাই মনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা নয়জনের নামোল্লেখসহ ১২-১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি দিয়ে বোরবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইসলামপুর থানায় এজাহার দিয়েছি। আজ সোমবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোতাহার হোসেন জানান, এজাহার ভুল হয়েছে। সেটা সংশোধন করতে আমাদের থানায় যাইতে হবে। কিন্তু অনেক দূরের পথ হওয়ায়, রাতে আমাদের পক্ষে থানায় যাওয়া সম্ভব হবে না মর্মে তাঁকে জানালে তিনি আগামীকাল মঙ্গলবার ভোরে থানায় যাইতে বলেন।
২ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে