গত ২৪ আগস্ট (সোমবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার ২নং সুন্দরবন ইউনিয়নের নশিপুর এলাকায় অবস্থিত বিএডিসির সরকারি সার গোডাউনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত স্টোরকিপারের নাম মো. আক্তারুল ইসলাম (৩৮)। তিনি দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার আরাজি জুগির গোপা গ্রামের মো. আফসার আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই নশিপুর বিএডিসির কাঞ্চন গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলার গোপন সংবাদ পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে সদর উপজেলার ইউএনও এবং দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুন্নবীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল নশিপুরের ওই গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে স্টোরকিপার আক্তারুল ইসলামকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আক্তারুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, গত জুলাই ও আগস্ট মাসের বিভিন্ন সময়ে তিনি কোনো অনুমতি ছাড়াই গোডাউন থেকে অবৈধভাবে সার বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:ডিএপি সার: ২২৭.৪৫ মেট্রিক টন (৪,৫৪৯ বস্তা)এমওপি সার: ১০০.৪৫ মেট্রিক টন (২,০৯ বস্তা)মোট বাজারমূল্য: প্রায় ৬৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫০ টাকা।
কৃষকের বরাদ্দকৃত সার অনুমোদনহীনভাবে বিক্রির এই ঘটনায় বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ দুই ডিলারের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে সার কেনাবেচাকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন—বীরগঞ্জ উপজেলার সোহাগ হোসেন (৩৮) এবং কাহারোল উপজেলার মো. আনসারুল ইসলাম (৪২)।
বিএডিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, সদর উপজেলার নশিপুরে ‘কাঞ্চন’ ও ‘স্টিল’ নামের দুটি সরকারি সার গোডাউন রয়েছে। প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার এই গোডাউনগুলোতে সাধারণত এমওপি, ডিএপি ও টিএসপি সার মজুত রাখা হয়।
এ ঘটনায় কৃষকদের বরাদ্দকৃত সার আত্মসাৎ ও লুটপাটের অভিযোগে আটক স্টোরকিপার আক্তারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।