ঢাকা–কুষ্টিয়া মহাসড়কে স্থান রাজবাড়ীর চন্দনী বাসস্ট্যান্ডের এক কিলোমিটার পশ্চিমে। ট্রাক ও গরুবাহী মিনি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা থেকে আসা বড় ট্রাকটির চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরের দিকে রাজবাড়ীর চন্দনী বাসস্ট্যান্ডের প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে ঢাকা–কুষ্টিয়া মহাসড়কের ওই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে গরু বোঝাই একটি মিনি ট্রাক ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। মিনি ট্রাকটি নিজস্ব লেন দিয়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে একটি খালি বড় ট্রাক আসছিল। বড় ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৭৪৬৯।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী বড় ট্রাকটি মহাসড়কের রং সাইডে চলে আসায় বিপরীত দিক থেকে আসা গরুবাহী মিনি ট্রাকটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে দুই যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে গরুবাহী মিনি ট্রাকটির সামনের অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মিনি ট্রাকে থাকা চালকসহ তিনজন আহত হন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের গাড়ি থেকে বের করে আনেন। পরে তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য রাজবাড়ী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আহত তিনজনই সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিনি ট্রাকটির চালকও রয়েছেন। আহতদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বড় ট্রাকটির চালক ও হেলপার ঘটনাস্থলে না থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে আসা বড় ট্রাকটিতে চালক ও হেলপার—এই দুজন ছিলেন। সংঘর্ষের পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। মহাসড়কের ওপর দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন অবস্থান করায় ওই সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে উভয় দিকে যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা–কুষ্টিয়া মহাসড়কটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক বাস, ট্রাক, পিকআপ, মিনি ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ফলে সামান্য অসতর্কতা কিংবা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তাদের অভিযোগ, অনেক সময় কিছু যানবাহনের চালক নির্ধারিত লেন না মেনে বিপরীত পাশ দিয়ে গাড়ি চালান। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে মহাসড়কে রং সাইডে গাড়ি চালানো বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের পরপরই স্থানীয়রা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। কেউ আহতদের গাড়ি থেকে বের করে আনতে সহযোগিতা করেন, আবার কেউ দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাদের দ্রুত উদ্যোগের কারণে আহতদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে দুর্ঘটনায় মিনি ট্রাকে থাকা গরুগুলোর কী অবস্থা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনার কারণ যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হবে এবং যদি রং সাইডে গাড়ি চালানোর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ী চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সময় চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত লেনে গাড়ি চালানো এবং অতিরিক্ত ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দুর্ঘটনার কারণে আহত তিনজনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ঢাকা–কুষ্টিয়া মহাসড়কের এই অংশে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কার দায় কতটুকু—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
২ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে