◾ নিউজ ডেস্ক
আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে সরকার তথা আওয়ামী লীগকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। চলছে দল পুনর্গঠন, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে দেনদরবারসহ নানামুখী তৎপরতা। রাজপথে নিজেদের শক্ত উপস্থিতির জানান দিতে কয়েক মাস ধরে ইস্যুভিত্তিক নানা কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি মাঠে আছে।
এর মধ্যে ভোলায় পুলিশের গুলিতে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের দুই নেতা নিহত হওয়ার পরও আন্দোলনে ভাটা পড়েনি। দলের নীতিনির্ধারক নেতারা বলছেন, যত যা-ই হোক না কেন, বিএনপি মাঠ ছাড়বে না।
মাঠ দখলে রাখার জন্য আগামী ২২ আগস্ট থেকে সারা দেশে লাগাতার কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সব মহানগর, জেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করার জন্য কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে এরই মধ্যে সব সাংগঠনিক জেলা কমিটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
গত ১১ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটিরি উদ্যোগে রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউন করেছে বিএনপি। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সমাবেশে দীর্ঘদিন পর বিপুল জমায়েত করে দলটি। এ সমাবেশ থেকে রাজপথ দখলের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করার হুমকিও দেন দলটির নেতারা।
আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও বিএনপি নেতাদের এমন হুমকির জবাব দিতে গত বুধবার রাজধানীতে বিরাট শোডাউন করেছে আওয়ামী লীগ। বিরোধীদের কাছে মাঠের কর্তৃত্ব যে ছেড়ে দেবে না, এটা বোঝাতেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে শোকের মাস আগস্টে এমন জমায়েত করেছে দলটি।
তবে এ নিয়ে বিএনপির শীর্ষনেতারা মাথা ঘামাচ্ছেন না। তাদের কথা একটাই- মাঠ ছাড়বেন না তারা। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা নানা ইস্যুতে কর্মসূচি দিচ্ছি। এগুলো আমাদের নিয়মিত কর্মসূচি। আমরা আমাদের এসব নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে যাব। আমাদের কর্মসূচি সফল করার প্রস্তুতি রয়েছে। এর বাইরে কারা কী কর্মসূচি দিল, এ নিয়ে আমাদের দেখার কিছু নেই। আমরা এ নিয়ে চিন্তিত নই।’
এর আগে গত বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘মানুষকে আস্তে আস্তে তৈরি করে সম্পৃক্ত করে রাস্তায় নামানোই হচ্ছে আন্দোলন। আমরা সেই কাজটিই করছি। আপনারা লক্ষ করেছেন, আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে মানুষ এখন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। মানুষ যখন রাস্তায় বেরিয়ে আসবে, প্রতিবাদ করবে তখনই আন্দোলন সফল হবে।’
সূত্র জানায়, চলমান কর্মসূচির পাশাপাশি নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত আন্দোলনের রূপরেখা প্রস্তুত করছে বিএনপি। আগামী সোমবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এরই মধ্যে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির প্রথম পর্যায়ের সংলাপে সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে। দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর আন্দোলনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘২২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি আগে শেষ হোক। তারপর বলতে পারব আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে কি না।’
আন্দোলন কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একটি আন্দোলনকে সফল পরিণতি দিতে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর বৃহত্তর ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির প্রতিটি সভা-সমাবেশে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে আমাদের আরও পরিকল্পনা রয়েছে।’
১০ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১ দিন ৫০ মিনিট আগে
৬ দিন ১৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৬ দিন ১৫ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
৭ দিন ১৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৭ দিন ১৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৮ দিন ৪ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৮ দিন ৭ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে