দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আলোড়ন নামক এক ছাত্রী নিবাস থেকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় যুবতীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টা ৩০মিনিটে দিনাজপুর পৌরসভাস্থ মির্জাপুর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আলোড়ন ছাত্রী নিবাসে এ ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ এবং ছাত্রী নিবাসে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায় মৃত যুবতীর নাম লিপি রায় (২৮) ।সে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে বাংলায় মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে।চাকরির প্রিপারেশনের জন্য গত এক বছর যাবত ম্যাচে অবস্থান করছিল। নিহত লিপি রায় ঠাকুরগাঁও জেলার ভাওয়াল ঘাট এলাকায় রাজ কুমারের মেয়ে।
ম্যাচের একটি কক্ষে নিহত লিপি রায় ও তার ছোট বোন একত্রে থাকতো।ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহত লিপি রায়ের ছোট বোন ভাই ফোটা উপলক্ষে বাসায় চলে যায়।ছোট বোনের অনুপস্থিতিতে বড় বোন লিপি রায় মৃত্যুর পুর্বে হ্যান্ড নোট লিখে রেখে সিলিং এর সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল শেখ মোঃ জিন্নাহ আল মামুন ও কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরিদ হোসেন ।এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল শেখ মোঃজিন্নাহ আল মামুন প্রাথমিক তদন্ত শেষে ছাত্রী নিবাসে অবস্থান করা অন্যান্য ছাত্রীদের একত্রিত করে আত্মহত্যার প্রবনতা হ্রাসে সংক্ষিপ্ত কাউন্সিলিং করেন।এ সময় তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন ছোট থেকে বাবা মা কষ্ট করে লালন পালন করে বড় করেন।সন্তানের একটা ভুলের কারনে খেসারত দিতে হয় বাবা মাকে।লিপি হয়তো আবেগের বশে বা হতাশায় আত্মহত্যা করে পৃথিবী থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।কিন্তু তার বাবা মাকে এই যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হবে যতদিন বেঁচে থাকবে।এমনকি লিপির আত্মহত্যায় সামাজিক রীতিনীতিতে যে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরবে এটাও তিনি উল্লেখ করে ছাত্রীদের সচেতন করে দেন।বিশেষ করে মোবাইলের আশক্তি ও মোবাইল ব্যবহারে সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনের দিক নির্দেশনা দেন।
নিহত লিপি রায়ের ক্লোজ বান্ববী লাকি জানায় নিহত লিপির হরেশ চন্দ্র রায় নামে এক ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল।কিন্তু তার পারিবারিকভাবে অগ্রণী ব্যাংকে কর্মরত উজ্জ্বল নামে এক ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয়।এবং লিপি বাবা মার পছন্দেই বিয়ে করতে রাজি হয়।কিন্তু লিপির বন্ধু হরেষ চন্দ্র তার সাথে লিপির সম্পর্কের কথা বলে পারিবারিকভাবে ঠিক করা বিয়ে ভেঙে দেয়।হতাশা আর আক্ষেপেই লিপি আত্মহত্যা করেছে বলে তারা মনে করেন।কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরিদ হোসেন বলেন প্রাথমিকভাবে তদন্ত ও সুরতহাল শেষে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে ।ময়নাতদন্ত শেষে লিপির মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে ।আলোড়ন ছাত্রী নিবাসের মালিক দিনাজপুর গার্লস স্কুলের সহকারি শিক্ষক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন নিহত লিপি রায় এক বছর থেকে চাকুরীর জন্য প্রস্তুতি কোচিং করতে আমার ম্যাচে উঠেছে।এবং সে তার ছোটবোনের সাথেই এক কক্ষে থাকতো।মৃত্যুর আগে সে একটি সুসাইড নোট দিয়ে গিয়েছে।তবে তার আত্মহত্যার প্রকৃত কারন পুলিশি তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে জানান।