মণিরামপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার গ্রাম থেকে ডেকে নিয়ে যশোর শহরের খালধার রোড এলাকার একটি বাড়িতে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ২০ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ যশোর আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামীকে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে অভিযুক্ত জাকিরসহ তাদের লোকজন। এমনকি হাসপাতালে এসে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ ও সঙ্গে থাকা স্বজনদেরও শাসিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকিরের বিরুদ্ধে।
হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ জানান, মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বেগারিতলা বাজারে আমার স্বামীর একটা চটপটির দোকান রয়েছে। দোকানটি স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলেই পরিচালনা করি। দোকানের সামনেই ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও কাঠ ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের কাঠগোলা। দোকানে বসার সুবাধে জাকির মাঝে মধ্যে আমাদের দোকানে এসে বসে। এক পর্যায়ে সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। জাকিরের সাথে বিয়ে না করলে সে তার স্বামীকে হত্যার হুমকি, ইয়াবা- ফেনসিডিল দিয়ে জেলে পাঠানোরও হুমকি দিতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে দোকানে এসে হুমকি দেয়; তার সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে আজই তার স্বামীকে ইয়াবা-ফেনসিডিল দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিবে। স্বামীর জীবন বাঁচাতে আমি তার সিদ্ধান্ত মেনে নেই। এর পর ওই দিনই বিকেলে গাড়িতে করে জাকির যশোর শহরের খালধার রোড এলাকায় ছয়তলা বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে জোর করে ধর্ষণ করে। এই ঘটনা প্রকাশ করলে তার স্বামীকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন জাকির।
গৃহবধূর মা জানান, ‘চার মাস আগে মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়ের প্রলোভন ও প্রতারণা করে তার মেয়েকে জাকির ধর্ষণ করেছে। এই ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তার জামাইকেও মারধর করেছে জাকির। শুক্রবার সকালে হাসপাতালে জাকির ও তার লোকজন এসে এই বিষয়ে মামলা করলে আমাদের কেউ বাঁচতে পারবে না বলে হুমকি দেন। এই ঘটনায় মণিরামপুর ও যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ উঠেছে সেটা সম্পন্ন মিথ্যা। গৃহবধূর সাথে আমার কোন সম্পর্ক সৃষ্টি হয়নি এবং বিয়ের প্রলোভনও দেয়নি কখনো। স্থানীয় অপ-রাজনীতির কারণে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুস সামাদ জানান, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আসা এক গৃহবধূ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিজ উদ্যোগে চিকিৎসকরা আলামত সংগ্রহ করেছেন। পুলিশ চাইলে রিপোর্ট দেওয়া হবে। এই বিষয়ে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১ দিন ৫ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
২ দিন ৫ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১১ দিন ১০ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
১৫ দিন ১৭ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১৬ দিন ১৭ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
২২ দিন ৬ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
২৩ দিন ৫ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে