কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় ১৪ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা বছরে সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৩৬ লাখ টাকা পেলেও ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয়জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। অথচ ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয়জন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। শিক্ষকসংখ্যা ও সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে এমন ফলাফল স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা আইসিটি ও ইংরেজিতে ফেল করেছে। আইসিটি শিক্ষক না থাকায় ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। বিশেষ করে আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিয়ে, ঝরে পড়া এবং পড়াশোনায় অমনোযোগিতার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে এর আগেও বেশ কয়েকবার শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে শোকজ করা হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী আলিম মাদ্রাসায় সর্বনিম্ন ২০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ছয়জন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও সরকারি বেতন-ভাতা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসার ধারাবাহিক ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, শিক্ষকসংখ্যা, শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও পাঠদানের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
২ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১৭ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
২০ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে