কৃষকরা কি দেশের প্রাণ? ‎শ্রীমঙ্গলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে সনদ বিতরণ কালাইয়ে মাদক মামলায় যুবকের জেল ও জরিমানা রায়পুরে তেলের সংকট নিরসনে ইউএনও’র উদ্যোগে মতবিনিময় সভা, ফুয়েল কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী শ্যামনগরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী ৩৭৬ জন ‎সুন্দরবনে ১১ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ, তদন্তে কোস্ট গার্ড শার্শার বাগআঁচড়ায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির অপরাধে ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষকে জরিমানা! ববি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ডিজিটাল মিডিয়া ল্যাব উদ্বোধন নওগাঁর নিয়ামতপুর ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যকে মারধর মোটরসাইকেল আরোহীর গ্রেফতার ঝিনাইগাতীতে আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত লাখাইয়ে প্রাথমিক বৃত্তি শুরু, পরীক্ষায় ২৬৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত। ঈশ্বরগঞ্জে পেট্রোলের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে স্পিকারের বিস্ফোরক মন্তব্য সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ‎বঙ্গোপসাগরে প্রজনন রক্ষায় ৫৮ দিন সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ নোয়াখালীতে বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল সাতক্ষীরায় বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিনে উপস্থিতি ৬১ শতাংশ সাতক্ষীরায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হামলায় মামুন কারাগারে ঝিনাইগাতীতে এসআইএল-এর আয়োজনে বসতভিটায় শাক-সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন প্রকার সবজির বীজ বিতরণ

বহুজাতিক কোম্পানির কূটকৌশলে বাড়ছে ই-সিগারেটের ব্যবহার

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 05-04-2023 07:05:39 am

তরুণদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন কূটকৌশল প্রয়োগ করে দেশে ই-সিগারেটের বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ করছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। এতে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) একটি সেমিনারে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ইন্টার প্রেস নেটওয়ার্ক-আইপিএন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এই সেমিনারের আয়োজন করে।


‘বাংলাদেশে নতুন পণ্য বিস্তারে তামাক শিল্পের কূটকৌশল’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন যৌথভাবে সম্পাদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মী এহসানুল হক জসীম এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সৈয়দ সাইফুল আলম। ৬ মাসব্যাপী মাঠ পর্যায়ের এই গবেষণা পরিচালিত হয় ২০২২ সালে।


গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে বলা হয়, ২০১২ সালে বাংলাদেশে প্রথম ই-সিগারেট আসার পর প্রথম ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কেবল রাজধানীর কিছু অভিজাত এলাকায় এটির অল্প কিছু দোকান ছিল। ই-স্মোকারের সংখ্যাও তখন খুবই কম ছিল। এখন সারাদেশে ই-সিগারেট পাওয়া যায়। জ্যামিতিক হারে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ই-স্মোকারের সংখ্যা, ই-সিগারেটের ব্যবহার।


এই সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত, এই সময়ের মধ্যে চালু হয়েছে এবং এখনও ই-সিগারেট বিক্রি করছে, এমন দোকানের সংখ্যা ২২ শতাংশ। বাকি ৭৮ শতাংশ ই-সিগারেটের দোকান ২০১৬ সালের পর (২০১৭-২০২১) পাঁচ বছরের মধ্যে চালু হয়। মাত্র পাঁচ বছরে কয়েকগুণ ভ্যাপিং শপ বৃদ্ধি পেলেও পুরোনো দোকানগুলোর বিক্রি কমেনি; বরং নতুন ও পুরোনো দোকানগুলোতে দিন দিন বিক্রি বাড়ছে। মাত্র কয়েক বছরে বেশির ভাগ ই-সিগারেটের দোকান চালু হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে খুবই দ্রুত ও আশঙ্কাজনক হারে ই-সিগারেটের ব্যবহার বিস্তারের প্রমাণ বহন করে। তামাক কোম্পানীগুলোর বিভিন্ন কূটকৌশলের কারণে বাংলাদেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার ও নতুন এই তামাক পণ্যের বাজার জ্যামিতিক হারে বিস্তৃত হচ্ছে।


আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে এই গবেষণা প্রতিবেদনে। ই-সিগারেটের বাজার সম্প্রসারণ রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি)  অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠনেরও সুপারিশ করা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।


এই গবেষণা প্রতিবেদনে আনা সুপারিশের বিষয়ে একমত পোষণ করে বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন সেমিনারে। প্যানেল আলোচক ছিলেন মানসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বারডেমের ডেন্টাল বিভাগের প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী। সেমিনারে আরও অংশ নেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মহিউদ্দীন ফারুক, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমদ।


ইন্টার প্রেস নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক মো. গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান এবং বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসির (বিএনটিটিপি) হামিদুল ইসলাম হিল্লোল।


ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, অনেক তরুণ-তরুণী প্রথমে ই-সিগারেট গ্রহণ করে পরে ইয়াবা, হিরোইন, কোকেইনের মতো মাদকের দিকে ঝুঁকছে। আইনের মাধ্যমে ই-সিগারেট বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধন করতে হবে।


ড. নাসির উদ্দীন আহমদ বলেন, ই-সিগারেটের মতো ক্ষতিকর তামাক পণ্য আমদানির অনুমোদন দেওয়া যাবে না। অধ্যাপক ডা. মহিউদ্দীন ফারুক বলেন, ই-সিগারেট ব্যবহারের ফলে তরুণরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে আছে। তরুণ প্রজন্মকে ই-সিগারেটের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নিতে হবে।


আবু নাসের খান বলেন, তরুণদেরকে ধ্বংস করার ভয়ংকর উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশে ই-সিগারেটের বিস্তার ঘটানো হচ্ছে; এই তামাক পণ্য এখনই থামাতে হবে।


অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, শুধু তরুণ নয়, শিশুদের মধ্যেও ই-সিগারেটের বিস্তার ঘটছে। ই-সিগারেটের পরিবেশগত ক্ষতি ও বায়ুদূষণ নিয়ে আলাদা গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, বাংলাদেশে নতুন এই তামাক পণ্যের বিস্তারে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো আগ্রাসী বিপণন কৌশলের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের আগ্রাসী কার্যক্রম এভাবে অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। তাই অবিলম্বে ই-সিগারেটের নিষেধাজ্ঞা আরোপই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো সমাধান।


গবেষণা ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমেরিকার টোব্যাকোসহ (বিএটি) বিভিন্ন বহুজাতিক তামাক কোম্পানি বাংলাদেশ ই-সিগারেট বিস্তারে কাজ করছে। জনসংখ্যার অনুপাতে গত কয়েক বছরে দেশে প্রচলিত ধূমপায়ীর হার কমেছে। কিন্তু বহুজাতিক বিভিন্ন তামাক কোম্পানির কৌশল এবং প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ই-সিগারেট এখন তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।


ই-সিগারেট গ্রাহকদের বেশিরভাগই যুবক, বিশেষ করে ছাত্র। তথাকথিত ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরে তরুণদের ই-সিগারেটের প্রতি আকৃষ্ট করা হয়। কখনও ধূমপান করেনি এমন তরুণ-যুবকদের অনেকেও ই-সিগারেটের প্রতি অভ্যস্ত করতে তামাক কোম্পানীগুলো এবং তাদের সহযোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করছে।


তামাক কোম্পানীগুলোর প্রধান টার্গেটে বাংলাদেশ হওয়ার কারণ এদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী। সেই জনগোষ্ঠীর বড় অংশটি তরুণ-যুবক। ঐতিহাসিকভাবে তামাক কোম্পানীগুলো দীর্ঘমেয়াদি ভোক্তা তৈরির কৌশলের অংশ হিসেবে তরুণ-যুবকদেরই টার্গেট করে থাকে। কৌশলের অংশ হিসেবে তামাক শিল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও ব্যবহার করে, বিশেষ করে যারা সাধারণত সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকে।


সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৮০ শতাংশ বিক্রেতা জানিয়েছেন, ই-সিগারেট ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক সাইট উভয়ই ব্যবহার করেন। ৯৪ শতাংশ দোকান সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে। তারা অফ-লাইন মিডিয়াও ব্যবহার করে। তরুণদের ই-সিগারেট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি ভ্যাপিং উৎসবেরও আয়োজন করা হয়।


বহুজাতিক তামাক কোম্পানির বিভিন্ন ব্রান্ডের ভ্যাপিং পণ্য বাংলাদেশে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় শীর্ষস্থানীয় কোনো কোনো তামাক কোম্পানির সরাসরি তত্ত্বাবধানে ই-সিগারেটের দোকান পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা নগরীতে অন্তত ৩৯টি আউটলেটের সন্ধান পাওয়া যায় যেখান থেকে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি পর্দার অন্তরালে থেকে ই-সিগারেট বিক্রি করছে।


বিগত ২২ বছরের ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে অনেক বহুজাতিক তামাক কোম্পানি নিরবে ই-সিগারেট ব্র্যান্ড এবং ই-সিগারেটের সম্পৃক্ত অন্যান্য অনেক পণ্যের ট্রেডমার্ক নিবন্ধন নিয়ে রেখেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে ই-সিগারেট আমদানি করা যেমন এই তামাক পণ্য বাংলাদেশে বৈধ করা কূটকৌশলের অংশ, তেমনি ট্রেডমার্ক নিবন্ধন বৈধ করা আরেকটি কূটকৌশল বলছেন গবেষকরা।

আরও খবর