বৈরী আবহাওয়ার প্রতিকূলতা আর অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে দিনাজপুরে লিচুর বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা জাতের লিচু।চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এবং দাম বেশি হলেও লিচুর বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় ।একদিকে সিজনাল ফল অন্যদিকে দিনাজপুরের প্রসিদ্ধ লিচু না খেলে অপূর্ণতাই থেকে যায় তাই দাম যাই হোক খেতেতো হবেই এমনটাই মন্তব্য করেছে লিচু কিনতে আসা একাধিক ক্রেতা।অন্যদিকে ত়ীব্র তাপদাহসহ বৈরী আবহাওয়ায় ফলন বিপর্যয় ও সরবরাহ কম থাকায় জাত ভেদে লিচুর দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় দিনাজপুর জেলা জুড়ে লিচুর চাষ হয় ৫হাজার ৪৯০হেক্টর জমিতে।মোট ৫হাজার ৪৯০টি লিচুর বাগানে বোম্বাই লিচু ৩হাজার ১৭০হেক্টর,মাদ্রাজি ১হাজার ১৬৬হেক্টর,চায়না-থ্রি ৮০২ হেক্টর,বেদানা ২১৫ দশমিক ৫হেক্টর,কাঁঠালি ৫৬হেক্টর ও মোজাফফরপুরী ১হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় ।এবার ৫০০কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ।
সোমবার দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহৎ ফলের আড়ত কালিতলা নিউ মর্কেটে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বিভিন্ন বিভিন্ন জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে।আকার ভেদে বোম্বাই লিচু বিক্রি হচ্ছে হাজার ৪হাজার থেকে ৪হাজার৫শ ,মাদ্রাজি ৫হাজার থেকে ৬হাজার,চায়না থ্রি ১০ হাজার থেকে ১৬হাজার,এছাড়াও কাঁঠালি লিচু ১৪হাজার থেকে ১৮হাজার ,বেদনা লিচু ৫হাজার ৫শ থেকে ৭হাজার টাকা প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ।তবে আকার ভেদে লিচুর দামের কিছুটা তারতম্য লক্ষ্য করা যায় ।নিউমার্কেট ফলের মার্কেটে লিচু কিনতে আসা বালুবাড়ী নিবাসী নমিতা রানি সরকার বলেন গত বারের তুলনায় এবারে লিচুর দাম অনেক বেশী ।তবুও বছরের ফল দাম হলেও খেতেতো হবেই,ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা দিনাজপুর নিউ মর্কেটে লিচু কিনতে আসা শাকিল বলেন দিনাজপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত তাই এখানে লিচু কিনতে এসেছি।দাম কোন বিষয় নয় ।স্বাদ আছে ,সাধ্য যাই হোক খেতেতো হবেই। চিরিরবন্দর উপজেলা থেকে লিচু কিনতে আসা এম এ হাকিম বলেন ঢাকায় থাকি এই ফল মার্কেটের নাম অনেক শুনেছি কিন্তু কখনও আসা হয়নি।এবার বাড়িতে এসেছি তাই এই ফল মার্কটে লিচু কিনতে আসলাম।তবে নিম্ন আয়ের অনেকে বলছেন লিচুর যে দাম তাতে স্বাদ থাকলেও সাধ্য নেই।লিচুর খুচরা বিক্রেতা রহমান বলেন লিচুর আমদানি প্রচুর হলেও দামের কারনে লিচু বিক্রি করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।এছাড়াও আমাদের পাইকারদের কাছ থেকে বেশী দামেই লিচু কিনতে হচ্ছে।
লিচু বিক্রেতা মাসুদ বলেন দিনাজপুরে এই ফল মার্কেটে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারনে গত বছরে লিচু বিক্রি করতে পারিনি এবার আবার পুরোনো ফল মার্কেটে চালু হওয়ায় ক্রেতাদের ভীর অনেক বেশী এবং লিচু বিক্রি করেও আনন্দ পাচ্ছি।এছাড়াও তিনি বলেন ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট থেকে শুধু দেশেই নয় বিদেশেও প্রচুর পরিমানে লিচু যাচ্ছে।আবহাওয়ার বৈরিতার কারনে লিচুর ফলন কম হলেও লিচুর গুনগতমান কিন্তু নষ্ট হয়নি।এখানে বিভিন্ন জাতের লিচুর ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে এবং ক্রেতারা উৎসাহের সাথেই দাম হলেও লিচু কিনে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছে।কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নুরুজ্জামান বলেন এবারে ৪০হাজার টন লিচু উৎপাদন ও ৫০০কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা আছে।তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের কারনে লিচু কিছু ঝড়ে পরলেও খুব বেশী ক্ষতি হয়নি।কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়ায় চাষীরা খুব বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।