ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বরিশালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, ভোগান্তিতে মানুষ হাফ ভাড়ার দাবীতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ বরিশালে এক মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল প্রথম কন্যা সন্তানের বাবা হলেন বরিশালের সাংবাদিক জিহাদ রানা ইবিতে সাহিত্য সম্ভার কতৃক সাহিত্য মজলিস ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বরিশালে সবজির দাম কিছুটা কম, চালের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ৮ ডিসেম্বর থেকে বরিশালের চরমোনাইতে মাহফিল শুরু ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে তালতলীর শুঁটকি পল্লীর জেলেদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় মুরাদনগর ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সপ্তম বছরে পদার্পণ ৫ বছরেও চালু হয়নি বরিশালে শতকোটি ব্যয়ের পানি শোধনাগার ধূমপানে সীসার জন্ম অতঃপর মৃত্যু বরিশালে প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আর্থিক সহায়তা বিতরণ বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে প্রথম ট্রিপেই নৌযান চলাচলে দুর্ভোগে যাত্রীরা বরিশাল র‌্যাব-৮'র অভিযান : অস্ত্র-গোলাবারুদসহ পাঁচ জলদস্যু আটক কুড়িগ্রামে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালন ৫ বছর প্রেম, অত:পর বিয়ের পিঁড়িতে বর-কনে কক্সবাজার বিমানের ধাক্কায় গরু নিহত: বিমানবন্দরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু বরিশালে নবাগত ইউএনওকে নবাগত ইউপি চেয়ারম্যানের শুভেচ্ছা ববি’র ১২তম স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড’র পুরস্কার বিতরণ বরিশালে ২৫ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বারোপ করতে হবে

সায়েম আহমাদ - স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশের সময়: 15-09-2021 14:34:44

Photo caption : জামাল উদ্দিন



মহামারী কররোনার প্রভাবে বিপর্যস্ত সমগ্র বিশ্ব। কর্মব্যস্ত পৃথিবী যেন থমকে দাঁড়িয়ে ছিল। কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উন্নত দেশ থেকে শুরু করে অনুন্নত দেশ। কিন্তু উন্নত দেশগুলো তাদের প্রযুক্তির সহায়তায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠলেও বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। হয়তো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষা খাত। গত বছরের মার্চ থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের মতো এত দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে মাত্র ১৩টি দেশে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় কেবল বাংলাদেশ। এসব দেশে এত দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ১৬ কোটি ৮০ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বাংলাদেশেরই রয়েছে তিন কোটি ৭০ লাখ। তবে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পরে বিশ্বে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদিক দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করে ঠিক তখনই গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১৫ ই অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। ফলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালা। প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৃতপ্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। অতীতের ন্যায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে স্কুল-কলেজের আঙিনা। সৃষ্টি হয়েছে ছাত্র-শিক্ষকদের মিলনমেলা। হয়তো হারিয়ে যাবে সহপাঠীদের পরিচিত চেনা মুখে। এর মাঝেও করোনায় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে গিয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি সংবাদপত্রে প্রকাশ পায় যে, সাতক্ষীরার একটি স্কুলের প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়ে যায়। হয়তো তারা আর ফিরবেনা শিক্ষাঙ্গনে। আর যারা ফিরবে তারা কতটুকু পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবে সে প্রশ্ন রয়ে যায়। কোভিডের কারণে বাবা-মায়ের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে এরই মধ্যে ঢাকাসহ অন্যান্য শহর ছেড়েছে বহু শিশু, অর্থনৈতিক দুর্দশার শিকার হয়ে কাউকে কাউকে বই-খাতা ছেড়ে বসতে হয়েছে বিয়ের পিঁড়িতে, কেউ কেউ যাচ্ছে কলকারখানায়, কেউ গাড়ির হেলপারি করছে। এছাড়া দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধের কারণেও লেখাপড়া ছেড়ে ঘোরাঘুরি-খেলাধুলা ও আড্ডায় মেতেছে অনেক শিশু-কিশোর। পরিস্থিতির কারণে এখন সবাই স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছেন। কিন্তু যারা আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরবে না তাদের নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না। সেভ দ্য চিলড্রেনের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মহামারির কারণে বিশ্বে ৯৭ লাখ শিশুর হয়তো আর ক্লাসে ফেরা হবে না। যাদের অনেকে বাল্যবিয়ের শিকার হবে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জুলাইয়ে এক গবেষণায় জানায়, কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বব্যাপী অন্তত চার কোটি শিশু স্কুল শুরুর আগে প্রারম্ভিক শৈশবকালীন শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও ইউনিসেফের এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ সংকটের ফলে লাখো শিশুকে শ্রমে ঠেলে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তবে অনেক দিন স্থবির থাকার পর স্কুল খুলছে। দীর্ঘদিন স্কুলে না যাওয়ার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হবে। এজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে কিছু পদক্ষেপ সুফল বয়ে আনতে পারে। যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর থেকে কিছুদিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার আয়োজন, সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সফর নিশ্চিত করা। এবং পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষা নামক চাপ প্রয়োগ থেকে মুক্ত রাখা। উপরোক্ত পদক্ষেপ গুলোর পাশাপাশি সরকারি নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এবং সব শেষে সকল সমস্যা কাটিয়ে আমাদের শিক্ষাঙ্গন গুলো মুখরিত হয়ে উঠুক এটায় এখন বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তি। আর আলোক শিক্ষা প্রজ্জ্বলিত হোক আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো।


মোঃ জামাল উদ্দিন

শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি ব্যাবস্থাপনা বিভাগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া



Tag
আরও খবর


আমার একজন বড় ভাই আছেন

৫৯ দিন ৪৬ মিনিট আগে


মা ইলিশ রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে

৬০ দিন ১২ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে