পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনে নৌকার বিজয় ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।
আওয়ামী লীগের একাধিক অঙ্গ-সংগঠন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সেলিম মিয়া'র পক্ষে ঘোড়া মার্কার গণসংযোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উপজেলা ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নৌকার প্রার্থী বেকায়দায় পড়েছেন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।
আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়াতে গত ১৩ মে সেলিম মিয়াকে আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারা মোতাবেক দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করে উপজেলা আওয়ামীলীগ। দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনে তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান পদে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মাষ্টারকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেন। গত ৯ এপ্রিল উপ-নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হলে উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ন-আহবায়ক মোঃ জিল্লুর রহমান ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান নৌকার বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে অংশগ্রহন করে এবং নৌকার বিপক্ষে প্রচারণা শুরু করেন।
এর কিছুদিন আগে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান নৌকা ডুবাবে এমন একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অথচ এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গত ৫ বছর সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের একনিষ্ঠ লোক (ডানহাত) ছিল বলে জানায় স্থানীয়রা। তিনি রহস্যজনকভাবে অজানা কোন স্বার্থের কারনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানা যায়। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান নিরু (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছেন। ক্ষমতা আর প্রভাব খাটিয়ে নৌকার সমর্থক, কর্মী ও ভোটারদের গোপনে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর নেতাকর্মীরা এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে বিএনপি দলীয়ভাবে প্রার্থী না দিলেও ওই ইউনিয়ন বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা মনে করেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা এভাবে মাঠে থাকলে আওয়ামীলীগের সাথে আওয়ামীলীগেরই লড়াই হবে। আর এর সুবিধা নিবে বিএনপির একক প্রার্থী কামাল হোসেন। এতে আওয়ামীলীগের বিপক্ষে আওয়ামীলীগই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটারদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এনিয়ে আবার কেউ মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না। তাই এখনই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে নৌকা প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে হবে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।
নির্বাচনের অন্যান্য প্রার্থীরা হল- বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন মনোনীত নুর মোহাম্মদ মৃধা (হাতপাখা), মোঃ বাদশা খান (টেলিফোন) ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যোনের পুত্র মোঃ সোহেল হোসেন (চশমা)।
আগামী ২৫ মে ইভিএমের মাধ্যমে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
কাকাড়াবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রফেসর মোঃ সিরাজুল ইসলাম (নিলু) বলেন, আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মাষ্টার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। তিনি এর আগেও নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ইউনিয়ন থেকে ৪ জন প্রার্থী নৌকার কান্ডারী হওয়ার জন্য মনোনয়ন চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীর আলাম মাষ্টারকে যোগ্য কান্ডারী মনে করে মনোনয়ন দেন। উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে। তবে গোপনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একাধিক নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরোধীতা করছেন।
ইতিমধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ সেলিম মিয়াকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তবুও নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহীরা। তাদের লড়াই আওয়ামীলীগের নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে। নৌকার প্রার্থীকে হারাতে পারলেই যেন তাদের বিজয়, এমনটাই মনে করেন আওয়ামীলীগের একাধিক নেতারা। তারা বিভিন্ন ভাবে সমর্থক এবং সাধারন ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এমটাই অভিযোগ করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি।
নৌকা মনোনীত প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মাষ্টার বলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসাবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলাম। এবারো উপ-নির্বাচনে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এ নির্বাচনেও ভোটারদের ভালোবাসায় বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ। দল এবং জনগন আমার সাথে আছে সব সময়। কিন্তু তাদেরকে ভয় ভীতি, হুমকি-ধামকি দিচ্ছে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীরা। আমাকেও বিভিন্ন পন্থায় হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আমি লড়াই করবো বিরোধী প্রার্থীর বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন লড়াই করতে হচ্ছে নিজ দল আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে আওয়ামীলীগের একাধিক নেতারা। এটা খুবই দুঃখজনক। তবে সাধারন ভোটাররা চান নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন জুয়েল ব্যাপারী বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আওয়ামীলীগের নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, এটা খুবই দুঃখজনক। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মোঃ সেলিম মিয়াকে ইতিমধ্যে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী প্রকাশ্যে নৌকার বিপক্ষে কাজ করছেন এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গতঃ গত ২১ ফেব্রুয়ারী কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম স্বপন হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করলে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়।
২৬ দিন ২০ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৩৭ দিন ১ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৫০ দিন ২২ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৫৯ দিন ৯ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
৬১ দিন ৫ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৬২ দিন ১৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৬৬ দিন ৩ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে