চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ গত ১৬ জুলাই চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে যান। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে চন্দনাইশ ও দোহাজারী হাসপাতালে ‘মানবিক ফার্মেসি’ স্থাপন করার ঘোষণা দেন। উক্ত আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম. দিদারুল ইসলাম সিকদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার
সমাধানের আশ্বাসের
পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য এই ঘোষণা
দেন। আলোচনাকালে
তিনি উপস্থিত
ডাক্তারদের নিকট জানতে চান—৫০
লক্ষ টাকার
ওষুধ ৩২
লক্ষ টাকায়
পাওয়া যাবে
এমন কোনো
মাধ্যম খুঁজে
দেওয়া সম্ভব
কি না।
তখন উপস্থিত
ডাক্তারগণ কমিশন বাদ দিয়ে সরাসরি
উৎপাদনকারী কোম্পানির নিকট থেকে ওষুধ
কেনার পরামর্শ
দেন। এ
বিষয়ে ফার্মেসি
স্থাপনের জন্য
উপযুক্ত কক্ষ
নির্ধারণ এবং
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তৎক্ষণাৎ
উপজেলা নির্বাহী
অফিসারকে মৌখিক
নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
ডা. রশ্মি
চাকমা জানান,
চন্দনাইশ ও
দোহাজারী স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে
৮০০/৯০০
জন রোগী
চিকিৎসা নেন।
দুটি হাসপাতালে
সব মিলিয়ে
রোগীর সংখ্যা
প্রায় ১,০০০ থেকে
২,০০০
জন হলেও
বৃষ্টির দিনে
তা কিছুটা
কমে। হাসপাতালে
টিকিটের ফি
মাত্র ৩
টাকা এবং
ওষুধ সাধারণত
সরকারিভাবে বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে
আউটডোরে নির্দিষ্ট
ওষুধের খরচের
বিষয়ে আগাম
অনুমান করা
সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান,
স্থানীয় সংসদ
সদস্য একটি
"মানবিক ফার্মেসি" গড়ে তোলার উদ্যোগ
নিয়েছেন, যা ২৪ ঘণ্টা খোলা
থাকবে। রাতে
যখন সাধারণ
ওষুধের দোকান
বন্ধ থাকে
কিংবা হাসপাতালে
প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না,
তখন রোগীরা
যেন সাশ্রয়ী
মূল্যে ওষুধ
কিনতে পারেন—এটিই এই
ফার্মেসির মূল উদ্দেশ্য। সংসদ সদস্য
মহোদয় ইউএনও-কে আগামী
মাসের ১
তারিখের মধ্যে
উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তবে ডা. রশ্মি
চাকমা স্পষ্ট
করেন যে,
এখন পর্যন্ত
কক্ষ বরাদ্দ
বা ওষুধ
কেনার কাজ
শুরু হয়নি।
সরকারি নিয়ম
অনুযায়ী সিভিল
সার্জন এবং
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের লিখিত অনুমতি
ছাড়া সরকারি
জায়গায় কোনো
স্থাপনা তৈরি
করা সম্ভব
নয়। স্বচ্ছতা
বজায় রাখতে
এবং আইনি
জটিলতা এড়াতে
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
অনুমোদন পাওয়ার
পরই পরবর্তী
সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—যেমন কীভাবে
ফার্মেসি পরিচালিত
হবে, কারা
কাজ করবে
এবং ওষুধের
দাম কেমন
হবে। এই
বিষয়ে এখনো
কোনো দাপ্তরিক
চিঠি চালাচালি
হয়নি। তাদের
আসন্ন মাসিক
সভায় সংসদ
সদস্যের নির্দেশনা
অনুযায়ী পরবর্তী
পদক্ষেপ নির্ধারণ
করা হবে।
অপরদিকে, সংসদ সদস্যের ঘোষণার
পর স্থানীয়
রোগী ও
স্বজনদের মধ্যে
‘মানবিক ফার্মেসি’
নিয়ে আশাবাদ
তৈরি হলেও,
সরকারি অনুমোদন,
কক্ষ বরাদ্দ,
ওষুধ ক্রয়
ও পরিচালনাসহ
বেশ কিছু
আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—ঘোষণার
পর বাস্তবে
কবে চালু
হবে জসিমের
‘মানবিক ফার্মেসি’?
২ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে