'এডারে কী কয় হ্যা জানিনা। হুনছি ইভিএম কয়। যে যাই য্যাই কউক, এডায় ভোট দেওয়া এ্যাতো সোজা আগে বুঝি নায়। গ্যালাম আর সুইজে চাপ দেলাম ভোট দিয়া চইল্লা আইলাম।'
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শূন্য পদে ভোট দিয়ে বের হয়ে এমন কথাই বলছিলেন সেকান্দার হাওলাদার (৮০)।
বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। ইউনিয়নের এই প্রথমবার ইভিএম এ ভোটগ্রহণ করা হয়। এতে ইউনিয়নের মোট ১৫৫২৯ জন ভোটারের মধ্যে ৮৪৯৯ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। নয়টি ওয়ার্ডের ৯ টি কেন্দ্রে তিনস্তরের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে ছিল ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষত নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি কমলেও ভোট শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে প্রতিটি কেন্দ্রে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটপ্রদান করতে পেরে খুশি ভোটাররা। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে কয়েকটি কেন্দ্রে কিছু ভোটারের আঙ্গুলের ছাপ না মেলায় ভোট না দিয়েই চলে যেতে দেখা গেছে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারায় তাদের চোখে মুখে ছিল আক্ষেপের ছাপ।
সরেজমিনে পূর্ব গাবুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে সেখানেই কথা হয় দক্ষিন গাবুয়া গ্রামের বৃদ্ধ সিকান্দার হাওলাদারের সাথে। তিনি ওই গ্রামের মৃত বাহার আলী হাওলাদার এর ছেলে।
তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে অনেকবার ভোট দিয়েছি। প্রতিবার ব্যালট পেপারে ভোট দিয়েছি, তবে এইবার প্রম মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিলাম। মেশিনে ভোট দেওয়া খুব সহজ। কোন জামেলা ছাড়াই ভোট দেওয়া যায়, খুব ভালো লেগেছে।'
তিনি আরো বলেন, 'আমি বুড়ো মানুষ। কীভাবে এই মেশিনের মাধ্যমে ভোট দিতে হয়, সেটা জানতাম না। কিন্তু এখানে আসার পরে ভোট কেন্দ্রের লোকজন আমাকে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ভোট দিতে হয়। আমিও সেভাবেই দিলাম। ব্যালট পেপারের চেয়ে ইভিএমে ভোট দেয়া অনেক সহজ!'
উল্লেখ্য, কাকড়াবুনিয়া উপ-নির্বাচনে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে নয়টি ভোটকেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে ইউনিয়নের মোট ১৫৫২৯ জন ভোটারের মধ্যে ৮৪৯৯ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সেলিম মিয়া ঘোড়া প্রতীকে ২ হাজার ৬৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ কামাল হোসেন আনারস মার্কায় ২ হাজার ২৬৪ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীকে ১৫১০ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মৃধা হাতপাখা মার্কায় ৮৪০ ভোট পেয়ে ৪র্থ স্থানে রয়েছেন।
নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অন্যান্য প্রার্থীরা হলো স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুজ্জামান নিরু (মোটরসাইকেল), মোঃ বাদশা খান (টেলিফোন) ও মোঃ সোহেল হোসেন (চশমা)।
এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২৬৮৭ ভোট পেয়ে সেলিম মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
প্রসঙ্গতঃ গত ২১ ফেব্রুয়ারী কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম স্বপন হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করলে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়।
২৬ দিন ২০ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৩৭ দিন ১ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৫০ দিন ২২ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৫৯ দিন ৯ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
৬১ দিন ৫ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৬২ দিন ১৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৬৬ দিন ৩ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে