সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাংবাদিক এমএম জুলফিকার আলি জিন্নাহর ওপর হামলা, মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালতে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার ছয়জন আসামির মধ্যে ৪ নম্বর আসামি ছাড়া বাকি পাঁচজন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুনের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর চার আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়।
বাদীপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট পিন্টু। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট তোজামসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিক এমএম জুলফিকার আলি জিন্নাহ সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি আমমোক্তারনামা দলিল সম্পাদনের জন্য উপস্থিত হন। দলিলটি খুলনার সোনাডাঙা থানার পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার মোকসুদার রশিদের লক্ষীদাঁড়ি মৌজার ১৮ শতক জমি সংক্রান্ত। এ জমির আমমোক্তারনামা দলিলের জন্য পূর্বে একাধিক কিস্তিতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল এবং বাকি ৫ লাখ টাকা রেজিস্ট্রির সময় দেওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রারের এজলাসে দলিল সম্পাদনের সময় আসামিরা জিন্নাহর কাছে অতিরিক্ত ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা তাকে এজলাস থেকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যায় এবং লোহার রডসহ বিভিন্নভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে।
পরবর্তীতে তাকে আবারও এজলাসে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে চাঁদা দাবি করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আসামি শেখ মাহাবুব উল্লাহ জিন্নাহর ডান পকেট থেকে ২ লাখ টাকা এবং আসামি টুটুল বাম পকেট থেকে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক এমএম জুলফিকার আলি জিন্নাহ বাদী হয়ে সদর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— শহরের কাটিয়া লস্করপাড়ার সৈয়দ শাখাওয়াত আলীর ছেলে সৈয়দ রেজাউল হোসেন টুটুল ও তার ছেলে শিহাব, মুনজিতপুর এলাকার ইশারত আলী পান্নার ছেলে শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কাটিয়ার শেখ মোশাররফ হোসেনের ছেলে শেখ মাহাবুব উল্লাহ, সদর উপজেলার ঘোনা গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে তরিকুল ইসলাম এবং পলাশপোল এলাকার সাইফুল ইসলাম।
১ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে