দিনাজপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আশা’ সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার পরেও এক নারী সদস্যকে জেল খাটতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।আশা সমিতি কর্তৃক অর্থঋন আদালতে সংশ্লিষ্ট নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর গ্ৰহনকৃত অর্থ আদালতের মাধ্যমে পরিশোধ করে , সংস্থা থেকে টাকা পরিশোধের প্রত্যয়ন এবং সমিতির পাশ বই পরিশোধ সাক্ষর নেয়ার পরেও প্রায় দুই বছর পর কেন একজন নিরাপদ নারীকে জেল খাটতে হলো এবং পুনরায় টাকা পরিশোধ করে জামিন নিতে হলো ,তা নিয়ে এলাকায় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঋণ পরিশোধের সঠিক তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানানোর কারনে এই হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মোঃ শামীম ইসলাম।
আশা সমিতির পাশ বই ও সংগৃহীত তথ্য সুত্রে জানা যায় দিনাজপুর সদর উপজেলার ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের শেখহাটি গ্ৰামের মোঃ শামীম ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ মিনু আক্তার আশা সমিতির শহরের ফকির পাড়া শাখার একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন।
পরিবার ও আশা সমিতির তথ্যসূত্রে জানা যায়, মিনু আক্তার ২০১৮সালে ফকির পাড়া শাখা থেকে ৬২হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা ও কষ্টের কারনে যথা সময়ে ঋন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়।আশা সমিতি তাদের রুলস অনুযায়ী সংস্থার পক্ষে ফকির পাড়া শাখা ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে দিনাজপুর যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে -২ এ এনআইএক্ট এ মিনু আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।যাহার মামলা নম্বর দায়রা ৮৩৬/২০।মামলা চলাকালীন মিনু আক্তার পর্যায়ক্রমে টাকা দিয়ে, সর্বশেষ ১৮ এপ্রিল ২০২৫ এ সংস্থার গ্ৰহনকৃত ঋনের সমুদয় টাকা সুদসহ পরিশোধ করে। সংস্থার পাশ বই এ পরিশোধ সাক্ষর এবং তার উকিলের কাছে থেকে মামলা প্রত্যাহারের বিল ভাউচার গ্ৰহন করে।
কিন্তু দীর্ঘদিন পর গত ২২অক্টোবর ২৬ রাত ২টায় পুলিশ, আদালতের মাধ্যমে বকেয়া ঋণ আদায়ের সংস্থার দায়েরকৃত উক্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ করার পরও কেন তাঁকে জেল খাটতে হলো, তা নিয়ে হতবাক হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। গত ২৭অক্টোবর পুনরায় বকেয়া ঋণের পরিমাণ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ ২৬হাজার৭৫০টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করে জামিনে মিনু আক্তারকে মুক্ত করে আনা হয়।
ভুক্তভোগীর মিনু আক্তারের স্বামী মোঃ শামীম ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, "আমরা তো আগেই সব টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। সমিতির লোকজন আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরও আদালতে সঠিক তথ্য সময়মতো উপস্থাপন না করায় বা মামলা তুলে না নেওয়ায় আমার নিরপরাধ স্ত্রীকে জেল খাটতে হয়েছে।" তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আশা সমিতির স্থানীয় ফকির পাড়া শাখার বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক সুমন দাসের সঙ্গে কথা বললে তিনি প্রতিনিধিকে জানান আশা সমিতির কাছে মিনু আক্তারের ঋনের বকেয়া টাকা পরিশোধ হয়ে গেছে।সেই মর্মে গত ২০২৫সালের ১০ অক্টোবর তৎকালীন সময়ে দায়িত্বরত শাখা ব্যবস্থাপক আদালতে গিয়ে উকিলের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের তথ্য জানান হয়। হয়ত মামলা চলাকালীন সময় মিনু আক্তারের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হয়েছিল,সেটার কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা হয়ে থাকতে পারে।তবে আমার দিকে থেকে বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে সর্বদা সহোগতিতা থাকবে।এ ঘটনায়
সচেতন মহল মনে করছেন, এনজিওগুলোর ঋণ সংক্রান্ত মামলা এবং আইনি প্রক্রিয়াগুলো আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, যাতে কোনো সাধারণ গ্রাহককে বিনা কারণে এমন হয়রানি ও কারাবাসের মুখোমুখি না হতে হয়। মিনু আক্তারের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী উকিল মাসুদা বলেন আমার মক্কেল ২০২৫ সালের ১৮এপ্রিল আশা সমিতির সমুদয় ঋনের টাকা শোধ করে। কিন্তু শোন পরিশোধ করার পর মামলা প্রত্যাহার না করায়,২৬সালের জুলাই মাসে মামলার রায়ে আমার মক্কেলকে জেল খাটতে হয়েছে। এবং পুনরায় টাকা দিয়ে জামিন নিতে হয়েছে।আবার মামলার নথিপত্র সংগ্ৰহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিন্তু মিনু আক্তার জেল থেকে আসার পর মানসিক ভারসাম্য হীনতায় ভুগছে এবং কারো সাথে কোন কথাবার্তা ব চিনতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।