কালিগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণে বাধা, গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আদালতের আদেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সময় ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে আব্দুস সাত্তার গাজী ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জমি নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে।
অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা গেছে, কৃষ্ণনগর গ্রামের আবুল হোসেন গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম গাজী ক্রয়সূত্রে বি.আর.এস. ৮৬৫ ও ৮৬৬ নম্বর খতিয়ানের ৪২৩ নম্বর দাগের ৬৫ শতক জমি ২০০২ সাল থেকে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে একই গ্রামের মৃত দবির উদ্দিন গাজীর ছেলে আব্দুস সাত্তার গাজী ও তাঁর ছেলে মতিউর রহমান এবং নাতি তাজিমসহ কয়েকজন ওই জমিতে ধান রোপণে বাধা দেন। এ সময় তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের জন্য কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের সঙ্গে আব্দুস সাত্তার গাজী ও তাঁর লোকজন দুর্ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতনদীর বিশেষ প্রতিনিধি ইশারাত আলী বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি পক্ষ জমিতে ধান রোপণ করতে গেলে প্রতিপক্ষের বাধা দেওয়ার খবর পেয়ে আমি, দৈনিক যশোর বার্তার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি শিমুল হোসেন, খুলনা গেজেটের তাপস ও দৈনিক দৃষ্টিপাত প্রতিনিধি আলমগীরসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে আব্দুস সাত্তার গাজীসহ কয়েকজন আমাদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন এবং হুমকি দেন।
জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল ইসলাম গাজী গত ১৫ এপ্রিল সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় পি-২১০৬/২৫ নম্বর মামলা করেন। তাঁর দাবি, ওই মামলায় গত ১০ আগস্ট আদালত তাঁর পক্ষে আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর শান্তিপূর্ণ দখল বজায় রাখতে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে আদালতের ওই আদেশের পরও জমিতে ধান রোপণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে আব্দুস সাত্তার গাজীর ছেলে মতিউর রহমান বলেন, “বিরোধপূর্ণ জমিটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। উল্লেখিত জমির মধ্যে আমাদের ২২ শতাংশ জমি রয়েছে, যা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। রবিউল ইসলাম যে আদালতের আদেশের কথা বলছেন, তার বিরুদ্ধে আমাদেরও মামলা রয়েছে।”
গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান বলেন, “আমরা গণমাধ্যমকর্মীদের চিনতে না পারায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে।”
এদিকে রবিউল ইসলাম গাজী বলেন, আদালতের আদেশের পরও তাঁকে তাঁর দাবি করা জমিতে কৃষিকাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আদালতের আদেশ নিয়ে মাঠপর্যায়ে বিরোধ বা কৃষিকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
৮ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ১ মিনিট আগে