একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত গ্রাহক পরিচালক সমিতির সহ সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান ও এলাকা পরিচালক মোঃ সাজ্জাদুল ইসলামকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১এর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা থেকে নিম্ন পদস্থ কর্মচারী ও ইলেকট্রিশিয়ান সমিতির সদস্যরা।
২০আগস্ট সকালে দিনাজপুর সদরের উওর গোবিন্দপুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুত সমিতি ১এর প্রধান কার্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি ১এর সিনিয়র জেলারেল ম্যানেজার মোঃ আক্তার হোসেনের উপস্থিতিতে মানব বন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুত গ্রাহক পরিচালক সমিতির সহ সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান ও এলাকা পরিচালক মোঃ সাজ্জাদুল ইসলামের রোষানলে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্ন পদস্থ কর্মচারী ও দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক দিনমজুর ও ইলেকট্রিশিয়ান কেউ রক্ষা পাইনি।দিনের পর দিন তাদের অন্যায় আর অবিচার নীরবে সহ্য করেছি।আর না,তাদের হাত থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।তাদের পল্লী বিদ্যুত সমিতি থেকে অপসারন করতে হবে।দিনাজপুর সদর ৩আসনের সাবেক এমপি ও হুইপ ইকবালুর রহিমের ছত্র ছায়ায় থেকে একের পর এক অন্যায় করে গেছে।যেমন জি এম সাইফুল ইসলামকে জিম্মি করে দিনাজপুর শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন।একইভাবে ডিজিএম মোঃ আব্দুল কাদেরকে শহরের সুইহারি মা ফার্নিচারের আয়নাঘড়ে ঢুকিয়ে বিভিন্ন ভাবে লাঞ্ছিত করেছে।এসি আর নাম্বার দেবার নাম করে বিভিন্ন অফিসারদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছে।তাদের হাত থেকে রেহাই পাইনি দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা সামান্য নৈশ প্রহরী ও ইলেকট্রিশিয়ানরাও। বিধি মোতাবেক দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত নিরাপত্তা প্রহরী সুলেন চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে জোরপূর্বক চাকুরিচ্যুত করে পুনরায় চাকুরি ফেরত দেওয়ার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে ২লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং সাবুল নামের অন্য এক ব্যক্তিকে তার স্থলাভিষিক্ত করে।এ ঘটনায় সুলেন বাদী হয়ে বোচাগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন । এছাড়া বিভিন্ন জোনের ইলেকট্রিশিয়ানদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং সদরের দক্ষিন কোতয়ালি বটের হাট গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা ফজর আলী নামক এক ব্যাক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ১লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ সহ সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান ও এলাকা পরিচালক মোঃ সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না।তৎকালীন সরকারের ক্ষমতা ও প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে উপার্জন করেছেন কোটি কোটি টাকা।যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্তে বেরিয়ে আসবে কোটিপতি হওয়ার আসল রহস্য ।
পল্লী বিদ্যুত সমিতি ১এর ইলেকট্রিশিয়ান সমিতির সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী বলেন দৈনিক মজুরি ভিত্তির নিরাপত্তা প্রহরী সুলেন চন্দ্র রায়কে চাকুরিতে পুনঃবহালের আশ্বাস দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে গরু ছাগল বিক্রি করে সে দুই লাখ টাকা দেবার পরেও তাকে চাকুরি না দিয়ে তার জায়গায় অন্যজনকে চাকুরি দেয়ায় এ ঘটনাটি সুলেন আমাকে জানালে আমি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে কথা বললে গত ১৫আগস্ট সন্ধ্যায় মোঃ মশিউর রহমান দলবল নিয়ে আমার সুইহারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রাননাশের হুমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যায় ।এই মর্মে আমি দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। আজকে পল্লী বিদ্যুত সমিতির উর্ধতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা নিম্নমানের শ্রমিকরাও তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছি।অনতিবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারলে আজীবন তাদের গলগ্রহ হয়ে বেঁচে থাকতে হবে। গ্রাহক পরিচালক পর্ষদ থেকে অপসারণ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরৃন্দ।
মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে এসময় পল্লী বিদ্যুত সমিতির বিভিন্ন জোনের ডিজিএম ,,এজিএমসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।