সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার সুবর্ণাবাদ ও নাজিরের ঘের এলাকার পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ওই দিনই তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের মৃত মাহতাব উদ্দিন খানের ছেলে মোক্তার হোসেন খান (৫৩) এবং নাজিরের ঘের গ্রামের রহিম বক্স মোল্লার ছেলে আসাদুল ইসলাম মোল্যা (৪৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে সুবর্ণাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোক্তার হোসেন খানকে গ্রেপ্তার করে। পরে একই দিন ভোর ৫টা ১০ মিনিটে নাজিরের ঘের এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল জলিল সানা বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করে মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার পর থেকে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
নিহতের ভাই আব্দুল জলিল সানা অভিযোগ করেন, ধর্ম অবমাননার অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে