রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজবাড়ী পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমন্বয়ে বিনোদপুর কলেজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ উঠান বৈঠক ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রাজবাড়ী পৌরসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ আফরোজা পারভীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী।
এসময় জেলা প্রশাসক মোছাঃ আফরোজা পারভীন বলেন, মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতন একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গঠনের অন্যতম বড় বাধা। এসব সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে শুধু প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না; এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যস্ত করে তোলে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে পরিবার থেকেই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোথাও বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, মাদক ব্যবসা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তা গোপন না রেখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজবাড়ীকে মাদক, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনমুক্ত একটি নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। তবে এ উদ্যোগ সফল করতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ তাপস কুমার পাল বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। তবে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা, পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতির বক্তব্যে রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
২৮ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২ মিনিট আগে