দেশে দুই কোটিরও বেশি কিডনি রোগী। এছাড়া দেশে প্রতি বছর ৩৫-৪০ হাজার মানুষের কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হচ্ছে। আরও ১৫-২০ হাজার আকস্মিক কিডনি বিকল হয়।
শনিবার (৪ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান কিডনি বিষয়ক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ।
তিনি বলেন, কিডনি রোগীর বেঁচে থাকার জন্য ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন প্রয়োজন। কিন্তু কিডনি চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় শতকরা ১০ জন এর ব্যয় বহন করতে পারে। চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে যায়। সবার জন্য কিডনি স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন বিমার আওতায় আনতে হবে।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. এম এ সামাদ। তিনি বলেন, কিডনি রোগীরা দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। আমরা জানি কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক। বিশ্বে ৮৫ কোটি লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে দুই কোটিরও অধিক কিডনি রোগী। প্রতি বছর ৩৫-৪০ হাজার লোকের কিডনি সম্পূর্ণ বিকলের শিকার বাংলাদেশে। এদের বেঁচে থাকার জন্য ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ডায়ালাইসিস সাধারণত সপ্তাহে ২-৩ দিন করতে হয়। দুর্যোগের কারণে ডায়ালাইসিস বন্ধ হলে মৃত্যু এগিয়ে আসবে। কিডনি সংযোজনের রোগীদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে, ওষুধ নিয়মিত না খেলে সংযোজিত কিডনি বাতিল হয়ে যেতে পারে। আবার দুর্যোগের সময় আঘাত, রক্তক্ষরণ, দুর্যোগ পরবর্তী ডায়রিয়া ইনফেকশন এসব কারণে তীব্র মাত্রার আকস্মিক কিডনি বিকল হতে পারে। যার জন্য ডায়ালাইসিস প্রয়োজন। অল্প মাত্রার দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে সম্পূর্ণ কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। তখন ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হবে। তাই কিডনি রোগীরা দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
ডা. এম এ সামাদ আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় কিডনি রোগীদের পূর্ব প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। যেমন- প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখা। বিকল্প ডায়ালাইসিস সেন্টার সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা নিয়ে রাখা। সাহায্যকারী নেটওয়ার্ক তৈরি করে রাখা। যেমন-বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশীদের সহায়তা। ডায়ালাইসিস পেতে বিলম্ব হলে সাময়িক খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, যেমন- পানি কম, মাছ-মাংস কম, পটাশিয়াম যুক্ত খাবার যেমন-ফল ও সবজি পরিহার করা।
গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মিজানুর রহমান, মহাপরিচালক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আলী আহাম্মেদ খান, সাবেক মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। স্থপতি ইকবাল হাবিব, যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা। ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, অধ্যাপক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ, সভাপতি, কিডনি ফাউন্ডেশন। অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন চৌধুরী, সভাপতি, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন।
আরও ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল। ড. আব্দুল লতিফ হেলালী, প্রকল্প পরিচালক, আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট। গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক, হৃদরোগ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।
১ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
১ দিন ১৫ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
১ দিন ১৬ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে